kalerkantho


২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১১ মার্চ, ২০১৭ ২২:৩৬



২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস

একাত্তরের ২৫ মার্চের কালরাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বর্বর হত্যাযজ্ঞে নিহতদের স্মরণে ‘গণহত্যা দিবস’ পালনের প্রস্তাব জাতীয় সংসদে প্রস্তাব সংসদে সর্বসম্মতভাবে পাস হয়েছে।  
প্রায় সাত ঘণ্টা আলোচনার পর সংসদে সর্বসম্মতভাবে প্রস্তাবটি গ্রহণ করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিরোধী দলীয় নেতা রওশন এরশাদসহ ৫৬ জন সংসদ সদস্য এই আলোচনায় অংশ নেন।
জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) শিরীন আখতারের সংসদ কার্যপ্রণালী বিধির ১৪৭ বিধিতে আনা প্রস্তাবের ওপর সাধারণ আলোচনা শেষে তা সর্বসম্মতভাবে গ্রহণ করা হয়। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী এ প্রস্তাবটি অনুমোদনের জন্য প্রস্তাব করলে সংসদ তা গ্রহণ করে।  
শিরীন আখতারের প্রস্তাবটি হচ্ছে, ‘সংসদের অভিমত এ যে, ‘১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালো রাতে বর্বর পাকিস্তানি সেনাবাহিনী কর্তৃক সংঘটিত গণহত্যাকে স্মরণ করে ২৫ মার্চকে গণহত্যা দিবস ঘোষণা করা হোক এবং আন্তর্জাতিকভাবে এ দিবসের স্বীকৃতি আদায়ে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করা হোক। ’
আলোচনায় সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিরোধী দলীয় নেতা অংশ নেন।  
এছাড়া আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন, শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রম, নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান, খাদ্যমন্ত্রী এডভোকেট কামরুল ইসলাম,মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ.ক.ম মোজাম্মেল হক, চিফ হুইপ আ.স.ম ফিরোজ পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নূরেজ্জামান আহমেদ, সরকারি দলের সিনিয়র সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, শওকত আলী, অধ্যাপক আলী আশরাফ, ড. মহিউদ্দিন খান আলমগীর, আবদুল মতিন খসরু, আবদুর রহমান, মোহাম্মদ ফারুক খান, মনিরুল ইসলাম, আবদুল মান্নান, ডা. দীপু মনি, এবি তাজুল ইসলাম, নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ন, কামাল আহমেদ মজুমদার, নুরুল ইসলাম সুজন, ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু, পঞ্চানন বিশ্বাস, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, মো. মনিরুল ইসলাম, মেজর জেনারেল (অব.) এ, কে, এম এ ওহাব, বেগম সাগুফতা ইয়াসমিন, ফজিলাতুন-নেসা বাপ্পি, নূরজাহান বেগম, আমাতুল কিবরিয়া কেয়া চৌধুরী, কাজী রোজি, বিরোধী দলীয় নেতা বেগম রওশন এরশাদ, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ, জাতীয় পার্টির কাজী ফিরোজ রশীদ, জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু, ফখরুল ইমাম, নূরুল ইসলাম ওমর, ওয়ার্কার্স পার্টির ফজলে হোসেন বাদশা, বেগম হাজেরা খাতুন, জাসদের মইনউদ্দিন খান বাদল, বিএনএফ-এর এস এম আবুল কালাম আজাদ, স্বতন্ত্র সদস্য আব্দুল মতিন ও তাহজীব আলম সিদ্দিকী।  
আলোচনায় অংশ নিয়ে মুক্তিযুদ্ধকালের বিভিন্ন পত্রিকা ও নিবন্ধের উদ্ধৃতি দিয়ে শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু বলেন, ’৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লাখ মানুষকে হত্যা করেছে। এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক বিশ্ব স্বীকৃতি দেয়ার পরও খালেদা জিয়া মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সংখ্যা নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করে।  
তিনি বলেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় না আসলে হয়তো বেগম খালেদা জিয়া গোলাম আযম, নিজামী, আব্দুল আলীমসহ যুদ্ধাপরাধীদের দিয়ে সরকার গঠন করে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীদের হত্যার দায়ে মুক্তিযোদ্ধাদের বিচার করতো।  
ডেপুটি স্পিকার মো. ফজলে রাব্বী মিয়া বলেন, ২৫ মার্চকে গণহত্যা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দিলে অবশ্যই এটির আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায়ে সক্ষম হবে। একাত্তরের ২৫ মার্চসহ মুক্তিযুদ্ধের পুরো ৯ মাস এদেশে গণহত্যা হয়েছে এ ব্যাপারে কোন প্রশ্ন তোলার অবকাশ নেই।  
বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ ১ ডিসেম্বরকে মুক্তিযোদ্ধা দিবস হিসেবে পালনেরও প্রস্তাব করে বেগম শিরীন আখতারের উত্থাপিত প্রস্তাবের প্রতি সমর্থন জানান।  
প্রস্তাবটিকে একটু সংশোধিত আকারে গ্রহণ করা যেতে পারে উল্লেখ করে তিনি তার প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন ‘যেহেতু ’৭১ এর মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানী সামরিক জান্তা এবং তাদের এদেশীয় সহযোগীরা বাংলাদেশের ৩০ লাখ নিরীহ মানুষকে হত্যা করেছে। যা আমাদের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন-৭৩ এর সংজ্ঞা অনুযায়ী গণহত্যা। ’ 
তিনি বলেন, যেহেতু পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী ২৫ মার্চ রাত থেকে ‘অপারেশন সার্চ লাইট’ নামে এ নজিরবিহীন গণহত্যার সূচনা করেছে, যা অব্যাহত ছিল পরবর্তী ৯ মাস। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও বিভিন্ন গ্রন্থে ’৭১-এ পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর হত্যা যজ্ঞকে গণহত্যা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী রাজধানী ঢাকায় ১০ হাজার থেকে ১ লাখ লোককে হত্যা করেছে। গণহত্যার শিকার বিভিন্ন দেশ গণহত্যায় নিহতদের স্মরণ ও শ্রদ্ধা জানানোর পাশাপাশি গণহত্যার বিরুদ্ধে গণসচেতনতা সৃষ্টির জন্য জাতীয় পর্যায়ে গণহত্যা দিবস পালন করে। আমরা ২৫ মার্চ জাতীয় গণহত্যা দিবস হিসেবে পালনের প্রস্তাব করছি। ’
তোফায়েল আহমেদ বলেন, যেহেতু বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের সংঘটিত গণহত্যায় নিহতদের স্মারণ ও শ্রদ্ধা জানানোর জন্য জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ২০১৫ সালের ১১ সেপ্টেম্বর গৃহীত প্রস্তাব অনুযায়ী ৯ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক গণহত্যা দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। বাংলাদেশসহ জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সদস্য ১৯৩টি এই প্রস্তাব সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদন করেছে। ২৫ মার্চকে জাতীয় গণহত্যা দিবস হিসেবে পালনের প্রস্তাব করেন।  
দেশী-বিদেশী বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রকাশিত সংবাদ এবং মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে বিভিন্ন গবেষণা, নিবন্ধ ও গ্রন্থের উদ্ধৃতি দিয়ে তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘একজন নেত্রী মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সংখ্যা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের সংখ্যা নিয়ে কোন সন্দেহের অবকাশ নেই। ’ তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সংখ্যা নিয়ে যারা প্রশ্ন উত্থাপন করেছে তাদের ধিক্কার জানান।
শেখ ফজলুল করিম সেলিম বলেন, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালোরাতে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী ঢাকায় বর্বর গণহত্যা চালায়। এর পর মুক্তিযুদ্ধের পুরো ৯ মাস সারা দেশে এ বর্বর বাহিনী গণহত্যা চালায়। আজ বেগম খালেদা জিয়া ’৭১ এর ৩০ লাখ শহীদের সংখ্যা নিয়ে বির্তক তুলে মুক্তিযুদ্ধের মহান শহীদদের অসম্মান করেছেন।  
তিনি বলেন, বেগম জিয়া এ কথা বলে পাকিস্তানীদের পক্ষ অবলম্বন করেছেন। তিনি ’৭১ সালের সিমলা চুক্তি অনুযায়ী ১৯৫ জন পাকিস্তানী সেনা ও সেনা অফিসারের যুদ্ধাপরাধী হিসেবে বিচার করার কথা ছিল, তাদের মধ্যে অন্যতম জেনারেল জানজুয়া। সে জানজুয়ার মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে বেগম খালেদা জিয়া কূটনৈতিক নিয়ম নীতি অনুসরণ না করে শোক প্রস্তাব পাঠিয়েছিলেন। এ জন্য তিনি ধিক্কার জানান।  
শেখ ফজলুল করিম সেলিম বলেন, সিমলা চুক্তি অনুযায়ী ১৯৫ জন পাকিস্তানী যুদ্ধাপরাধীর বিচার করা হয়নি। তিনি আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ আদালতে তাদের বিচার করার উদ্যোগ নেয়ার আহবান জানান। এ প্রসঙ্গে তিনি দীর্ঘ ৪২ বছর পর আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ আদালতে দেশীয় যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করে জাতিকে কলংকমুক্ত করেন।
কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী বলেন, মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সংখ্যা নিয়ে বেগম খালেদা জিয়া প্রশ্ন তোলেন, বিভিন্ন সময়ে ঠাট্টা-তামাশা করেন। তিনি করতেই পারেন, কারণ মুক্তিযুদ্ধের ৯ মাস পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে ছিলেন। এজন্যই তিনি সমস্ত প্রটোকল ভেঙে পাকিস্তানের একজন জেনারেলের মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন।  
তিনি বলেন, ড. কামাল হোসেনের জামাতা ডেবিট বার্গম্যান আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল সম্পর্কে বিভিন্ন সময়ে বিভ্রান্তিকর সংবাদ পরিবেশন করে বিচারকে প্রশ্নবিদ্ধ করে বাধা দেয়ার চেষ্টা করেছেন।  
মতিয়া চৌধুরী বলেন, যে যতই বাধা দেয়ার চেষ্টা করুক যুদ্ধাপরাধীদের বিচার এদেশে হবেই। এই বিচার কার্যক্রম কেউ বন্ধ করতে পারবে না।  
তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু ২৫ মার্চ কালো রাতে ঢাকায় সংঘটিত পাকিস্তানী বাহিনীর গণহত্যার চিত্র তুলে ধরে বলেন, ‘আমি এর প্রত্যক্ষদর্শী ও সাক্ষী । সে রাত যা ঘটেছে তা অবশ্যই গণহত্যা। শুধু ২৫ মার্চ নয় মুক্তিযুদ্ধের ৯ মাসের প্রতিদিন পাকিস্তানী বাহিনী সারাদেশে গণহত্যা চালিয়েছে।
তিনি বলেন, আর যেন বিশ্বে গণহত্যা না হয়, এ জন্য গণহত্যা দিবস পালন করতে হবে। সাথে সাথে আজ যারা পাকিস্তানীদের নানাভাবে সমর্থন করছে এবং যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষার চেষ্টা করছে তাদের যদি আর ক্ষমতায় দেখতে না চাই তাহলে গণহত্যা দিবস পালন করতে হবে।  
তিনি বলেন, বিএনপি- জামায়াত চক্র ক্রমাগতভাবে যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষার চেষ্টা করে যাচ্ছে। আর যেন এ দেশে কোনো ভাবে রাজাকার- যুদ্ধাপরাধীদের সমর্থক সরকার আসতে না পারে সে জন্যও গণহত্যা দিবস পালন করতে হবে এবং এ দিবসের বিষয়ে আন্তর্জাতিক সমর্থন আদায়ের উদ্যোগ নিতে হবে।  
মোহাম্মদ নাসিম বলেন, বেগম খালেদা জিয়া মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লাখ শহীদের সংখ্যা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। ’৭১ এর স্বাধীনতা বিরোধী ও ’৭৫ এর খুনিদের বেগম খালেদা জিয়া পুরস্কৃত করেছে। এই সংসদে আসার সুযোগ করে দিয়েছে। স্বাধীনতা বিরোধী খুনিদের সংসদে আসার সুযোগ করে দিয়ে সংসদকে কলঙ্কিত করেছে।  
তিনি বলেন, আর কোনদিনই যাতে বেগম খালেদা জিয়া এই সংসদের বারান্দায়ও আসতে না পারে, এজন্য তাকে প্রতিহত করতে হবে। না হয় সে আবারো এই প্রস্তাব নিয়ে ষড়যন্ত্র করে এটিকে ছিন্নভিন্ন করে দিবে।  
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন বলেন, পাকিস্তান সেনা বাহিনীর উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তাসহ ১৯৫জন সেনাবাহিনী সদস্য এদেশে গণহত্যা ও নারী নির্যাতন চালিয়েছে।  
স্বীকৃতি আদায়ে আর্মেনিয়ার উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, ২৫ মার্চকে গণহত্যা দিবস হিসেবে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি আদায়ের জন্য বিশ্বব্যাপী জনমত গঠন করতে হবে।  
খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম বলেন, স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াতের ঔরস থেকে বিএনপি নামক দলের জন্ম। জিয়াউর রহমান গোলাম আযমকে নাগরিকত্ব ফিরিয়ে দিয়ে এদেশে রাজনীতি করার অধিকার দিয়েছেন। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শুরু হলে এই বিচারের বিরোধীতা করে বেগম খালেদা জিয়া।  
তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে বিক…তভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানাতে এই প্রস্তাবটি সহযোগিতা করবে।  
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বাঙালি জাতিকে মুক্তিযুদ্ধের জন্য প্রস্তুত করেছিলেন। একজন বাঁশি ফুঁ দিলেন আর মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়ে গেল এমন নয়। ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তান হানাদার বাহিনী এদেশে গণহত্যা চালিয়েছে। পরবর্তী সময়েও তারা নৃশংস বর্বরোচিত হত্যাকান্ড চালিয়েছে। অথচ বেগম খালেদা জিয়া মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের সংখ্যা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। এটা ঠিক নয়, ওই সময় তার অবস্থান কোথায় ছিল এটা মানুষ জানে। ৩০ লাখ শহীদের সংখ্যাই সঠিক। এটা নিয়ে প্রশ্ন তোলার কোন সুযোগ নেই।  
তারানা হালিম বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মিডিয়া, ওয়েব সাইট এবং দলিলের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, ৭১’ সালে পাকিস্তানী বাহিনী বর্বর হত্যাযজ্ঞে ৩০ লাখ বাঙালি শহীদ হয়। এটা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। এ জন্য তাদের এ বক্তব্য নিয়ে খোদ পাকিস্তান থেকে প্রশ্ন উঠেছে। আর এ কারণে ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস পালন করে প্রমাণ করব যে, আমরা ৭১ এর নৃশংসতাকে ভুলিনি, ভুলিনি এদেশীয় স্বাধীনতা বিরোধী আলবদর আল-শামস ও যুদ্ধাপরাধীদের ।  
সরকারি দলের সদস্য ডা. দীপু মনি বলেন, বিংশ শতাব্দিতে সংঘটিত বিশ্বের ৫টি গণহত্যার মধ্যে ’৭১ সালে বাংলাদেশে সংঘটিত গণহত্যা অন্যতম।  
২৫ মার্চকে গণহত্যা দিবস হিসেবে পালনের প্রস্তাবকে সমর্থন করে তরিকত ফেডারেশনের নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী ১ ডিসেম্বর মুক্তিযোদ্ধা দিবস ঘোষণা এবং যেসব মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয় না সেইসব প্রতিষ্ঠান বন্ধের দাবি জানান।  
একজন পাকিস্তানী গণহত্যাকারীর মৃত্যুতে শোক জানিয়ে বেগম খালেদা জিয়ার শিষ্টাচার বহির্ভূত কাজ করেছেন উল্লেখ করে ওয়ার্কার্স পার্টির ফজলে হোসেন বাদশা বলেন, এটি একটি রাষ্ট্রদ্রোহ অপরাধ। অবশ্যই এটিকে আইনের আওতায় আনা উচিত।  
জাতীয় পার্টির কাজী ফিরোজ রশীদ বলেন, কোন মেজরের বাঁশির হুইসেলে স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু হয়নি। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে দীর্ঘ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিশেষ করে ৬ দফা আন্দোলন, আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা, ৬৯’এর গণঅভ্যূত্থান, ’৭০ এর নির্বাচন , ঐতিহাসিক ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর ভাষণ এবং ২৬ মার্চ বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতা ঘোষণার মধ্য দিয়ে বাঙালি জাতির মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়। যারা আজ একজন মেজরের নাম, এর সাথে যুক্ত করছেন তাদের প্রতি তিনি ধিক্কার জানান।  


মন্তব্য