kalerkantho


কেরানীগঞ্জে দুর্ধর্ষ ডাকাতি, আহত আট

কেরানীগঞ্জ (ঢাকা) প্রতিনিধি   

১৬ মার্চ, ২০১৭ ১৭:৩৮



কেরানীগঞ্জে দুর্ধর্ষ ডাকাতি, আহত আট

দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানাধীন শুভাঢ্যা ইউনিয়নের দীঘিরপার (রতনের খামার) এলাকায় গতকাল বুধবার রাতে এক দুর্ধর্ষ ডাকাতি সংঘঠিত হয়েছে। ডাকাতের হামলায় ৮জন আহত হয়েছে। ডাকাতরা এ সময় তাদের কাছ থেকে নগদ টাকা, ৩টি স্বর্নের আংটি ও ১২টি বিভিন্ন কোম্পানীর মোবাইল সেট ছিনিয়ে নিয়ে যায়। অহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়েছে।  

আহত মাসুদ জানান, শুভাঢ্যা ইউনিয়নের দীঘিরপার রতনের খামার এলাকায় মৎস্য ও ডেয়রিফার্ম প্রকল্পের কাজ শুরু করেছি। সেখানে গতকাল বুধবার রাত সারে ৯টায় প্রকল্পের শ্রমিকদের মুজুরি পরিশোধের জন্য মোঃ রিপন (৩৮), হালিম (৩৬), মোঃ স্বপন (২৫), আবু বক্করকে (৪৮) সাথে নিয়ে যাই।  

এ সময় ৪০ থেকে ৫০ জনের শর্টপ্যান্ট ও মুখোশ পরিহিত একটি ডাকাতদল অস্ত্র-স্বস্ত্র নিয়ে প্রকল্প এলাকায় আমাদেরসহ প্রকল্পের পাহাড়াদার বাবুল হোসেন (৫৫), সেলিম (৩৫) ও অজ্ঞাত নামা মাটি কাটার বেকু চালককে (৩০) ঘিরে ফেলে। আমরা কিছু বুঝে উঠার আগেই অস্ত্রের মুখে সবাইকে জিম্মি করে হাত-পা ও চোখ বেধে ফেলে এবং মারধর শুরু করে।  

মারধরের এক পর্যায়ে তারা চোখ বাধা অবস্থায় আমাদের ঝিলমিল আবাসিক প্রকল্পের নির্জন স্থানে নিয়ে যায়। তখন আমাদের সাথে থাকা ১২টি মোবাইল সেট, ৩টি স্বর্নের আংটি ও নগদ ৭০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। এরপর আমার বড় ভাই আবিদ হোসেন রানাসহ জিম্মিকৃত সবার পরিবারের কাছে ফোন করে আরও ৫লাখ টাকা মুক্তিপন দাবি করে ডাকাতদলটি।

অন্যথায় জানে মেরে ফেলার হুমকি দেয়।  

আমার বড় ভাই বিকাশের মাধ্যমে ডাকাতদের ত্রিশ হাজার এবং অন্যান্য আটককৃতদের পরিবারের সদস্যরাও বিকাশের মাধ্যমে টাকা দেন। টাকা পাওয়ার পরে ডাকাতদল রাত ১২টার সময় আমাদের হাত-পা বাধা অবস্থায় ঝিলমিল এলাকায় ফেলে চলে যায়।  

উল্লেখ্য, গত দুই দিন আগে সোমবার রাতে দীঘিরপার এলাকা থেকে জনৈক জন্টু নামের এক ব্যবসায়ীকে অস্ত্রের মুখে জিম্ম করে নগদ টাকা ও মটরসাইকেল ছিনিয়ে নিয়ে যায় ডাকাতদলটি। একই রাতে রতনের খামারে উত্তর পাশে মিরাজের বাড়িতে ঢুকে দেশীয় অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে নগদ টাকা ও স্বর্নালংকার লুট করে নিয়ে যায় ডাকাতরা।  

এ ব্যাপারে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ওসি মোঃ মনিরুল ইসলামের সাথে মোবাইল ফোনে কথা হলে তিনি জানান, রতনের খামার ও দীঘিরপার এলাকাটি অত্যান্ত দুর্গম এলাকা। সেখানে গাড়ি যাওয়ার কোন ব্যবস্থা নেই। নেই কোন হেটে যাওয়ার ভালো রাস্তা। যেতে হয় জমির উপর দিয়ে হেটে।  

এলাকাটিতিতে লোকজনও তেমন বসবাস নাই। তবে বাঘৈর ও আব্দুল্লাপুর যাওয়ার সড়ক রয়েছে। যা দিয়ে প্রতিদিন সেখান দিয়ে লোকজন আসা যাওয়া করে। গতকাল বুধবার রাতে ডাকাতির ঘটনায়এখন পর্যন্ত কোন অভিযোগ আমার থানায় আসেনি। যদি ভুক্তভোগিরা অভিযোগ করে তাহলে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।  


মন্তব্য