kalerkantho


'দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে সরকার যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করছে'

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৬ মার্চ, ২০১৭ ১৮:৪৯



'দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে সরকার যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করছে'

সংসদ কার্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী বলেছেন, বেসরকারি খাতে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে সরকার যথাযথ কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।
তিনি আজ সংসদে সরকারি দলের সদস্য আ ফ ম বাহাউদ্দিন (নাছিম)’র এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ চলতি অর্থবছরে এ পদক্ষেপ নিয়েছে।


মন্ত্রী বলেন, বেসরকারি খাতে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ উৎসাহদান, শিল্প স্থাপনে প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা ও সহায়তা প্রদান এবং সরকারি শিল্প বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ও এর অব্যবহৃত জমি বা স্থাপনা অধিকতর উপযোগী অর্থনৈতিক কর্মকান্ডে ব্যবহারের লক্ষ্যে প্রশাসনিক সমন্বয় সাধন ও উন্নততর সেবা প্রদানের নিমিত্তে বিনিয়োগ বোর্ড ও প্রাইভেটাইজেশন কমিশন একীভূত করতে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আইন, ২০১৬ প্রণয়ন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ওই আইনের বিধান থেকে ২০১৬ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিআইডিএ) গঠিত হয়েছে এবং নতুন প্রতিষ্ঠান হিসেবে আত্মপ্রকাশ করার পর বিনিয়োগকারীদের ‘সেবা দান’ অব্যাহত রয়েছে।  
মতিয়া চৌধুরী বলেন, এই বিনিয়োগ সেবাকে বিশ্বমানের করার লক্ষ্যে সম্পূর্ণ অটোমেটেড ও কার্যকর ওয়ান স্টপ সার্ভিস দেয়ার জন্য আইন প্রণয়ন করা হচ্ছে। এ লক্ষ্যে দেশী-বিদেশী বিনিয়োগকারীদের ওয়ান স্টপ সেবা প্রদানে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়সমূহের সাথে একাধিক সভা, সেমিনার, গোলটেবিল বৈঠক ও কর্মশালার মাধ্যমে কার্যকর ওয়ান স্টপ সার্ভিস প্রদানের রূপরেখা প্রস্তুত করছে।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের প্রথম বোর্ড সভায় প্রধানমন্ত্রী ও গভর্নিং বোর্ডের সম্মানিত সদস্যদের দিক নির্দেশনা ও পরামর্শ অনুসারে দেশী ও বৈদেশিক বিনিয়োগ বৃদ্ধির জন্য কার্যকর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, স্থানীয় ও বৈদেশিক বিনিয়োগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টির জন্য বিশ্বব্যাংকের ইজ অব ডুয়িং বিজনেসের মাধ্যমে চিহ্নিত প্রতিবন্ধকতাসমূহ দূরীকরণের লক্ষ্যে সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের উপর জরিপ চালিয়ে চিহ্নিত প্রতিবন্ধকতাসমূহ দূরীকরণের জন্য বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার কার্য প্রক্রিয়া সহজীকরণের মাধ্যমে প্রক্রিয়াগত সময় কমিয়ে এনে বিনিয়োগ বান্ধব পরিবেশ সৃষ্টির কার্যক্রম নেয়া হয়েছে।
কৃষিমন্ত্রী বলেন, বিশ্বব্যাংকের ইজ অব ডুয়িং বিজনেসের রিপোর্টে বিশ্বের ১৮৯টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থান ১৭৬। আগামী ৫ বছরে তা দুই অঙ্কে তথা ৯৯ বা তার চেয়ে উন্নততর পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে বিডা ব্যক্তিখাত ও সরকারের সকল সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা ব্যাপক কার্যক্রম গ্রহণ করেছে।
মতিয়া চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ অন্যান্য সরকারি সংস্থার সাথে বিনিয়োগবান্ধব পলিসি সৃষ্টির জন্য পলিসি এডভোকেসি সংক্রান্ত কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
মন্ত্রী বলেন, বিডা তার বিনিয়োগ প্রচার ও প্রসার কার্যক্রমের আওতায় দেশী ও বিদেশী বিনিয়োগকারীদের বিভিন্ন সুবিধা প্রদান করছে।
তিনি বলেন, সরকার ‘প্রাইভেট ইনভেস্টমেন্ট (প্রমোশন এন্ড প্রটেকশন) এ্যাক্ট-১৯৮০’র মাধ্যমে দেশী ও বিদেশী বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগের নিরাপত্তাসহ বিনিয়োগকারীদের প্রতি সম-আচরণের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
মতিয়া চৌধুরী বলেন, এলাকাভেদে কর অবকাশ সুবিধা প্রদান করেছে। অনাবাসী বাংলাদেশীদের (এনআরবি) বিনিয়োগকে বিদেশী বিনিয়োগ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।  
মতিয়া চৌধুরী বলেন, ২০১২ সালের জুন পর্যন্ত যে সকল বেসরকারি খাতের কোম্পানী বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করেছে তারা ১৫ বছর পর্যন্ত কর অব্যাহতির সুযোগ পাচ্ছে। ২০১৯ সালের মধ্যে এ খাতে বিনিয়োগ করলে ১২ বছর পর্যন্ত কর অবকাশ সুবিধা প্রদান অব্যাহত রাখা হবে।  
তিনি বলেন, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ থেকে অনলাইনের মাধ্যমে গ্রাহক সেবা সহজতর করা হয়েছে। দেশের বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়নে শিল্প বিনিয়োগ সহায়ক বিভিন্ন নীতি প্রণয়নে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ সরকারকে সহায়তা করে যাচ্ছে।
মন্ত্রী বলেন, কোন বিদেশী বিনিয়োগকারী ১০ লাখ ইউএস ডলার বিনিয়োগ করলে বা ১০ লাখ ইউএস ডলার কোন স্বীকৃত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বাংলাদেশে আনয়ন করলে বা স্থানান্তর বা স্থানান্তর করলে তিনি বাংলাদেশের নাগরিকত্ব পাওয়ার জন্য বিবেচিত হবেন।
তিনি বলেন, বিদেশী বিনিয়োগকারীকে স্থায়ী রেসিডেন্টশিপ দেয়ার ক্ষেত্রে বিদ্যমান আইনে ন্যুনতম ৭৫ হাজার ইউএস ডলার বিনিয়োগের যে শর্ত রয়েছে, তা বাড়িয়ে ২ লাখ ইউএস ডলার করা হয়েছে। সম্ভাবনাময় বিদেশী বিনিয়োগকারীকে ন্যুনতম ৫ বছরের মাল্টিপল ভিসা প্রদান করা হচ্ছে।
কৃষিমন্ত্রী বলেন, বিদ্যমান আইনের আওতায় বৈদেশিক বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বিনিয়োগকৃত মূলধন পূর্ণ প্রত্যাবাসনের সুবিধা প্রদান অব্যাহত থাকবে। অনুরূপভাবে প্রযোজ্য ক্ষেত্রে কর পরিশোধ সাপেক্ষে বিদেশী বিনিয়োগের ডিভিডেন্ড সম্পূর্ণ স্থানান্তরযোগ্য।
তিনি বলেন, সরকার ব্যক্তিখাত ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সহায়তা বিডা বাংলাদেশকে বিশ্বের অন্যতম একটি বিনিয়োগ ও ব্যবসায় বান্ধব দেশে পরিণত করার যে ব্যাপক উদ্যোগ নিয়েছে তা এদেশের শিল্পায়ন ও উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে।


মন্তব্য