kalerkantho


জিএসপি ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র এখনও আগের অবস্থানে : বার্নিকাট

নিজস্ব প্রতিবেদক, সাভার (ঢাকা)   

৯ মার্চ, ২০১৭ ১৯:২৮



জিএসপি ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র এখনও আগের অবস্থানে : বার্নিকাট

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের শুল্কমুক্ত প্রবেশের (জিএসপি) বিষয়ে দেশটি এখনও আগের অবস্থানেই রয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শা স্টিফেনস ব্লুম বার্নিকাট। আজ বৃহস্পতিবার আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলের ইউনিক বাসস্ট্যান্ডে আওয়াজ ফাউন্ডেশনের কার্যালয়ে শ্রমিক সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান।

রাষ্ট্রদূত বলেন, জিএসপি'র জন্য যে শর্তগুলো পূর্বে বেধে দেওয়া হয়েছিল সেগুলো বাংলাদেশকে পূরণ করতে হবে। এ জন্য সরকারকে আরও দৃঢ়ভাবে এগিয়ে আসতে হবে। তবে মূল কাজটা করতে হবে শিল্প মালিকদেরই। তিনি (বার্নিকাট) নিজেও চান বাংলাদেশ জিএসপি সুবিধাভুক্ত দেশের তালিকায় আসুক। তবে সে সুবিধা পেতে তিনি আরও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান।

তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির ব্যাপারে বার্নিকাট বলেন, এটি একান্তই মালিক ও শ্রমিকের বিষয়। বাংলাদেশকে পোশাক খাতের অস্থিরতা দূর করতে তিনি মালিক ও  শ্রমিকদের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়নের কথা তুলে ধরে বলেন, ঘরের স্ত্রীর সঙ্গে যদি ভালো সম্পর্ক তৈরি করা যায় তাহলে কোন পক্ষে আর দ্বন্দ্ব থাকে না। তৃতীয় পক্ষও অনুপ্রবেশ করতে পারে না। কোন অস্থিরতারও সৃষ্টি হয় না।

 

শ্রমিক সংগঠনের প্রয়োজনীয়তা ও মালিক-শ্রমিক সম্পর্ক উন্নয়নের ওপর জোর দিয়ে মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, অনেক ক্ষেত্রেই শ্রমিকরা তাদের অধিকার আদায়ে যথাযথ ব্যক্তির কাছে যেতে পারে না। এ ক্ষেত্রে শ্রমিক সংগঠনের অনেক ভূমিকা রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, রানা প্লাজা ধসের পর বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত বিপর্যয়ের মুখে পড়বে বলে মনে করা হয়েছিল। কিন্তু সেই পোশাক খাত বিপর্যয়ে না পড়ে হয়েছে উল্টোটা। তৈরি পোশাক শিল্পের টেকসই উন্নয়ন, শ্রমিক মজুরি ও শ্রমিকদের শিশু সন্তানদের কল্যাণসহ নানা বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র সবসময়ই সচেতন রয়েছে।  

মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সাথে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সম্মিলিত গার্মেন্ট শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি ও ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্লোবাল ইউনিয়নের সদস্য নাজমা রহমান, বিজিএমইএর উর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ আরোও অনেকে।

সংবাদ সম্মেলনের আগে মার্কিন রাষ্ট্রদূত বার্নিকাট শিল্পাঞ্চলের জিরাবো এলাকায় শ্রমিকদের নিয়ে কাজ করা বাংলাদেশ সেন্টার ফর লেবার সলিডারিটির কার্যালয় পরিদর্শন করেন। তবে পোশাক শ্রমিক সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে তাঁর বৈঠক চলাকালে গণমাধ্যমের কোনো কর্মীকে উপস্থিত থাকতে দেওয়া হয়নি। কার্যালয়টির চারদিকে সাদা পোশাকে নিরাপত্তা কর্মী মোতায়েন ছিলো।


মন্তব্য