kalerkantho


অগ্নিঝরা মার্চ : পুরো দেশ পরিণত হয় মিছিলের দেশ হিসেবে

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৬ মার্চ, ২০১৭ ১০:০৯



অগ্নিঝরা মার্চ : পুরো দেশ পরিণত হয় মিছিলের দেশ হিসেবে

স্বাধীনতা ঠেকাতে রণপ্রস্তুতিতে পাকিস্তানি হানাদাররা। অন্যদিকে যেকোনো আত্মত্যাগের বিনিময়ে স্বাধীনতা ছিনিয়ে আনতে অটুটবন্ধনে বীর বাঙালি। সভা, মিছিল, কার্ফু ভঙ্গ, গুলিতে বাঙালি হত্যা- সব মিলিয়ে অগ্নিগর্ভ সময়, বিস্ফোরণোন্মুখ পরিস্থিতি। ১৯৭১ সালের ৬ মার্চেও বঙ্গবন্ধুর ডাকে ছিল হরতাল। সকাল ৬টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত। এই দিনে পুরো দেশ পরিণত হয় মিছিলের দেশ হিসেবে। জয় বাংলা- জয় বঙ্গবন্ধু, বীর বাঙালি অস্ত্র ধরো, বাংলাদেশ স্বাধীন করো, এই স্লোগানে মুখরিত হতে থাকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস, পল্টন ময়দান আর ধানমণ্ডির ৩২ নম্বর সড়কের বঙ্গবন্ধুর বাড়ি। সময়ের সাথে সাথে অসহযোগ আন্দোলনের গন্তব্যও স্পষ্ট হচ্ছিল। সবার মনে আকাঙ্ক্ষা কখন আসবে স্বাধীনতার ডাক।

বাংলার মাটি দুর্জয় ঘাঁটি বুঝে নিক দুর্বৃত্ত- বেপরোয়া বাঙালি তখন স্বাধীনতার স্বপ্নে যেমন উদ্দীপ্ত; তেমনি ফুঁসছিল বিদ্রোহ, বিক্ষোভ ও ঘৃণায়। পরদিন ৭ মার্চ তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে ঐতিহাসিক ভাষণ দেবেন বাঙালির মুক্তির দিশারী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

ভাষণে তিনি কী বলবেন? বহুল আকাঙ্ক্ষিত স্বাধীনতার ঘোষণা তার বজ্রকণ্ঠে উচ্চারিত হবে কি? এ নিয়ে জল্পনা-কল্পনার অন্ত ছিল না সাড়ে ৭ কোটি বাঙালির মধ্যে। তেমনি দিশেহারা অবস্থা পাকিস্তানি হানাদারদেরও।

৭ মার্চের ভাষণ ঠিক করতে এ দিন বঙ্গবন্ধু মিটিং করেন দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের সাথে। পুরো জাতি যখন স্বাধীনতার মন্ত্রে উজ্জীবিত তখনো বাঙালির স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষাকে নস্যাৎ করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ইয়াহিয়া খান। ইয়াহিয়া পূর্ব পাকিস্তানি মুক্তিকামী জনতাকে দুষ্কৃতকারী আখ্যা দিয়ে বলেন, জাতীয় ঐক্য বিনষ্ট হতে দেব না, ঐক্য বিনষ্টর যেকোনো প্রচেষ্টা সেনাবাহিনী কঠোর হস্তে দমন করবে। কুখ্যাত জেনেরেল টিক্কা খানকে পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর হিসেবে ঘোষণা দেন ইয়াহিয়া।

এ ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে রাজপথে নেমে আসে প্রতিবাদী ছাত্র-জনতা। স্বাধীনতার দাবি আরও জোরালো ভাবে উঠে আসে। বিকেলে বায়তুল মোকাররমের সামনে এক সমাবেশে মাওলানা ভাসানী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে সকলকে মুক্তিসংগ্রামে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। এর আগে একাত্তরের ১ মার্চ বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, বাংলার মানুষের আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকার অর্জনের কর্মসূচি ৭ মার্চ ঘোষণা করা হবে। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণের একদিন আগে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়ার হুমকি-ধমকি স্বাধীনতাকামী বাঙালিকে হতাশ, ক্ষুব্ধ ও উত্তেজিত করে তোলে। এমনিতেই বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে লাগাতার হরতাল ও অসহযোগ আন্দোলন চলছে। পাকি প্রেসিডেন্টের ভাষণের পর তা নতুন মাত্রা পায়। ঘর থেকে রাজপথে নেমে আসে বিক্ষুব্ধ হাজার হাজার স্বাধীনতাকামী বাঙালি।

এ ছাড়াও এ দিন, ৭ মার্চের প্রাক্কালে, ইয়াহিয়া খান ৬ মার্চ জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়ে পরিস্থিতি বাগে আনতে ১০ মার্চ ঢাকায় গোলটেবিল বৈঠক এবং ২৫ মার্চ জাতীয় পরিষদের অধিবেশন ডাকার ঘোষণা করেন। উদ্দেশ্য ছিল ৭ মার্চের জনসভাকে ম্লান করে দেওয়া। এবং তিনি লে. জেনারেল টিক্কা খানকে পূর্ব পাকিস্তানের নতুন গভর্নর নিয়োগ দেন। সাড়ে সাত কোটি বাঙালির অধীর অপেক্ষা-দৃষ্টি রেসকোর্সের ময়দানে আয়োজিত জনসভার দিকে। সাড়ে সাত কোটি বাঙালির অধীর অপেক্ষা- দৃষ্টি রেসকোর্সের ময়দানে আয়োজিত জনসভার দিকে।

 


মন্তব্য