kalerkantho


চলন্ত বাসে ছিনতাই

গভীর রাতে 'টাকাওয়ালা যাত্রী' খুঁজছিল ওরা

এস এম আজাদ    

১৫ মার্চ, ২০১৭ ২১:৫৭



গভীর রাতে 'টাকাওয়ালা যাত্রী' খুঁজছিল ওরা

ছিনতাইকারী ও তুরাগ পরিবহনের চালক সিদ্দিক। ছবি : কালের কণ্ঠ

রাজধানীর সায়েদাবাদের জনপথ মোড়ে চলন্ত বাসে ছিনতাইয়ের ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। চাঞ্চল্যকর এ ঘটনাটি ঘটায় তুরাগ পরিবহনের দু’টি বাসের চালাক এবং একজন কন্ডাক্টর। এরই মধ্যে পুলিশ কামাল ঢ়াড়ি (২৫) ও সিদ্দিক শিকদার (২৬) নামে দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে। ছিনতাইকাজে ব্যবহূত ছুরিও উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার বাসচালাক সিদ্দিক ঢাকার মহানগর হাকিম আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছে। জবানবন্দীতে সে দাবি করে, যে বাসে ঘটনা সে বাসের চালাকসহ দুই বাসচালক ও একজন কন্ডাক্টর মিলে ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা করে। এজন্য তারা গভীর রাতে তুরাগ পরিবহনের একটি বাস নিয়ে রাজধানীতে ঘুরে বেড়ায়। তারা ‘টাকাওয়ালা যাত্রী’ খুঁজছিল বলে জানায়। পরে দু’জন মাছ ব্যবসায়ীকে পেয়ে তাদের ওপর হামলা করে টাকা লুট করে।  
ঢাকা মহানগর পুলিশের ডেমরা জোনের সহকারী কমিশনার ইফতেখারুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, 'এই ঘটনায় আমরা দু’জন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছি। তারা হলো- বাসটির চালাক সিদ্দিক শিকদার এবং কন্ডাক্টর কামাল ঢ়াড়ি।

সিদ্দিক আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছে। তাদের সঙ্গে ইউনুস নামে তুরাগ পরিবহনের আরেক চালাক ছিল। ওই আসামিকেও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। ' জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'এই চক্রটি হঠাৎ করেই টাকা হাতিয়ে নেওয়ার জন্য বাস নিয়ে ছিনতাই করতে নামে। তারা পকেটে বেশি টাকা আছে এমন দু-একজন যাত্রী খুঁজছিল। '
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ১০ ফেব্রুয়ারি ভোরে সায়েদাবাদের জনপথ মোড়ে একটি বাস থেকে আলম মিয়া (৪৮) ও শফিকুল ইসলাম (৩২) নামে দুই মাছ ব্যবসায়ীকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে পুলিশ। তারা দু’জনই কাপ্তানবাজারের মাছ ব্যবসায়ী। কাপ্তানবাজার থেকে যাত্রাবাড়ীতে নেওয়ার কথা বলে ফাঁকা বাসে তাদের তোলা হয়। পরে বাসের ভেতরে থাকা কয়েকজন তাদের ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করে এবং ৪৫ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। এ ঘটনায় গুরুতর আহত দুজন মাছ ব্যবসায়ী দীর্ঘদিন চিকিৎসার পর এখন অনেকটাই সুস্থ। ওই সময় যাত্রাবাড়ী থানায় মামলা করেন ভুক্তভুগী শফিকুল ইসলাম। পুলিশ ঘটনার তদন্তে নেমে বাসটির চালকসহ কর্মীদের শনাক্ত করে। গত ২৭ ফেব্রয়ারি নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে বাসের কন্ডাক্টর কামালকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। আদালতের নির্দেশে তাকে এক দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন তদন্তকারীরা। এরপর গত রবিবার ময়মসনসিংহের দয়াগঞ্জ থেকে সিদ্দিক শিকদারকে গ্রেপ্তার করে ঢাকায় নিয়ে আসে যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশ।  
সূত্র জানায়, আসামি সিদ্দিক তুরাগ পরিবহনে কয়েক বছর ধরেই চালকের কাজ করছিল। তার বাড়ি বরিশালের হিজলা থানার হরিনাথপুর। তার বাবার নাম হাফেজ বাকি-বিল্লাহ। গত সোমবার ঢাকার মহানগর হাকিম মাজহারুল ইসলামের আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী দেয় সিদ্দিক। সে জানায়, গত ৯ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাতে সে তার বাস নিয়ে ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে বের হয়। এসময় তার সঙ্গে ছিল আরেকটি বাসের চালাক ইউনুস ও ওই বাসের কন্ডাক্টর কামাল। বাসটির হেলপার রুবেলের কম বয়স হওয়ায় এই অপকর্মে তাদের সঙ্গে নেওয়া হয়নি। মধ্যরাতে 'টাকাওয়ালা যাত্রী' খুঁজতে খুঁজতে তারা যাত্রাবাড়ী থেকে টঙ্গিতে যায়। এসময় তারা দুই-তিনজন যাত্রী পায়। তবে বেশ-ভুষন দেখে ওই যাত্রীদের টাকাওয়ালা মনে না হওয়ায় হামলা চালায়নি। পরে আবার বাস নিয়ে ঘুরে আসে। এক পর্যায় মাছ ব্যবসায়ীদের পেতে তারা কাপ্তানবাজারে বাস নিয়ে দাঁড়ায়। কারণ- তারা জানতো যে মাছ ব্যবসায়ীদের সঙ্গে টাকা থাকে। দুই মাছ ব্যবসায়ী বাসে ওঠার পরই বাসটি চালু করে চালাক সিদ্দিক। এরপর তিনজন মিলে দুই মাছ বিক্রেতার ওপর হামলা চালায়। টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় বাসে লুকিয়ে রাখা ছুরি দিয়ে তাদের জখম করা হয়। এক পর্যায় বাসটির গতি কমিয়ে দুই যাত্রীতে ফেলে দিতে চায় তারা। এসময় যাত্রীরা চিত্কার করে ওঠে। তখন টহল পুলিশের গাড়ি দেখে বাসটি দ্রুত চালাতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে চালাক সিদ্দিক। সড়কদ্বীপে বাসটি ধাক্কা খেলে তারা তিনজন বাস থেকে নেমে দৌড়ে পালায়।  
মামলাটির তদন্ত কর্মকতার, যাত্রাবাড়ী থানার এসআই শহীদুল্লাহ মামুন বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে সিদ্দিক একবার ফাঁকা বাসে রামপুর এলাকায় এক যাত্রীর কাছ থেকে টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার কথা স্বীকার করেছে। তবে সংগঠিত হয়ে এমন ছিনতাই আর করেনি বলে দাবি করে আসামিরা। তদন্ত পাওয়া তথ্য যাচাই করে দেখা হচ্ছে।


মন্তব্য