kalerkantho


'যারা নির্বাচনে বিশ্বাস করে না, তাদের সঙ্গে আপোষে কোনো লাভ নেই'

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৬ মার্চ, ২০১৭ ২১:৩০



'যারা নির্বাচনে বিশ্বাস করে না, তাদের সঙ্গে আপোষে কোনো লাভ নেই'

রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন বলেছেন, যারা নির্বাচনে বিশ্বাসী নয়, তাদের সঙ্গে আপোষ করে কোন লাভ হবে না।  
তিনি বলেন, নির্বাচন অবশ্যই হবে এবং সংবিধান অনুযায়ীই হবে।

২০১৯ সালে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে যে সরকার থাকবে তার অধীনেই নির্বাচন হবে। সেই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারে বিএনপি থেকে কোন প্রতিনিধি দিবে কিনা সেটা অন্য বিষয়।
গত ২৪ জানুয়ারি চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজ রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাব উত্থাপন করলে হুইপ মাহাবুব আরা বেগম গিনি তা সমর্থন করেন।
গত ২২ জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদের চতুর্দশ অধিবেশন শুরুর দিন সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ সংসদে ভাষণ দেন।
রাষ্ট্রপতির ভাষণে আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর আজ ২৬তম দিনে বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটন মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, মৎস্য ও প্রাণি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ, সরকারি দলের ডা. আফছারুল আমিন, আলহাজ মো. দবিরুল ইসলাম, শেখ আফিল উদ্দিন, জাতীয় পার্টির জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু, মো. আমির হোসেন, জাসদের বেগম লুৎফা তাহের, এ কে এম রেজাউল করিম তানসেন, বিএনএফ-এর এসএম আবুল কালাম আজাদ, তরিকত ফেডারেশনের এম এ আউয়াল ও স্বতন্ত্র সদস্য মো. মুকবুল হোসেন আলোচনায় অংশ নেন।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, বাংলাদেশে ’৭১ সালে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর গণহত্যা সম্পর্কে বিভ্রান্তি ছড়াতে সম্প্রতি একটি বই লিখে পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা-আইএসআই-এর মাধ্যমে বিভিন্ন দাতা সংস্থা ও দূতাবাসগুলোতে পাঠিয়েছে।  
তিনি বলেন, বিএনপি-জামায়াত স্বাধীনতাবিরোধী ও জঙ্গিবাদের পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে শায়েখ আব্দুর রহমান ও বাংলা ভাইয়ের সৃষ্টি করে। এর থেকেই নব্য জেএমবির সৃষ্টি হয়েছে। এই নব্য জেএমবি দেশে গুপ্ত হত্যা চালাচ্ছে। হলি আর্টিজানে হামলার মধ্য দিয়ে তারা তাদের অস্তিত্ব প্রমাণ করে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে জঙ্গি ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সামাজিক সচেতনতা বাড়াতে হবে।  
রাশেদ খান মেনন বলেন, ২০১৪ সালের নির্বাচনের আগে ও পরে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে সারাদেশে অগ্নি সন্ত্রাস হয়েছে। তার অগ্নি সন্ত্রাসে কত মায়ের বুক খালি হয়েছে তা দেশের মানুষ জানে।  
তিনি বলেন, নির্বাচন আসলেই বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শরীরে আগুন জ্বলে ওঠে। তার আমলে মাগুরা নির্বাচনের পরই তত্ত্বাবধায়ক সরকারে দাবি উঠেছিল। আবার যখন নির্বাচনের সময় আসছে তখন তারা নানা ধরনের প্রশ্ন তুলে নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
তিনি বলেন, স্লোগান উঠেছে শেখ হাসিনার দীক্ষা, মানসম্মত শিক্ষা। কিন্তু ভবিষ্যত প্রজন্মকে সুশিক্ষায় শিক্ষিত করতে শিক্ষার মান আরো উন্নত করতে হবে।  
তিনি তার মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম তুলে ধরে বলেন, আকাশ পথে নিরাপদ যাত্রী ও মালামাল পরিবহনে এই মন্ত্রণালয় কাজ করে। দেশীয় সংস্কৃতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ পর্যটন ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন করতে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যটনের সাথে সামঞ্জস্য রেখে বাংলাদেশকে একটি পর্যটন সমৃদ্ধ দেশে পরিণত করতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। রূপকল্প-২০২১ এর লক্ষ্য অর্জনে এই মন্ত্রণালয় সচেষ্ট রয়েছে।  
মন্ত্রী বলেন, শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরকে ক্যাটাগরি-১ এ উন্নীত করার লক্ষ্যে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এজন্য প্রয়োজনীয় লোকবল নিয়োগ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের চেষ্টা চলছে। চট্টগ্রামে ইতোমধ্যে রাডার বসে গেছে। রাডার সিস্টেম চালু হলে আকাশ পথে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যাবে।
সরকারি দলের অন্য সদস্যরা বলেন, প্রধানমন্ত্রী তাঁর নিজস্ব উদ্যোগে একটি বাড়ি একটি খামারের আওতায় ক্ষুদ্র অনুদান কর্মসূচি চালু করেছেন। এ কারণে দেশে দারিদ্র্য বিমোচন হয়েছে। পৃথিবীর ১৪০টি সুখী দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান অষ্টম। বিশ্বব্যাংকের বর্তমান প্রেসিডেন্ট বলেছেন, দারিদ্র্য বিমোচনে বাংলাদেশ একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। তারা সরকারের গত ৮ বছরের অর্জনের কথা তুলে ধরে বলেন, উন্নয়নের এ ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে অল্প সময়ের মধ্যে দেশ মধ্যম এবং ঘোষিত সময়ের আগেই উন্নত অর্থনীতির দেশে পরিণত হবে। এ জন্য তারা আগামী নির্বাচনেও যাতে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার জয়ী হতে পারে সে লক্ষ্যে এখন থেকে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।  
জাতীয় পার্টির জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু তাদের সরকার আমলের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে বলেন, বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ উন্নয়ন সমৃদ্ধির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এই উন্নয়নের বীজ বপন করেছিলেন হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ।  
তিনি বলেন, এই সরকারের গতিশীল নেতৃত্বে দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে। কৃষিসহ প্রতিটি খাতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন সাধিত হয়েছে।  
অতীতের শিক্ষা থেকে শিক্ষা নিয়ে সামনের দিকে অগ্রসর হওয়ার আহবান জানিয়ে জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু বলেন, বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া ও জামায়াত এখন লেবেল প্লেয়িং ফিল্ডের কথা বলে কিন্তু ১৯৯১ সালের নির্বাচনে জাতীয় পার্টি নেতাকে কারাগারে রেখে তারা কোন ধরনের লেবেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করেছিলেন।  
বিএনএফ সদস্য এসএম আবুল কালাম আজাদ ২০০৮ সালের আগের সকল সরকারের দুর্নীতির একটি শ্বেতপত্র প্রকাশের দাবি জানান। তিনি বলেন, বিশাল সমুদ্রসীমা অর্জনকে কাজে লাগাতে সেখানে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।  
তিনি বলেন, সংবিধান অনুযায়ী বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের অধীনে আগামী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং বিএনএফ এই সরকারের অধীনেই নির্বাচনে অংশ নেবে।  


মন্তব্য