kalerkantho


হত্যা মামলা প্রত্যাহার নিয়ে সংসদ সদস্যদের পাল্টাপাল্টি বক্তব্য

নিজস্ব প্রতিবেদক    

২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ১৮:৪৫



হত্যা মামলা প্রত্যাহার নিয়ে সংসদ সদস্যদের পাল্টাপাল্টি বক্তব্য

রাজনৈতিক বিবেচনায় হত্যা মামলা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তে পাল্টা-পাল্টি বক্তব্য উত্থাপন করেছেন সরকার ও বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্যরা। বর্তমান সরকারের দায়ের করা মামলা রাজনৈতিক বিবেচনায় প্রত্যাহার করা হলে ওই হত্যাকান্ডের বিচারের কি হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিরোধী দল জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য পৗর ফজলুর রহমান।

জবাবে প্রধান হুইপ আ স ম ফিরোজ এরশাদ সরকারের আমলেও একই ঘটনা ঘটেছিলো বলে দাবি করেছেন।  আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে পয়েন্ট অব অর্ডারে আলোচনার সুযোগ নিয়ে তারা এই পাল্টা-পাল্টি বক্তব্য উত্থাপন করেন।

এ সময় সংসদ অধিবেশন পরিচালনার দায়িত্বে থাকা ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট মো. ফজলে রাব্বি মিয়া বলেন, সরকার মামলা সুপারিশ করলেই মামলা প্রত্যাহার হবে এটা ঠিক নয়। আদালত সুপারিশ বিবেচনা করে দেখবে। আর যথাযথ ভিত্তি থাকলে সরকারের যে কোন মামলা প্রত্যাহারের সুপারিশ করার ক্ষমতা রয়েছে। খবরের কাগজের উপর ভিত্তি করে অনুমান ভিত্তিক বক্তব্য সংসদে না দেওয়ার আবেদন জানান তিনি।  

এর আগে একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত খবরের উদ্ধৃতি দিয়ে পীর ফজলুর রহমান বলেন, সরকার আবারো রাজনৈতিক মামলা প্রত্যাহেরর উদ্যেগ নিয়েছে। ১৯৯০ সালের পর সাবেক রাষ্ট্রপতি এইচ এম এরশাদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত রাজনৈতিক মামলাগুলো প্রত্যাহার না করা হলেও সম্প্রতি ৩৪টি হত্যা মামলাসহ মোট ২০৬টি মামলা প্রত্যাহারের সুপারিশ করেছে মন্ত্রণালয়। এসব মামলার অধিকাংশই আওয়ামী লীগের দুই সরকারের আমলে দায়ের করা।

আবার অনেক মামলার বাদি সরকার নিজেই। এরমধ্যে গত বছরে করা মামলাও প্রত্যাহারের তালিকায় রয়েছে।

সরকারে ওই সিদ্ধান্তের কঠোর সমালোচনা করে জাপা সংসদ সদস্য বলেন, সরকারের দায়ের করা মামলা, সরকার কিভাবে রাজনৈতিক হয়রানিমূলক বলে? এ নিয়ে সবাই বিষ্মিত। এরমধ্যে হত্যার পাশাপাশি ধর্ষণ, ছিনতাই, নাশকতা, ঘুষ লেনদেন, সরকারি টাকা আত্মসাত, ডাকাতি ও অস্ত্র মামলা রয়েছে। তিনি বলেন, এর আগে গত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ৭ হাজার ১৯৮টি মামলা প্রত্যাহারের সুপারিশ করা হয়েছিল। ইতোমধ্যে আদালত থেকে সুপারিশকৃত অনেকগুলো প্রত্যাহার করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, এভাবে রাজনৈতিক বিচেনায় হত্যা মামলা প্রত্যাহার করা হলে যাদের পরিবারের সদস্য খুন হয়েছে, তারা কি বিচার পাবে না? এই ৩৪টি হত্যা মামলায় কেউ না, কেউ তো খুন হয়েছে। ওই হত্যাকান্ডগুলোর বিচারের কি হবে?

এরপর ফ্লোর নিয়ে সরকারী দলের সদস্য ও প্রধান হুইপ আ স ম ফিরোজ বলেন, বিরোধী দলে থাকলে অনেক কথাই বলা যায়। পত্রিকার খবর দেখে অনেক বক্তব্য দেওয়া যায়। কোনটা সত্য, আর কোনটা অসত্য এটা যাচাই করার প্রয়োজন হয় না। বিগত জাতীয় পার্টি সরকারের আমলে এ ধরণের অনেক ঘটনা ঘটেছে দাবি করে তিনি বলেন, হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ যখন রাষ্ট্রপতি ছিলেন, তখন আমাদের গাজীপুরের ময়েজ উদ্দিন ভাইকে হত্যা করা হলো। ওই হত্যা মামলার মূল আসামী আজম খান। তাকে সঙ্গে নিয়ে এরশাদ সাহেব গাজীপুরে গিয়ে তাকে ভাই বলে পরিচয় করে দিলেন। পরে তাকে হত্যা মামলা থেকে অব্যহতি দেওয়া হলো।  

'বিরোধী দলীয় সদস্যের বক্তব্য সঠিক নয়'- এ দাবি করে আ স ম ফিরোজ বলেন, উনি ৩৪টি হত্যা মামলার কথা বলেছেন। কিন্তু কিসের ভিত্তিতে? পত্রিকায় দেখে এই সরকারের ভাবমুর্তি নষ্ট করে এধরণের বিবৃতি দেওয়া কোনমতই গ্রহণযোগ্য নয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী আগামীতে এবিষয়ে সংসদে বিবৃতি দিবেন বলে আশাকরি। তিনি আরো বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার আইনের শাসনে বিশ্বাস করে। মামলার বিচার নিশ্চিত করে। আর বিএনপি ও এরশাদের আমলে বঙ্গবন্ধু হত্যাকারী ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার না করে তাদেরকে সরকারের বিভিন্ন পদে বসানো হয়েছিলো। জনগনের স্বার্থ বিরোধী কোন কাজ আওয়ামী লীগ করবে না বলে তিনি দাবি করেন।


মন্তব্য