kalerkantho


'বন্ধ হয়ে যাওয়া রেল স্টেশনগুলো পর্যায়ক্রমে চালু করা হবে'

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২ মার্চ, ২০১৭ ১৭:০৩



'বন্ধ হয়ে যাওয়া রেল স্টেশনগুলো পর্যায়ক্রমে চালু করা হবে'

বন্ধ হয়ে যাওয়া রেল স্টেশনগুলো পর্যায়ক্রমে চালু করা হবে জানিয়ে এক অনুষ্ঠানে রেলপথ মন্ত্রী মুজিবুল হক এমপি বলেছেন, ‘বন্ধ হয়ে যাওয়া রেল স্টেশনগুলোর মধ্যে কমপক্ষে ৬০টি স্টেশন দ্রুত চালু করা হবে। ’
রেলমন্ত্রী আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর রেল ভবনে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ‘বঙ্গবন্ধু সেতু রেল সংযোগ’ প্রকল্পের পরামর্শক নিয়োগে চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন।


বাংলাদেশ রেলওয়ের পক্ষে রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অবকাঠামো) কাজী রফিকুল আলম এবং পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের পক্ষে জাপানের অরিয়েন্টাল কনসালট্যান্স গ্লোবাল কোম্পানী লিমিটেডের মহাব্যবস্থাপক রায়োহেই ইশি নিজ নিজ পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।
এ সময় রেল সচিব ফিরোজ সালাহউদ্দিন ও রেলওয়ের মহাপরিচালক আমজাদ হোসেন, জাইকার বাংলাদেশ প্রতিনিধি তাকাটোসি নিশিকাতা, বাংলাদেশে জাপান দূতাবাসের ফার্স্ট সেক্রেটারী তোসিউকি নোগুচিসহ রেলপথ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
রেলপথ মন্ত্রী বিগত বিএনপি-জামায়াত জোটসরকারের সময়কালে রেল স্টেশন বন্ধ হওয়ার কথা উল্লেখ করে বলেন, আমাদের নেত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার আমলে রেলপথের উন্নয়ন হয়, আর বিএনপি তথা বেগম খালেদা জিয়ার আমলে রেলপথ ধ্বংস করে। আমাদের নেত্রী শেখ হাসিনা মানুষের কল্যাণে কাজ করেন, আর বিএনপি ক্ষমতায় এসে ধ্বংস করে। আর এটাই হলো আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে মূল পার্থক্য।
তিনি বলেন, চট্রগ্রাম থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত রেল লাইন নির্মাণের জন্য প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। এই সরকারের আমলে রেলের উন্নয়নে সকল প্রকল্প শেষ করা হবে। রেলপথের দৃশ্যমান উন্নয়ন করা হবে।
মুজিবুল হক আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্যোগে রেলের উন্নয়নে ‘বঙ্গবন্ধু সেতু রেল সংযোগ’ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। বর্তমান সরকারের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় প্রকল্পটি আলোর মুখ দেখেছে। এটি বাস্তবায়িত হতে যাচ্ছে জাপান ও জাইকার সহযোগিতায়। এই প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে জনগণের ব্যাপক কাজে লাগবে, উপকারে আসবে। এই প্রকল্প সম্পন্ন হলে দেশের পূর্ব-পশ্চিম-উত্তরাঞ্চলের মধ্যে যাত্রী ও পণ্য পরিবহণের ক্ষেত্রে বিরাট উপকারে আসবে। সার্বিকভাবে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন সাধিত হবে।  
রেলপথ মন্ত্রী বলেন, যমুনা নদীর ওপর নতুন রেলসেতু নির্মাণ খুবই জরুরি। এই সেতু নির্মিত হলে উত্তর ও পশ্চিম অঞ্চল সহ সমগ্র দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। আরো নতুন ট্রেন চালানো যাবে, অতিরিক্ত মালামাল পরিবহন করা সম্ভব হবে। ফলে সেতুটি দেশের অর্থনীতিতে বিরাট অবদান রাখবে বলে মন্ত্রী উল্লেখ করেন।
মন্ত্রী আরো বলেন, সরকার সারাদেশের রেল যোগাযোগ উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে। নতুন নতুন লাইন নির্মাণ করা হচ্ছে। কোচ আনা হচ্ছে। সবকিছুর উদ্দেশ্য যাত্রীদের সেবা বাড়ানো। আগামী দু’বছরের মধ্যে রেলের অনেক প্রকল্প শেষ হলে যাত্রীদের অধিক হারে সেবা দেয়া সম্ভব হবে বলে মন্ত্রী উল্লেখ করেন।
রেলমন্ত্রী জাপান ও জাইকার এই প্রকল্পে এগিযে আসার জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, আজকে আমরা পরামর্শক সেবা চুক্তি স্বাক্ষর করছি। এরপর মূল কাজের প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু করবো।
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে জানানো হয়, পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এই প্রকল্পের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা হালনাগাদকরণ, এনভায়রনমেন্টাল ইমপ্যাক্ট আসেসম্যান্ট প্রতিবেদন চুড়ান্তকরণ, ডিটেইল্ড ইনভেস্টিগেশন ও সার্ভে পরিচালনা করে ডিটেইল্ট ডিজাইন, ড্রইং, প্রাক্কলন ও দরপত্র দলিল প্রণয়ন, দরপত্র প্রক্রিয়া ও মূল্যায়নে সহায়তা এবং নির্মাণ কাজ সুপারভিনে সেবা প্রদান করা হবে।
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে জানানো হয়, সরকার জাতীয় এবং উপ-আঞ্চলিক রেল যান চলাচলের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণ করার লক্ষ্যে বিদ্যমান বঙ্গবন্ধু সেতুর সমান্তরালে একটি পৃথক রেল সেতু নির্মাণের জন্য সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। এ লক্ষ্যে ‘বঙ্গবন্ধু সেতু রেল সংযোগ’ নামক একটি প্রকল্প ২০১৬ সালের ৬ ডিসেম্বর একনেক সভায় অনুমোদিত হয়। প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৯ হাজার ৭৩৪ দশমিক শূন্য ৭ কোটি টাকা।
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে আরও জানানো হয়েছে, ৮ ফেব্রুয়ারি সিসিজিপি সভায় পরামর্শক ক্রয় প্রস্তাব মোট সমমূল্য ৭৪৭ কোটি ৫৮ লাখ লাখ টাকায় অনুমোদিত হয়েছে, যার মধ্যে আয়কর-ভ্যাট বাবদ ১৫৮ দশমিক ৯৪ কোটি টাকার সংস্থান রয়েছে। আর আজ পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের সাথে পরামর্শক সেবার জন্য রেলওয়ের সাথে চুক্তি পত্র স্বাক্ষরিত হলো।
এ সময় আরো জানানো হয, পরামর্শক কর্তৃক বিশদ অনুসন্ধান করে ডিটেইল্ড ডিজাইন ও প্রাক্কলন প্রণয়ণের পর মূল সেতুসহ অন্যান্য নির্মাণ কাজ শুরু করা হবে।


মন্তব্য