kalerkantho


বঙ্গবন্ধু আর মুক্তি সংগ্রামের নায়ক শেখ হাসিনা : নাসিম

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৮ মার্চ, ২০১৭ ২২:০০



বঙ্গবন্ধু আর মুক্তি সংগ্রামের নায়ক শেখ হাসিনা : নাসিম

স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন, স্বাধীনতার মহানায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আর বাংলার মুক্তি সংগ্রামের নায়ক হলেন শেখ হাসিনা। আজ বুধবার সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর যোগ্য নেতৃত্বে এদেশের শিশু ও মাতৃমৃত্যু হার কমিয়েছেন এবং অনেকগুলোর রোগকে পরাজিত করেছেন। জাতির জনকের কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাঙালি জাতির মুক্তির নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

তিনি বলেন, বাঙালি জাতির বিরুদ্ধে একটি অপপ্রচার ছিল, বাঙালি ভীরু কাপুরুষের জাতি। হাজার বছরের এই বদনামকে ঘুচিয়ে আত্মমর্যাদা দিয়ে মাতা উঁচু করে দাঁড়াবার অনুপ্রেরণা দিয়েছিলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ’৭১ সালে তিনি জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলকে ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন। তিনি প্রমাণ করেছিলেন বাঙালি লড়াই করতে জানে এবং লড়াই করে শত্রুকে পরাজিত করতে জানে।

নাসিম বলেন, মা-বাবা, ভাই-বোনসহ নিকট পরিজনকে হারিয়ে সমস্ত ব্যথা বেদনাকে ধারণ করে শেখ হাসিনা ১৯৮১ সালে বাংলাদেশে এসেছিলেন জাতিকে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য। মৃত্যুকে জয় করে তিনি সেদিন দেশে এসেছিলেন। ৮১ সাল থেকে সমস্ত বুলেট তাঁর দিকে তাক করা ছিল।

বুলেট এখনও তাঁকে তাড়া করে যাচ্ছে। মৃত্যুর ভয় উপেক্ষা করে তিনি ১৯ বার মৃত্যুকে জয় করে বাংলাদেশের নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, পৃথিবীর এমন কোন সংবিধান রয়েছে, যাতে হত্যার বিচার হবে না। সংবিধান হচ্ছে মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠার সংবিধান। সংবিধানে লেখা রয়েছে আইনের চোখে সবাই সমান। কিন্তু ২১ বছর শেখ হাসিনা সে অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। বাংলার জনগণ বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় ৪ নেতার হত্যা বিচারের অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ করে এ হত্যার বিচার রহিত করা হয়েছিল। শেখ হাসিনা আইনের পথে ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ বাতিল করে বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় ৪ নেতার হত্যার বিচারের পথ খুলে দেন। প্রচলিত আইনে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার সম্পন্ন হয়েছে। এ হত্যাকান্ডের বিচারের মধ্য দিয়ে দেশের লাখ লাখ মানুষের চোখের পানি বন্ধ হয়েছে।

মোহাম্মদ নাসিম বলেন, বঙ্গবন্ধুর খুনীদের দণ্ড কার্যকর হওয়ায় বেগম খালেদা জিয়া একটি কথাও বলেননি। উপরন্তু তিনি রায়ের দিন খুনীদের পক্ষে হরতাল ডেকেছিলেন। হত্যাকারীদের বিচার তো দূরের কথা, বঙ্গবন্ধু হত্যার পর তৎকালীন সরকার খুনীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়েছে। সংসদে তাদের পাশে বসিয়েছে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা লড়াই করে রক্ত দিয়ে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার করেছি। ’৭১-এর খুনীদের বিচারও শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বর্তমান সরকারই বাস্তবায়ন করছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়ে তাঁর দলের বাইরের অন্য দলের নেতাদের মন্ত্রী পরিষদে স্থান দিয়েছেন, এমনকি তিনি বিএনপিকেও আনতে চেয়েছিলেন। তিনি দেশের উন্নয়ন এগিয়ে নিতে চান বলেই সকলকে নিয়ে সরকার গঠন করেছেন। তাঁর নেতৃত্বে দেশ আজ অন্ধকার থেকে আলোকিত হয়েছে।

তিনি বলেন, দেশের মানুষকে মুক্তি দিতে ও দেশের উন্নয়নের স্বার্থে শেখ হাসিনার সরকার দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকা প্রয়োজন, এদেশে শেখ হাসিনার নেতৃত্বের কোন বিকল্প নেই।

নাসিম বলেন, একাত্তরের পরাজিত শত্রুদের সাথে কোন আপোষ নেই। বেগম খালেদা জিয়া পাকিস্তানের দালাল, সে মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি স্বাধীনতার শত্রু। আরেকজন লোক রয়েছেন তিনি হলেন, ড. মুহাম্মদ ইউনুস। তাকে আমরা ফোন কম্পানির অনুমোদন দিয়ে বিনা পয়সায় অপটিক্যাল ফাইবার দিয়েছিলাম বলেই গ্রামেগঞ্জে মোবাইল ফোন চালু করেছিলেন। ওই লোক দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে। পদ্মা সেতু নিয়ে দুর্নীতির মিথ্যাচার করে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়ন ফেরত নিতে তিনি ষড়যন্ত্র করেছেন। কিন্তু আজ প্রমাণিত হয়েছে পদ্মা সেতুতে কোন দুর্নীতি হয়নি।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের অধীনেই সংবিধান অনুযায়ী ২০১৯ সালে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আগামী নির্বাচনে দেশের মানুষ শেখ হাসিনাকে তাঁর কাজের জন্য ভোট দেবে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ২০১৪ সালে নির্বাচন ঠেকানোর জন্য আন্দোলনের নামে বিএনপি-জামায়াত পেট্রল বোমা ও আগুন দিয়ে মানুষকে পুড়িয়ে মেরেছে। দেশে এক নৈরাজ্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছিল। কিন্তু তারা নির্বাচন ঠেকাতে পারেনি। ওই সময় নির্বাচন হয়েছে বলেই দেশ এগিয়ে যাচ্ছে।


মন্তব্য