kalerkantho


সংসদে বিরোধী দলীয় নেতা

দলগুলোর পারস্পরিক বিশ্বাসের অভাবে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি উঠেছে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৯ মার্চ, ২০১৭ ২১:২১



দলগুলোর পারস্পরিক বিশ্বাসের অভাবে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি উঠেছে

রাজনৈতিক দলগুলোর পারস্পরিক বিশ্বাসের অভাবে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি উঠেছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা বেগম রওশন এরশাদ। তিনি বলেন, আমরা যদি একে অপরকে বিশ্বাস না করি তাহলে জনগণ আমাদের বিশ্বাস করে কীভাবে ভোট দেবে। এই কারণে অনেকেই রাজনৈতিক সরকারের পরিবর্তে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন চায়।

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাব নিয়ে আলোচনাকালে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি আরো বলেন, প্রত্যেক দেশে নির্বাচন হয় পলিটিক্যাল গভর্মেন্টের মাধ্যমে, আমাদের দেশে নির্বাচন চায় কেয়ারটেকার গভর্মেন্টের মাধ্যমে। কারণ আমরা একজন আরেক জনকে বিশ্বাস করি না। আমরা যদি একজন আরেক জনকে বিশ্বাস না করি জনগণ আমাদের বিশ্বাস করে ভোট দেবে কি করে? তিনি বলেন, আগে দেখা গেছে, যে দল যখন ক্ষমতায় আসে, তখন বিরোধী দল একটা না একটা কিছু সমস্যা সৃষ্টি করে এবং সরকারি দল তার পেছনে থাকে। এতে উন্নয়ন কাজে ব্যাঘাত ঘটায়। আর সরকারী দল বিরোধী দলকে দমাতে ব্যস্ত থাকে এজন্য উন্নয়ন কাজে ব্যাঘাত ঘটে।
বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, জনগণের জন্য যতই গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হোক না কেনো, কোন সময় আমরা একমত পোষণ করি না। এটা আমাদের একটি পলিটিক্যালি বিশেষত্ব।

এটা আমাদের ছাড়তে হবে। একে অপরের সঙ্গে বসে মিলেমিশে কথা বলতে হবে। জনগণের জন্য দেশের জন্য যেটা ভাল সেটাই করতে হবে। যদি যে কোন বিষয়ে একমত পোষণ করি তাহলে উন্নয়ন কাজে কোন ব্যঘাত ঘটবে না।
জাতীয় পার্টিকে গৃহপালিত বিরোধী দল বলার জবাবে রওশন বলেন, এখন অনেক আজে বাজে কথা বলা হচ্ছে। আমরা নাকি গৃহপালিত বিরোধী দল। তোমরা কি করেছো? তোমরা তো সংসদে যাও নাই, জনগণের কথা বল নাই। আমরা দেশের মানুষের জন্য কাজ করছি, সরকারের উন্নয়ন কাজে সহযোগিতা করছি সেজন্য তারা ভালোভাবে দেখছে না। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী সারাক্ষণ দেশ নিয়ে ভাবছেন। আমরা মিলে মিশে থাকলে দেশতো এগিয়ে যাবেই। তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশে প্রচুর খাদ্য উৎপাদিত হচ্ছে। মানুষ না খেয়ে নেই। কিন্তু শরীরের জন্য নিরাপদ, স্বাস্থ্যের জন্য নিরাপদ খাদ্যে এখানে নেই। এটাই আমাদের বড় সমস্যা।
রওশন এরশাদ বলেন, ৮টি বিভাগীয় শহরে হাইকোর্টের ৮টি বেঞ্চ করে দেন। তাহলে মামলার জন্য মানুষকে সময় অপচয় ও টাকা খরচ করে ঢাকায় আসতে হবে না। আশা করি প্রধানমন্ত্রী এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেবেন। আমি প্রধান বিচারপতির সঙ্গে কথা বলেছি। প্রধান বিচারপতি বলেছেন প্রধানমন্ত্রী বললে তিনি এটা করে দিতে পারবেন। তাই প্রধানমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ করবো আপনি এটা করে দেন।

সাংবাদিকদের নবম ওয়েজ বোর্ড গঠনে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করে বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, সরকারি কর্মকর্তাদের বেতন ভাতা বাড়লেও সাংবাদিকদের বেতন ভাতা বাড়েনি। আপনি অনেক বেশী জনদরদী মা, আপনার কাছে অনুরোধ করবো সাংবাদিকদের নবম ওয়েজ বোর্ড গঠনে কার্যকর উদ্যোগ নিবেন।


মন্তব্য