kalerkantho


সংসদে প্রশ্নোত্তর

আগামী নির্বাচন সঠিক সময়ে সংবিধান অনুযায়ীই হবে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৭ মার্চ, ২০১৭ ২৩:১৩



আগামী নির্বাচন সঠিক সময়ে সংবিধান অনুযায়ীই হবে

রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে সরকার ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা সংবিধান অনুযায়ী আগামী নির্বাচন হবে। কেউ যদি মনে করেন নির্বাচনে অংশ না নিলে নির্বাচন হবে না, এটা ভুল। কেউ না আসলে নির্বাচন বন্ধ থাকবে না। নির্বাচন সঠিক সময়ে সংবিধান অনুযায়ীই হবে। নির্বাচন নিয়ে যে কোন ষড়যন্ত্র মোকাবেলার জন্য জনগনকে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান তারা।

আজ মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রথমে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী এবং পরে ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট মো. ফজলে রাব্বি মিয়ার সভাপতিত্বে এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনায় অংশ নেন শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি এবং পানিসম্পদ মন্ত্রী ও বিরোধী জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ।

শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু বলেন, ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণের মধ্যে দিয়ে স্বাধীনতার ঘোষণার পাশাপাশি বাংলাদেশের পূর্ণ কর্তৃত্ব নিজের হাতে নিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু। একমাত্র ক্যান্টনমেন্ট ছাড়া পুরো বাংলাদেশে মুজিবের শাসন শুরু হয়। ত্রিশ লাখ শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত হয় মহার্ঘ স্বাধীনতা। উন্নয়ন-গণতন্ত্র-আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে স্থিতিশীল বাংলাদেশ গড়ে তুলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তাঁর নেতৃত্বে বাংলাদেশ দ্রুত উন্নয়নের মহাসড়ক দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে।  

বিএনপি-জামায়াত জোটের সমালোচনা করে আওয়ামী লীগের এই উপদেষ্টা বলেন, এই অপশক্তির জোট দীর্ঘদিন আগুন সন্ত্রাস, জ্বালাও-পোড়াও, পুড়িয়ে পুড়িয়ে মানুষ হত্যা করে দেশে একটি অস্বাভাবিক পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা চালিয়েছিল। দেশের গণতন্ত্রকে হুমকির মুখে ঠেলে দিতে চেয়েছিল। কিন্তু জনগণকে সঙ্গে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাদের সেই অশুভ তৎপরতা মোকাবেলা করতে সক্ষম হন। সারা বিশ্বের নেতারা বাংলাদেশের এতো উন্নয়ন-অগ্রগতি দেখে বিস্ময় প্রকাশ করেন। সংবিধান অনুযায়ী বিগত নির্বাচন হয়েছে, আগামী নির্বাচনও হবে। কারো জন্য নির্বাচন অপেক্ষা করবে না। নির্ধারিত সময়েই নির্বাচন কমিশন নির্বাচনের আয়োজন করবে।

পানিসম্পদমন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেন, মাত্র ১২শ শব্দের ১৮ মিনিটের ভাষণে বঙ্গবন্ধু গোটা জাতির ভাগ্যে পরিবর্তন করেন, নিরস্ত্র বাঙালি জাতিকে সশস্ত্র জাতিতে পরিণত করেছেন। মুক্তিযুদ্ধের পুরো দিক-নির্দেশনাও ছিল তাঁর ভাষণে। ৭ মার্চের ভাষণই ছিল সত্যিকার অর্থে স্বাধীনতার ঘোষণা। বাংলাদেশ আজ মাথা উঁচু করে এগিয়ে যাচ্ছে। এই অগ্রযাত্রা ধরে রাখতে প্রয়োজন রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা। এ জন্য সন্ত্রাসবাদ-জঙ্গীবাদ ও সাম্প্রদায়িকতাকে শক্তহাতে দমন করতে হবে। কেননা এদেশকে গড়া হচ্ছে আগুণ দিয়ে পোড়ানোর জন্য নয়। সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন হবে। কেউ যদি মনে করেন নির্বাচনে অংশ না নিলে নির্বাচন হবে না, এমন কথা বলা সংবিধান লঙ্ঘনের সামিল।  

ডা. দীপু মনি বলেন, অপ্রতিরোধ্য গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ, কেউ তা রূখতে পারবে না। বিচার বিভাগ থেকে যখন রাষ্ট্রপতির এখতিয়ার, সংবিধানের এখতিয়ার নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়, যা মোটেই কাম্য নয়। কারোর এখতিয়ারই অসীম নয়।


মন্তব্য