kalerkantho


সংসদে আইনমন্ত্রী

ভুয়া পুলিশের নানান অপরাধে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হচ্ছে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ২০:৪১



ভুয়া পুলিশের নানান অপরাধে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হচ্ছে

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল জানিয়েছেন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখে ধুলো দিয়ে ছদ্মবেশে ভুয়া পুলিশরা নানান অপরাধ করছে। একের পর এক অপরাধের ঘটনায় দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সরকারের ভাবর্মূতি ক্ষুণ্ণ হচ্ছে।  

আজ মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এতথ্য জানান। স্বতন্ত্র সদস্য আব্দুল মতিনের প্রশ্নের লিখিত জবাবে মন্ত্রী আরো জানান, অপরাধীরা তাদের অপরাধের ধরণ বিভিন্ন সময়ে পরিবর্তন করে থাকে। আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখে ধুলো দিয়ে নিজেদেরকে ছদ্মবেশে রেখে ভুয়া পুলিশ পরিচয়ে ডাকাতি, ছিনতাই ও অপহরণের মতো অপরাধ সংঘটিত হওয়ার ঘটনা ঘটছে। এতে দেশের আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সরকারের ভাবর্মূতি ক্ষুণ্ণ হচ্ছে। এ বিষয়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।

মন্ত্রী আরো জানান, অপরাধের সঙ্গে জড়িত কিছু সংখ্যক প্রতারক গোষ্ঠীকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে। এছাড়া পুলিশের জন্য নির্ধারিত পোশাক ও হ্যান্ডকাপ খোলাবাজারে বিক্রি নিয়ন্ত্রণে আনার পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। পুলিশ সদস্যদেরকে তাদের ব্যবহৃত পোশাকের সাথে নিজস আইডি কার্ড ব্যবহারের জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড সমর্থন করে না ওয়ার্কার্স পার্টির বেগম হাজেরা খাতুনের প্রশ্নের লিখিত জবাবে মন্ত্রী জানান, বাংলাদেশে কোন বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বিদ্যমান নেই।

বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার জনগণের মৌলিক অধিকার রক্ষা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ। এই সরকার কোনভাবেই বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড  সমর্থন, অনুমোদন ও অনুসমর্থন অথবা উৎসাহিত করে না। আইনসংগত দায়িত্ব কর্তব্য পালনের ক্ষেত্রে কোনরূপ ব্যাত্যয় পরিলক্ষিত হলে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হয় বলেও তিনি উল্লেখ করেছেন।

বঙ্গবন্ধুর পলাতক খুনীদের ফিরিয়ে আনতে চেষ্টা চলছে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য বেগম রিফাত আমিনের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, জাতির পিতার খুনীদের দেশে ফিরিয়ে এনে দণ্ড কার্যকর করতে গঠিত টাস্কফোর্স সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। পলাতক ছয় খুনীর বিরুদ্ধে ইন্টারপোল রেড নোটিশ জারি রয়েছে। ইন্টারপোল সদস্যভূক্ত সকল দেশের এনসিবিকে বিদেশে পলাতক এসব খুনীদের সম্পর্কে প্রয়োজনীয় তথ্য প্রেরণ করা হয়েছে। তিনি আরো জানান, বঙ্গবন্ধুর খুনী এ এম রাশেদ চৌধুরীর অবস্থান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এবং অপর খুনী এস এইচ এম বি নূর চৌধুরীর অবস্থান কানাডাতে সনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার সঙ্গে বাংলাদেশের বন্দী বিনিময় চুক্তি না থাকায় এই দুই খুনীকে ফেরত আনতে বিলম্ব হচ্ছে। তবে খুনীদের দেশে ফিরিয়ে আনা ত্বরান্বিত করতে কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রে ল-ফার্ম নিয়োগের জন্য সংশ্লিষ্ট দূতাবাসকে নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।


মন্তব্য