kalerkantho


গুলশান হামলার ঘটনায় আটজনকে খুঁজছে পুলিশ : মনিরুল ইসলাম

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৩ মার্চ, ২০১৭ ২৩:৪৬



গুলশান হামলার ঘটনায় আটজনকে খুঁজছে পুলিশ : মনিরুল ইসলাম

গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলার ঘটনায় জড়িতদের তালিকায় এ পর্যন্ত ২২ জনের নাম এসেছে বলে জানিয়ে পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম বলেছেন, তাদের মধ‌্যে আটজনকে এখনও খুঁজছেন তারা। নব্য জেএমবির ‘আধ্যাত্মিক নেতা’ মাওলানা আবুল কাশেমকে গ্রেপ্তারের পর আজ শুক্রবার ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

গুলশান হামলা নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি আরো বলেন, “এ বছরের শেষ নাগাদ তদন্ত কাজ শেষে করতে পারব বলে আশা করছি। ”

মনিরুল ইসলাম জানান, ওই ঘটনায় জড়িতদের মধ‌্যে অনেকে বিভিন্ন অভিযানে নিহত হয়েছেন এবং কয়েকজন গ্রেপ্তার হয়েছেন।

তিনি বলেন, “সোহেল মাহফুজ, রাশেদ, ছোট মিজান, চকলেট, সৈয়দ মাহফুজ, আব্দুস সামাদ ওরফে আরিফ ওরফে মামু, মুসা এবং একজন চিকিৎসককে গুলশান হামলার ঘটনায় খুঁজছে পুলিশ। ”

এ সময় গুলশান হামলায় কতজন জড়িত ছিল জানতে চাইলে কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের প্রধান বলেন, “মারা যাওয়া ছয়জনসহ ২০ থেকে ২২ জনের অস্তিত্ত্ব পাওয়া গেছে। এর বাহিরেও থাকতে পারে। ”

মনিরুল বলেন, গুলশান হামলার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব‌্যাপক অভিযানের মধ‌্যে বিভিন্ন সময়ে নিহত হন তামীম চৌধুরী, সারোয়ার জাহান, তানভীর কাদেরী, নুরুল ইসলাম ওরফে মারজান, সাবেক মেজর জাহিদুল ইসলাম, রায়হান কবির ওরফে তারেক, আব্দুল্লাহ ও ফরিদুল ইসলাম আকাশও গুলশান হামলায় সম্পৃক্ত ছিলেন।

এছাড়া ওই ঘটনায় সম্পৃক্ত; রাজীব গান্ধী, রিগ্যান ও বড় মিজান পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছে বলে জানান তিনি।

গুলশান হামলায় সন্দেহভাজন হিসেবে আরও একজনের নাম এসেছে জানিয়ে মনিরুল ইসলাম বলেন, “তিনি আগেই গ্রেপ্তার হয়েছেন। তবে গুলশানের মামলায় এখনও গ্রেপ্তার দেখানো হয়নি।

তিনি একটি প্রতিষ্ঠানের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী। আমরা গুলশানের ঘটনায় তার সম্পৃক্ততার তথ‌্য যাচাই-বাছাই করে দেখছি। ”

যাদের পুলিশ খুঁজছে তারা সবাই এ হামলায় অংশ নিয়েছিলেন কিনা জানতে চাইলে কাউন্টার টোরোরিজম প্রধান বলেন, “এ ধরনের মতাদর্শীদের ‘কমন ইনটেনশন’ তৈরি হয়ে যায়। ঘটনাস্থলে যাক বা না যাক, অন্য কোনো কাজ করুক বা না করুক, তারা সাপোর্ট দেয় যে এটা করা যায় বা করা উঠিত। তখন আইন অনুযায়ী ওই ঘটনার দায় অর্থাৎ ফৌজদারি দায় তাদের উপরও বর্তায়। ”

এ ছাড়াও সংবাদ সম্মেলনে গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে গ্রেপ্তার হওয়া আবুল কাশেমও হলি আর্টিজানে হামলার ঘটনায় জড়িত ছিলেন কি-না জানতে চাইলে কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার ছানোয়ার আলম বলেন, “আবুল কাশেম যেহেতু ‘জাস্টিফাই’ করেছে বক্তৃতা বিবৃতি দিয়ে, আমার ধারণা, তার নামও এসে যাবে। বইপত্র লেখা ছাড়াও জঙ্গিদের ট্রেইনিং সেন্টারগুলোতে আবুল কাশেমের যাতায়াত ছিল। তবে ঠিক ওদের (হলি আর্টিজানে হামলাকারী) প্রশিক্ষণে গিয়েছিলেন কি না- সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ”

উল্লেখ্য, গত বছর রোজার মধ‌্যে ১ জুলাই রাতে একদল অস্ত্রধারী তরুণ কূটনীতিক পাড়া গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে ঢুকে দেশি-বিদেশি অতিথিদের জিম্মি করে ফেলে। তাদের রুখতে গিয়ে বোমায় নিহত হন গোয়েন্দা পুলিশের সহকারী কমিশনার রবিউল ইসলাম এবং বানানী থানার ওসি মো. সালাউদ্দিন। পরদিন সকালে সেখানে অভিযান চালায় সামরিক বাহিনীর প‌্যারাকমান্ডো দল। এ ঘটনায় নিহত হন পাঁচ জঙ্গি ও রেস্তোরাঁর এক কর্মী। পরে সেখান থেকে উদ্ধার করা হয় ২০ জনের লাশ, যাদের মধ‌্যে ১৭ জনই ছিলেন বিদেশি নাগরিক।

 


মন্তব্য