kalerkantho


২৫ মার্চকে জাতীয় গণহত্যা দিবস হিসেবে পালনের আহ্বান নৌমন্ত্রীর

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ১৭:২৯



২৫ মার্চকে জাতীয় গণহত্যা দিবস হিসেবে পালনের আহ্বান নৌমন্ত্রীর

শ্রমিক কর্মচারী পেশাজীবী মুক্তিযোদ্ধা সমন্বয় পরিষদ ও আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ গণবিচার আন্দোলনের আহ্বায়ক ও নৌ পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান ২৫ মার্চকে জাতীয় গণহত্যা দিবস পালন করার জন্য দেশবাসীকে আহ্বান জানিয়েছেন। আজ রবিবার দুপুরে সেগুনবাগিচার স্বাধীনতা হলে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই আহ্বান জানান।
 
তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের ২৫ শে মার্চ বিশ্বের গণহত্যার ইতিহাসেরও এক উদাহরণযোগ্য স্মরণীয় দিন। ওই রাতে পাকিস্তানি হানাদার সেনাবাহিনী কাপুরুষের মত রাতের অন্ধকারে পৈশাচিক হিংস্রতা নিয়ে ঘুমন্ত বাঙালি জাতির উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে।
 
শাজাহান খান বলেন, সামরিক শাসক ইয়াহিয়ার নির্দেশে জেনারেল টিক্কা খানের নেতৃত্বে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী “অপারেশন সার্চ লাইট” নামে সামরিক অভিযান চালায়, যা ইতিহাসের জঘন্য ও নৃশংসতম নির্মম গণহত্যা। তাই অন্য যে কোন দিনের চেয়ে এই দিনটি শুধু বাঙ্গালি জাতির কাছেই নয়। এটা ছিল মূলতঃ বিশ্ব সভ্যতার জন্য এক কলংকজনক জঘন্যতম গণহত্যার সূচনা মাত্র। শুধুমাত্র ২৫ মার্চ রাতেই বাংলাদেশে প্রায় এক লক্ষ মানুষকে হত্যা করা হয়েছিল, যা গণহত্যার ইতিহাসে এক জঘন্যতম ভয়াবহ ঘটনা।
 
নৌমন্ত্রী বলেন, মুক্তিযুদ্ধের নয় মাসে ৩০ লক্ষ নিরপরাধ নারী-পুরুষ-শিশুকে হত্যার মধ্যে দিয়ে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসররা সৃষ্টি করেছিল সেই বর্বর ইতিহাস, যা নিষ্ঠুরতা ও সংখ্যার দিক দিয়ে ১৯৩৩-৪৫ সালে ইহুদী হলোকাস্ট ও ১৯৪৪ সালে রুয়ান্ডার গণহত্যাকেও অতিক্রম করে গেছে। তাদের সংঘটিত গণহত্যা, ধর্ষণ ,লুন্ঠন, অগ্নিসংযোগ সবই ১৯৪৮ সালের ১১ ডিসেম্বর জাতিসংঘ কর্তৃক গৃহীত ‘জেনোসাইড কনভেনশন’ শীর্ষক ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তে বর্ণিত সংজ্ঞায় গণহত্যার চূড়ান্ত উদাহরণ।
 
তিনি বলেন, ২৫ মার্চ রাতে রাজারবাগ পুলিশলাইন, পিলখানার তৎকালীন ইপিআর ক্যাম্প, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হল, রোকেয়া হল ও জহরুল হক হলসহ সারা ঢাকা শহরে তারা ব্যাপক হত্যাযজ্ঞ চালায়। তিনি ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের গণহত্যাকে জাতিসংঘ কর্তৃক স্বীকৃতি দানে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রস্তাব করেন।
 
মন্ত্রী বলেন, জাতীয় সংসদের চলতি অধিবেশনে ২৫ মার্চকে জাতীয় গণহত্যা দিবস ঘোষণা ও জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায়ের লক্ষ্যে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের উদ্যোগে নেওয়া হচ্ছে।
 
এ ছাড়াও সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ২৫ মার্চকে জাতীয় গণহত্যা দিবস ঘোষণা ও জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক মহলে গণহত্যা দিবসের স্বীকৃতি আদায়ের লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ গণবিচার আন্দোলন, ঢাকায় ও দেশব্যাপী ভিন্ন ভিন্ন কর্মসূচি পালন করার সিদ্বান্ত গ্রহণ করেছে।
 
অনুষ্ঠানে সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দর মধ্যে বীর মুক্তিযোদ্ধা ইসমত কাদির গামা ও শ্রমিক নেতা আলাউদ্দিন, আবদুল জলিল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
 

মন্তব্য