kalerkantho


ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ আজ

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৭ মার্চ, ২০১৭ ০০:০২



ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ আজ

‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’-১৯৭১ সালের ৭ মার্চ  জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বজ্রকণ্ঠের এ ঘোষণা থেকে যা বোঝার বুঝে গিয়েছিল বাঙালি। রেসকোর্স ময়দানে (পরে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) সমবেত লাখো মুক্তিকামী মানুষের রক্তে দ্রোহের বান ডেকেছিল। ১৯ মিনিটের সেই উজ্জীবনী ও ধ্রুপদী ভাষণ শুনে সাড়ে সাত কোটি বাঙালি প্রস্তুত হয়েছিল জীবনবাজি করা মুক্তিসংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়তে। এরপর ৯ মাসের রক্ত আর প্রাণ ঝরানো যুদ্ধ শেষে এসেছিল পরম কাঙ্ক্ষিত স্বাধীনতা।

আজ সেই ঐতিহাসিক মুক্তি সনদ ভাষণের দিন। দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আলাদা বাণী দিয়েছেন। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করবে আজ। বাংলাদেশ বেতার, টেলিভিশন ও বেসরকারি টিভি চ্যানেলগুলো বিশেষ অনুষ্ঠান সম্প্রচার করবে। ক্রোড়পত্র প্রকাশ করবে পত্রপত্রিকা।

বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ রাজনৈতিক ভাষণ। লেখক ও ইতিহাসবিদ জ্যাকব এফ ফিল্ডের বিশ্বসেরা ভাষণ নিয়ে লেখা ‘উই শ্যাল ফাইট অন দ্য বিচেস : দ্য স্পিচ দ্যাট ইনস্পায়ার্ড হিস্টোরি’ গ্রন্থে এটি স্থান পেয়েছে।

অসংখ্য ভাষায় অনূদিত হয়েছে বঙ্গবন্ধুর ওই ধ্রুপদী ভাষণ।

আবদুল হামিদ তাঁর বাণীতে বলেছেন, ‘বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণ আমাদের প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে প্রেরণার চিরন্তন উত্স হয়ে থাকবে। ’ তিনি আরো বলেন, ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তত্কালীন শাসকগোষ্ঠীর রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে অসীম সাহসিকতার সঙ্গে রেসকোর্স ময়দানে লাখো জনতার উদ্দেশে বজ্রকণ্ঠে যে ঐতিহাসিক ভাষণ প্রদান করেন, তা ছিল মূলত বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ।

শেখ হাসিনা তাঁর বাণীতে বলেছেন, বাঙালির বীরত্বপূর্ণ সংগ্রাম ও সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে জাতির পিতার এই ভাষণের দিকনির্দেশনাই ছিল সে সময় বজ্রকঠিন জাতীয় ঐক্যের মূলমন্ত্র। অসীম ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত বাংলাদেশের স্বাধীনতাসংগ্রামের অমিত শক্তির উত্স ছিল এ ঐতিহাসিক ভাষণ। যার আবেদন কোনোদিনই ম্লান হবে না। ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ বাঙালি জাতির ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা একটি অবিস্মরণীয় দিন।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এক বিবৃতিতে বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণ যুগে যুগে বাঙালি জাতিকে শক্তি ও সাহস জোগাবে। আমাদের মহান নেতার এই ঐতিহাসিক ভাষণ বাঙালি জাতির ইতিহাসে চিরন্তন ও সর্বজনীন। ’

কর্মসূচি: আওয়ামী লীগ সকাল সাড়ে ৬টায় বঙ্গবন্ধু ভবন ও দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করবে। সকাল ৭টায় বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণে জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ করা হবে। দেশের সব ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, পৌরসভা, থানা, উপজেলা, মহানগর ও জেলাসমূহের পাড়া, মহল্লায় ৭ই মার্চের ভাষণ প্রচার এবং দিবসটির তাত্পর্য তুলে ধরে সভা-সমাবেশ হবে।

বাংলা একাডেমি বিকেল ৪টায় একাডেমির কবি শামসুর রাহমান সেমিনার কক্ষে ‘বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ ও স্বাধীনতার ঘোষণা’ শীর্ষক একক বক্তৃতানুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। ব্যারিস্টার এম আমীর-উল ইসলামের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেবেন ইতিহাসবিদ ড. ফিরোজ মাহমুদ।


মন্তব্য