kalerkantho


ভেজাল পণ্য উৎপাদনের দায়ে দু’টি কারখানা সিলগালা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৭ মার্চ, ২০১৭ ১৮:৫৩



ভেজাল পণ্য উৎপাদনের দায়ে দু’টি কারখানা সিলগালা

বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস এন্ড টেস্টিং ইন্সটিউিট (বিএসটিআই) মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে গত দুই মাসে ভেজাল পণ্য উৎপাদনের দায়ে দু’টি কারখানা সিলগালা করেছে। এই অপরাধে জড়িত থাকায় চার জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ৮৭ লাখ ৪২ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।  

আজ মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে এতথ্য জানিয়েছেন শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু। সরকারি দলের সদস্য নিজাম উদ্দিন হাজারির প্রশ্নের লিখিত উত্তরে তিনি আরো জানান, গত জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে বিএসটিআই মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে এক লাখ ৭ হাজার টাকা মুল্যেও ফ্রুট সিরাপসহ বিপুল পরিমাণ ভেজাল নিম্নমানের খাদ্যপণ্য ধ্বংস করা হয়েছে। এছাড়া ভেজাল পণ্য উৎপাদন করায় দু’টি কারখানা সিল গালা করা হয়েছে।

একই প্রশ্নের জবাবে শিল্পমন্ত্রী জানান, বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার দেশের সর্বস্তরের জনগণের জন্য নিরাপদ ও ভেজালমুক্ত খাদ্য নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর। বিএসটিআই পণ্যের দাম নির্দেশিকা প্রণয়ন ও বাধ্যতামুলক পণ্য তালিকার অন্তর্ভূক্ত ১৫৪টি পণ্যোর গুণগত মান নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে নিয়োজিত একমাত্র জাতীয় প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে গত দুই মাসে ১১৫টি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়েছে। মোবাইল কোর্টে মামলা হয়েছে ১৭০টি। এছাড়া ১৫৬টি সার্ভিল্যান্স টিম পরিচালনা করে ৭০টি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে বলেও তিনি জানিয়েছেন।

সরকারী দলের সদস্য বেগম সানজিদা খানমের প্রশ্নের জবাবে শিল্পমন্ত্রী জানান, চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের আওতাধীন বিদ্যমান চিনিকলগুলো ত্রিশ, পঞ্চাশ ও ষাটের দশকে স্থাপিত হওয়ায়, এগুলোর অর্থনৈতিক মেয়াদ শেষ হয়েছে। এগুলোর জন্য পর্যায়ক্রমে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি প্রতিস্থাপনসহ উপজাতভিত্তিক শিল্প স্থাপনের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

আওয়ামী লীগের নজরুল ইসলাম বাবুর প্রশ্নের জবাবে আমির হোসেন আমু সংসদকে জানান, দেশীয় সার কারখানাগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা কমে যাওয়ায় আমদানি নির্ভরতা বৃদ্ধি পাচ্ছে, বিষয়টি সত্য নয়। তবে বিসিআইসির বেশিরভাগ কারখানা ২০ থেকে ২৫ বছরের পুরনো। এগুলোর আয়ুষ্কাল ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। আর সরকারি সিদ্ধান্তে বছরের প্রায় ৭/৮ মাস গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকায় উৎপাদন কম হচ্ছে।  

সারের উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকারের পদক্ষেপ তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, সার কারখানারগুলোর উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য যমুনা ফার্টিলাইজার কোম্পানি, আশুগঞ্জ ফার্টিলাইজার অ্যান্ড কেমিক্যাল কোম্পানি, ইউরিয়া ফার্টিলাইজার ফ্যাক্টরি ও পলাশ ইউরিয়া ফার্টিলাইজার ফ্যাক্টরির পুনর্বাসন কার্যক্রম চলছে। ফলে এগুলোর উৎপাদন অব্যাহত রয়েছে। নতুন সার কারখানা শাহজালাল ফার্টিলাইজার কোম্পানি উৎপাদনে আসায় ইউরিয়া সারের আমদানি নির্ভরশীলতা কমছে। এছাড়া সারের আমদানি নির্ভরশীলতা কমাতে প্রতিদিন দুই হাজার ৮০০ মেট্রিক টন উৎপাদন ক্ষমতার নতুন একটি ইউরিয়া সার কারখানা স্থাপনের প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে বলে তিনি জানান।


মন্তব্য