kalerkantho


বাংলাদেশকে নিয়ে ভারত চীনের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে না যুক্তরাষ্ট্র: বার্নিকাট

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০২:৪৮



বাংলাদেশকে নিয়ে ভারত চীনের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে না যুক্তরাষ্ট্র: বার্নিকাট

মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাট বলেছেন, বাংলাদেশকে নিয়ে ভারত বা চীনের সাথে যুক্তরাষ্ট্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে না। আমি বিশ্বাস করি একটি অগ্রসর, নিরাপদ ও স্থিতিশীল বাংলাদেশের লক্ষ্যকে ভারত, চীন ও যুক্তরাষ্ট্র সমর্থন করে।

উচ্চাভিলাষী উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জনে বাংলাদেশকে সহায়তা দেয়ার জন্য একের বেশি দেশের ভালো ধারণা ও সম্পদ প্রয়োজন রয়েছে। 'চীন, ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র: বাংলাদেশে প্রতিযোগিতামূলক সহযোগিতা' বিষয়ক এক সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাষ্ট্রদূত একথা বলেন।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীতে ইন্ডিপেডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ (আইইউবি) এই সম্মেলনের আয়োজন করে। বার্নিকাট বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন স্থানের প্রকল্পগুলোতে উন্মুক্ত প্রতিযোগিতার মাধ্যমে অংশ নিতে যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলো আগ্রহী।  

তবে ব্যবসার পরিবেশ হতে হবে পরিষ্কার ও স্বচ্ছ এবং আইন ও বিধি-বিধান হতে হবে প্রয়োগযোগ্য। দরপত্র সুষ্ঠুভাবে মূল্যায়ন করতে হবে, বুদ্ধিভিত্তিক সম্পদকে শ্রদ্ধা জানানো হবে এবং অংশীদার হিসেবে সাথে থাকা বেসরকারি খাত ও সরকার তাদের চুক্তি পূরণ করতে হবে। তবেই যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলোর আস্থা অর্জন করা যাবে।

তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলো আন্তর্জাতিক শ্রম আইন, পরিবেশ ও মান বাস্তবায়ন করে থাকে। এই মান স্থানীয় শিল্পগুলো অর্জন করলে বাংলাদেশী কোম্পানিগুলো আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতায় আরো সক্ষমতা অর্জন এবং অধিকতর বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে পারবে।

দক্ষিণ এশিয়াকে বিশ্বের সবচেয়ে 'অসম্পৃক্ত অঞ্চল' হিসেবে আখ্যায়িত করে রাষ্ট্রদূত বলেন, আঞ্চলিক কানেক্টিভিটির অভাবে বাংলাদেশ ও তার প্রতিবেশী দেশগুলো ব্যাপক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। বিদেশী বিনিয়োগ আকর্ষণ ও আঞ্চলিক উৎপাদন কেন্দ্রে পরিণত হওয়ার জন্য বাংলাদেশের অর্থনীতিতে মৌলিক সব উপাদান রয়েছে।  

এসবের মধ্যে রয়েছে দুই দশকের বেশি সময় ধরে ছয় শতাংশের অধিক বার্ষিক প্রবৃদ্ধি, তারুণ্যনির্ভর বড় নির্ভরযোগ্য শ্রমশক্তি, ১৬ কোটি মানুষের বিশাল অভ্যন্তরীণ বাজার, সক্রিয় বেসরকারি খাত এবং দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্য কৌশলগত ভৌগলিক অবস্থান।

২০২১ সালের মধ্যে মধ্যআয়ের দেশে পরিণত হওয়ার সরকারের লক্ষ্যের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই লক্ষ্য অর্জিত হলে স্বল্পোন্নত দেশ হিসাবে বাংলাদেশ বেশকিছু অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্যিক সুবিধা হারাবে। তাই ২০২১ সালের আগেই জ্বালানী, পরিবহন, প্রতিবেশীদের সাথে বাণিজ্যিক যোগাযোগ বৃদ্ধি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির গতিকে অব্যাহত রাখতে সহায়ক হবে।


মন্তব্য