kalerkantho


ডয়চে ভেলের প্রতিবেদন

নোবেলজয়ী ইউনূসের বিরুদ্ধে ‘বকেয়া পরিশোধ’ না করায় মামলা

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৫ মার্চ, ২০১৭ ২২:৩৬



নোবেলজয়ী ইউনূসের বিরুদ্ধে ‘বকেয়া পরিশোধ’ না করায় মামলা

‘ক্ষুদ্রঋণের জনক’ মুহাম্মদ ইউনূসের গড়া একটি প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করেছেন৷ মামলাকারীদের আইনজীবী জানিয়েছেন, নোবেলজয়ীর বিরুদ্ধে কয়েক মিলিয়ন মার্কিন ডলার বকেয়া শোধ না করার অভিযোগ আনা হয়েছে৷
বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় মোবাইল সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান গ্রামীণ ফোনের এক তৃতীয়াংশ শেয়ারের মালিক গ্রামীণ টেলিকম৷ এই প্রতিষ্ঠানের কয়েকজন কর্মী দাবি করেছেন, প্রতিষ্ঠানটির লাভের অংশ কর্মীদের সঙ্গে শেয়ার করার আইনি বাধ্যবাধকতা থাকলেও তা করা হয়নি৷ প্রতিষ্ঠানটির দশজন বর্তমান ও সাবেক কর্মী গ্রামীণ টেলিকম এবং মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন৷ মুহাম্মদ ইউনুস গ্রামীণ ব্যাংকের মাধ্যমে দারিদ্র বিমোচনে অবদান রাখায় ২০০৬ সালে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার জয় করেছিলেন৷
বাদীপক্ষের আইনজীবী জাফরুল হাসান শরীফ জানিয়েছেন, গ্রামীণ টেলিকম গত দশকে ২৬০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মুনাফা করলেও কর্মীদের তার কোনো শেয়ার দেয়নি৷ ‘‘শ্রম আইন অনুযায়ী, গ্রামীণ ফোনের অবশ্যই নেট মুনাফার পাঁচ শতাংশ প্রতিষ্ঠানটির কর্মী এবং সরকারকে দিতে হবে’’, বলেন তিনি৷
আইনজীবী আরো বলেন, ‘‘২০০৬ থেকে ২০১৫ সাল সময়কালে এটার বকেয়া হচ্ছে ১৩ দশমিক চার মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যার আশি শতাংশ সমানভাবে প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান এবং সাবেক কর্মীদের দিতে হবে৷’’
গ্রামীণ টেলিকমের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আশরাফুল হাসান জানিয়েছেন, তাঁর প্রতিষ্ঠান মামলা লড়বে৷ আশরাফুল হাসান নিজেও এ মামলার আসামী৷ গ্রামীণ টেলিকম যা মুনাফা করেছিল তা পুনরায় প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ করা হয়েছে জানিয়ে তিনি দাবি করেন মামলাকারীদের অভিযোগ ভিত্তিহীন৷
তবে এ বিষয়ে বাংলাদেশের একমাত্র নোবেল বিজয়ী মুহাম্মদ ইউনূসের মন্তব্য তাৎক্ষনিকভাবে পাওয়া যায়নি৷ প্রত্যন্ত অঞ্চলের নারী উদ্যোক্তাদের ক্ষুদ্রঋণ দিতে ১৯৮৩ সালে গ্রামীণ ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করেন তিনি৷ তবে ২০১১ সালে ব্যাংকটির পরিচালকমণ্ডলী থেকে ইউনূসকে সরিয়ে দেয়া হয়৷ অনেকের ধারনা, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চাওয়ায় ইউনূসকে গ্রামীণ ব্যাংক থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছিল৷ ২০০৭ সালে রাজনীতিতে যোগ দেয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন ইউনূস, যা নিয়ে হাসিনার সঙ্গে তাঁর বিরোধ সৃষ্টি হয়৷ ইউনূস অবশ্য পরবর্তীতে রাজনীতি থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে নেন৷
গ্রামীণ ব্যাংক থেকে তাঁকে অপসারণের বিরুদ্ধে অবশ্য সর্বোচ্চ আদালতেও গিয়েছিলেন ইউনূস, কিন্তু আদালত তাঁর পক্ষে রায় দেননি৷ ২০১৩ সালে ইউনূস রাষ্ট্রের সমর্থনপুষ্ট ‘হেট ক্যাম্পেইনেরও’ শিকার হন৷ তাঁকে তখন অনৈসলামিক এবং সমকামিতার বিস্তারক হিসেবে আখ্যা দেয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল৷


মন্তব্য