kalerkantho


সরকার জঙ্গি নির্মূল করে দেশে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে এনেছে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২ মার্চ, ২০১৭ ২৩:৩৪



সরকার জঙ্গি নির্মূল করে দেশে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে এনেছে

রাষ্ট্রপতির ভাষণের উপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে সরকার দলীয় সংসদ সদস্যরা বলেছেন, বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার দেশকে সন্ত্রাসী রাষ্ট্রে পরিণত করেছিলো। কিন্তু শেখ হাসিনার সরকার জঙ্গি গোষ্ঠীকে নির্মূল করে দেশে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে এনেছে। দেশে এখন শাস্তি ও স্বস্তি বিরাজ করছে। সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদ নির্মূলে ঐক্যবদ্ধ লড়াই অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।  

আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে এই আলোচনায় সভাপতিত্ব করেন প্রথম স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী ও পরে সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট আবদুল মতিন খসরু। আলোচনায় অংশ নেন সরকার দলীয় সদস্য প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম, জাহাঙ্গীর কবির নানক, মো. ইসরাফিল আলম, নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন, হাবিবুর রহমান মোল্লা, মোর্শেদ আলম, মো. আব্দুল্লাহ, হোসনে আরা বেগম ও নাজিম উদ্দিন আহমেদ এবং জাতীয় পার্টির মাহজাবীন মোর্শেদ।

মন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সমালোচনা করে বলেন, যুদ্ধের সময় আমার বয়স ও ড. ইউনূসের বয়স ৪০ বছরের নিচে ছিলো। আমি যুদ্ধে গেলাম, আর উনি কোথায় গেলেন? এখন ওনার বয়সের যারা বাংলাদেশে নসিহত করেন তারা তখন কোথায় ছিলেন? তিনি বলেন, একজন বঙ্গবন্ধুর জন্ম না হলে আমরা বাংলাদেশ পেতাম না। একজন শেখ হাসিনার জন্ম না হলে বাংলাদেশ এই অগ্রগতির মুখ দেখতে পারতো না। বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার হতো না। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হতো না।

দেশের ৬৮ হাজার গ্রামে বিদ্যুৎ জ্বলে উঠতো না।  

তিনি আরো বলেন, প্রাথমিক শিক্ষার ক্ষেত্রে বর্তমান সরকার যে মনোযোগ দিয়েছে, সেটা অন্য কোন সরকার দিতে পারেনি। বঙ্গবন্ধু ৩৬ হাজার স্কুল জাতীয়করণের পরে, তার কন্যাই আবার ২৬ হাজার ১৯৩টি স্কুল জাতীয়করণ করলো। পুল শিক্ষক ও প্যানেল শিক্ষকদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। দেশে মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম বলেন, বিগত নির্বাচন বানচালের চেষ্টা হয়েছে। ক্ষমতা দখলের জন্য বিদেশের পত্রিকায় মিথ্যাচার করা হয়েছে। একাধিকবার নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী এটা করেছেন। তার দলের নেতারা দেশে বিনিয়োগ বন্ধের অনুরোধ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, আজ সেই দলটি দেশে-বিদেশে সন্ত্রাসী দল হিসেবে পরিচিত হয়েছে। আগে যুক্তরাষ্ট্রের আদালত একই রায় দিয়েছিলো। এখন কানাডার আদালতও তাই বলেছে। তাদের এই দেশে রাজনীতি করার কোন অধিকার নেই।

কুটনৈতিক ক্ষেত্রে সরকারের ব্যাপক সফলতার দাবি করে তিনি বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিয়ে বিভিন্ন দেশে আলোচনা-সমালোচনা হয়েছে। কিন্তু এখন আর তারা সমালোচনা করেন না। আমরা বোঝাতে সক্ষম হয়েছে। কুটনৈতিক তৎপরতার মাধ্যমে বিচার ও রায় কার্যকর করার যৌক্তিকতা তুলে ধরতে পেরেছি। জঙ্গী দমন, সন্ত্রাস নির্মূল, নারীর উন্নয়ন, জনগনের ক্ষমতায়ন, অথনৈতিক প্রবৃদ্ধিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বর্তমান সরকার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে বলে তিনি দাবি করেন।

পদ্মা সেতু নিয়ে ষড়যন্ত্রের কথা উল্লেখ করে জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, পদ্মা সেতুতে কথিত দুর্নীতির অভিযোগ আন্তর্জাতিক আদালত নাকচ করে দিয়েছে। কানাডার আদালত বলেছে, ওই অভিযোগ ছিলো অনুমান নির্ভর ও গুজব ভিত্তিক। এর আগে আমাদের নেতা শেখ হাসিনা বিশ্ব ব্যাংককে গুডবাই জানিয়ে বলেছিলেন, নিজেদের অর্থায়নে পদ্মা সেতু হবে। এখন সেটা হচ্ছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই তা শেষ হবে। তিনি আরো বলেন, জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষক হলে আমিও স্বাধীনতার ঘোষক। বরিশালে আমি ও ছাত্রলীগের আরেক নেতা মাইকে স্বাধীনতার ঘোষণা প্রচার করেছিলাম। তিনি বলেন, ইতিহাস বিকৃতির অপচেষ্টা চলছে। বন্দুকের নল ঠেকিয়ে ক্ষমতায় এসে জিয়াউর রহমান দেশকে সাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র করার চেষ্টা করেছে। খালেদা জিয়াও তাই করছে। সন্ত্রাস-নৈরাজ্যের মাধ্যমে দেশকে ধ্বংসস্তুপে পরিণত করতে চেয়েছে।

আলোচনায় অংশ নিয়ে বিমানের দূরাবস্থার কথা তুলে ধরেন জাতীয় পার্টির মাহজাবীন মোর্শেদ। তিনি বলেন, বিমানে রোগীদের সেবা দেওয়ার ব্যবস্থা নেই। তাদেরকে টেনে-হিচড়ে বিমানে ওঠানো ও নামানো হয়। সেখানে নানা অব্যবস্থাপনা। যে কারণে দূর্ঘটনার শিকার হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও। অথচ বিমানের উপর নির্ভর করে দেশের পর্যটন ব্যবস্থার প্রসারতা। তাই বিমানে সেবার মান বাড়াতে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। সড়ক দূর্ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি দূর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান।

হকার উচ্ছেদের সমালোচনা করে মো. ইসরাফিল আলম বলেন, স্বল্প আয়ের মানুষের কাছে পণ্য পৌছে দেওয়ার ক্ষেত্রে হকারদের ঐতিহাসিক ও অসাধারণ অবদান রয়েছে। এটা কোন অবৈধ পেশা নয়। জিডিপিতে তাদের অবদান রয়েছে। এখন তাদেরকে অমানবিক ভাবে বুলডোজারদের দিয়ে উচ্ছেদ করা হচ্ছে। অথচ প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, পূনর্বাস ছাড়া কোন হকার উচ্ছেদ করা যাবে না। তিনি বলেন, এতে চুরি-ডাকাতি বেড়ে যাবে। আইন-শৃক্সখলা পরিস্থিতির অবনতি হবে। সামাজিক অস্থিরতা বাড়বে। তাই পূনর্বাসন ছাড়া অমানবিক ভাবে হকার উচ্ছেদ বন্ধ করতে হবে। তিনি অবৈধ শ্রমিক ধর্মঘট আহ্বানের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন বলেন, আমরা ক্যান্টমেন্ট থেকে আসিনি। জনগনের ভোটের মাধ্যমে ক্ষমতায় এসেছি। জনগনের সেবায় নিবেদিত আছি। কিন্তু কিছু ব্যক্তি ও দল ক্ষমতায় যেতে ইতিহাসকে বিকৃত করছে। টকশোতে আলোচনা শুনে আমরা কষ্ট পাই। এটা বন্ধ করতে হবে। তিনি আরো বলেন, পঁচাত্তরের ষড়যন্ত্র হয়েছিলো। এখনো ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত চলছে। এর পিছনে স্বাধীনতা বিরোধীদের ইন্ধন রয়েছে। এই ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে এগিয়ে যেতে হবে।

সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের খতিয়ান তুলে ধরে হাবিবুর রহমান মোল্লা বলেন, বর্তমান সরকারের উন্নয়ন ও অগ্রগতি আজ বিশ্বব্যাপী সমাদৃত হচ্ছে। আর এই উন্নয়নের নেতৃত্বের কারণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এখন বিশ্বের প্রভাবশালী নেতাদের একজন। তাই আগামী নির্বাচনেও আওয়ামী লীগের বিজয় নিশ্চিত করতে হবে।

মো. আব্দুল্লাহ বলেন, বিদ্যুৎ উৎপাদনে সরকার নতুন রেকর্ড সৃষ্টি করেছে। এরমাধ্যমে দেশকে অন্ধকার থেকে আলোতে আনা সম্ভব হয়েছে। বিএনপি-জামায়াত জোটের আমলে দেশ অন্ধকারে ছিলো। আজও যারা রামপাল নিয়ে আন্দোলন করছে তারা দেশকে অন্ধকারের দিকে ফিরিয়ে নিতে চায়।


মন্তব্য