kalerkantho


আদালতে ন্যায়বিচার পাইনি : সিফাতের মা

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ১৫:২৮



আদালতে ন্যায়বিচার পাইনি : সিফাতের মা

আদালতে আমরা ন্যায়বিচার পাইনি বলে দাবি করেছেন সিফাতের মা। সিফাতকে হত্যা করা হলেও আদালত আত্মহত্যার প্ররোচণার অভিযোগে ১০ বছরের সাজা দিয়েছেন।

আমরা সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড আশা করেছিলাম। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী ওয়াহিদা সিফাত হত্যা মামলায় স্বামী আাসিফকে ১০ বছর কারাদণ্ডের আদেশের প্রতিক্রিয়ায় সিফাতের মা ফারজানা খাতুন কথাগুলো বলছিলেন। এ সময় তিনি আদালত কক্ষে কান্নায় ভেঙে পড়েন। সিফাতের বাবা ও ভাবি জানান, তারা ন্যায়বিচারের জন্য উচ্চ আদালতে যাবেন।

ঢাকা দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল ৩ এর বিচারক সাঈদ আহম্মেদ সোমবার দুপুরে রায় ঘোষণার সময় বলেন, সিফাতকে হত্যা করা হয়নি, মামলার সাক্ষ্যপ্রমাণ বলে সে আত্মহত্যা করেছে। তাদের প্রেমের বিয়ে ছিল। গত ২৯-৩-১৫ তারিখে সিফাতকে চাকরির পরীক্ষা দিতে ঢাকায় আসতে না দেওয়ায় সে হয়তো স্বামীর সঙ্গে বিবাদে জড়িয়ে এমন কাজ করেছে। এ ক্ষেত্রে স্বামীর আত্মহত্যার প্ররোচনা ছিল। তাই দণ্ডবিধির ৩০৬ ধারায় অভিযুক্ত করে তাকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হলো।

এ ছাড়া অভযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় সিফাতের শ্বশুর, শাশুড়ি ও ডাক্তারকে খালাস দিয়েছেন আদালত। এর আগে ১২ ফেব্রুয়ারি আসামি ও রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শেষে রায় ঘোষণার জন্য ২৭ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করেন ট্রাইব্যুনাল।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০১৫ সালের ২৯ মার্চ সন্ধ্যায় রাজশাহী মহানগরীর মহিষবাগান এলাকায় অ্যাডভোকেট হোসেন মোহাম্মদ রমজানের বাড়িতে রহস্যজনক মৃত্যু হয় গৃহবধূ ওয়াহিদা সিফাতের। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ছিল। প্রথমে সিফাত আত্মহত্যা করেছে বলে তার শ্বশুরবাড়ির লোকজন দাবি করলেও দ্বিতীয় দফার ময়নাতদন্তে হত্যাকাণ্ড প্রমাণিত হয়। এ ঘটনায় ২ এপ্রিল মহানগরীর রাজপাড়া থানায় সিফাতের চাচা মিজানুর রহমান খন্দকার সিফাতের স্বামী, শ্বশুর ও শাশুড়ির নাম উল্লেখ করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ২০০০ ধারায় যৌতুকের দাবিতে হত্যা ও সহায়তা করার অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করেন।

২০১৬ সালের ২৩ মার্চ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডির সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আহম্মেদ আলী চারজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। এ মামলার চার আসামি ছিলেন নিহত সিফাতের স্বামী মো. আসিফ পিসলি, সিফাতের শ্বশুর হোসেন মোহাম্মদ রমজান, শাশুড়ি নাজমুন নাহার নজলী এবং প্রথম ময়নাতদন্তারী চিকিৎসক জোবাইদুর রহমান।

 


মন্তব্য