kalerkantho


বিশ্ব কিডনি দিবস উপলক্ষে প্রেসক্লাবে 'ক্যাম্পস'র গোলটেবিল বৈঠক

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৩ মার্চ, ২০১৭ ১৮:৩৯



বিশ্ব কিডনি দিবস উপলক্ষে প্রেসক্লাবে 'ক্যাম্পস'র গোলটেবিল বৈঠক

সারা বিশ্বের এক তৃতীয়াংশ মানুষের ওজন স্বাভাবিক এর চেয়ে বেশি। প্রায় ৬৭ কোটি মানুষ স্থূলকায়।

যা জীবননাশের বহু রোগের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। বাংলাদেশে প্রায় এক চতুর্থাংশ মানুষ স্থূলতা সমস্যায় ভুগছেন। বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার মতে, পৃথিবীতে যতো মৃত্যু হয় পুষ্টিহীনতায়, তার চেয়ে বেশী মৃত্যু হয় অতিভোজন ও অতি ওজনের জন্য। আসন্ন বিশ্ব কিডনি দিবস ২০১৭ উপলক্ষে আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে বিশেষজ্ঞরা এসব তথ্য উত্থাপন করেন।

বিশ্ব কিডনি দিবস পালনে জাতীয় প্রেসক্লাবে 'স্থূলতা কিডনি রোগের ঝুঁকি বাড়ায়: সুস্থ কিডনির জন্য সুস্থ জীবনধারা' শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করে স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা 'কিডনি এওয়ারনেস মনিটরিং অ্যান্ড প্রিভেশন সোসাইটি (ক্যাম্পস)'।

বৈঠকে বক্তারা বলেন, শুধু আমেরিকায় অতি ওজনের জন্য অকাল মৃত্যুবরণ করেন ৩ লক্ষেরও বেশী লোক এবং এদের চিকিৎসায় ব্যয় হয় ১৫০ বিলিয়ন ডলার, যা আমাদের জাতীয় বাজেটের প্রায় চার গুণ।

বক্তারা বলেন, শুধু জীবনযাপন পরিবর্তন করে ৬৮ শতাংশ মৃত্যু ঝুঁকি কমানো সম্ভব। এসব অভ্যাসের মধ্যে রয়েছে- প্রতিদিন কমপক্ষে ৩০ মিনিট হাঁটা, পর্যাপ্ত ফলমূল ও শাকসবজি খাওয়া, ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা ও ধূমপানমুক্ত থাকা।

কিডনি ফাউন্ডেশনের চেয়াম্যান অধ্যাপক ডা. হারুন অর রশিদ বলেন, দেশে ব্যাপক সংখ্যক কিডনি রোগীর তুলনায় ডায়ালাইসিস সেন্টার খুবই কম, মাত্র ৯৬ টি।

১৮ হাজার রোগী এসব সেন্টারে সপ্তাহে ২ বার করে ডায়ালাইসিস পায়। বেসরকারি সেন্টারগুলোতে ৩৫০০ থেকে ৫০০০ টাকা পর্যন্ত প্রতিটি ডায়ালাইসিসের মূল্য রাখা হয়।

তিনি বলেন, দক্ষিণ এশিয়াতে মোট কিডনি রোগীর তুলনায় মাত্র ১৫ শতাংশ রোগী ডায়ালাইসিসের সুযোগ পায়। বাকিরা অর্থাভাবে ডায়ালাইসিস নিতে পারেন না। তাই বাংলাদেশে ডায়ালাইসিস খরচ কমাতে সরকারি ও বেসরকারিভাবে বাস্তবিক উদ্যোগ নিতে হবে।    

এই গোল টেবিল বৈঠকে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার পক্ষ থেকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, শিক্ষক, সাংবাদিক, অর্থনীতিবিদ, ব্যাংকার, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, খেলোয়ারসহ অনেকেই অংশগ্রহণ করেন।

আলোচকবৃন্দের মধ্যে রয়েছেন কিডনি ফাউন্ডেশনের সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন অর রশিদ, বাংলাদেশ রেনাল এসোসিয়েশনের মহাসচিব অধ্যাপক ডা. ম. মহিবুর রহমান, কুমুদিনী ওমেন্স মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. আব্দুল হালিম, এটিএন বাংলার উপদেষ্টা কর্ণেল মীর মোতাহার হোসেন, বেলা'র নির্বাহী পরিচালক রেজওয়ানা হাসান, দৈনিক  ইত্তেফাকের নির্বাহী সম্পাদন শাহীন রেজা নূর, বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক গাজী আশরাফ হোসেন লিপু, লায়ন্স জেলা ৩১৫বি২ এর সাবেক ডিষ্ট্রিক্ট গভর্নর জেএল ভৌমিকসহ আরো অনেকে।

বক্তারা অভিমত ব্যক্ত করেন, অপরিকল্পিত নগরায়নের কারণে হাঁটার পরিবেশ নেই। ফুটপাথ হকারদের দখলে, অধিকাংশ স্কুলে বাচ্চাদের খেলার মাঠ নেই। ফলে স্কুল কলেজের ছেলে-মেয়েরা ফেইসবুক, ভিডিও গেমস, টিভি দেখার প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছেন। ফলে অলস নিস্ক্রিয় জীবনযাপনে অভ্যস্থ হয়ে পড়ছেন তারা।

ল্যাবএইড স্পেশালাইজড হাসপাতালের কিডনি বিভাগের প্রধান ও ক্যাম্পস এর প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি বিশিষ্ট কিডনি রোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. এম এ সামাদ এই গোল টেবিল বৈঠকে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন।

মূল বক্তব্যে অধ্যাপক ড. এম এ সামাদ বলেন, বিশ্ব কিডনি দিবসের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে কিডনি রোগের ব্যাপকতা ও ভয়াবহতা সম্পর্কে বিশ্বব্যাপি মানুষকে সচেতন করা ও কিডনি বিকল প্রতিরোধে প্রাথমিক অবস্থায় কিডনি রোগ শনাক্ত করে চিকিৎসা করা ও সুস্থ জীবন ধারায় সবাইকে অভ্যস্থ করা।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সমীক্ষা মতে, প্রথম ১০ মৃত্যু ঝুঁকির মধ্যে স্থুলতা একটি। এক সময় ছিল বিশ্বজুড়ে মৃত্যুর প্রধান কারণ ছিল সংক্রামক ব্যাধি। এখন বাংলাদেশে ৬৫ ভাগেরও বেশি ক্ষেত্রে মৃত্যুর জন্য দায়ী অসংক্রমক ব্যাধী। আর স্থূলতা জম্মদেয় প্রাণঘাতী এসব অসংখ্য ব্যাধির। এর মধ্যে প্রধান রোগগুলো হলো উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, হাড়জোড়া ক্ষয় ও ব্যাথা, স্লিপ অ্যাপনিয়া বা ঘুমের মধ্যে শ্বস বন্ধ হওয়া ও নাক ডাকা, মেটাবোলিক সিড্রোম, মানসিক অবসাদ ও নিরান্দভাব, কোলন ও মেয়েদের ব্রেষ্ট ক্যান্সার এর মত মারাত্মক ব্যাধি। স্থূলতার সাথে কিডনি রোগের সম্পর্ক সরাসরি। বাড়তি ওজন সরাসরি কিডনির ছাকনি নষ্ট করে দেয়। আবার পরোক্ষভাবে উচ্চ রত্তচাপ, ডায়াবেটিস, হৃদরোগের মাধ্যমে কিডনির ক্ষতিগ্রস্ত হয়, জানান ড. সামাদ।
 
ড. এম এ সামাদ আরো বলেন, পৃথিবীব্যাপী কিডনি রোগের হার অত্যন্ত ব্যাপক।   বাংলাদেশে প্রায় ২ কোটি লোক কোনো না কোনো কিডনি রোগে আক্রান্ত। কিডনি বিকলের চিকিৎসা অত্যন্ত ব্যয়বহুল বিধায় এদেশের শতকরা ১০ জন রোগী এ চিকিৎসা চালিয়ে যেতে পারেন না। অর্থাভাবে অকালে প্রাণ হারান সিংহভাগ রোগী। অথচ একটু সচেতন হলে ৫০ থেকে ৬০ ভাগ ক্ষেত্রে কিডনি বিকল প্রতিরোধ করা সম্ভব। এজন্য প্রয়োজন প্রাথমিক অবস্থায় কিডনি রোগের উপস্থিতি ও এর কারণ শনাক্ত করে তার চিকিৎসা করা।

এ গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা অভিমত ব্যক্ত করেন যে, চিকিৎসা করে নয় বরং প্রতিরোধ করেই এ রোগের প্রাদুর্ভাব প্রশমন করতে হবে আর এ জন্য সচেতনতাই একমাত্র উপায়।

 


মন্তব্য