kalerkantho


'অবৈধ পার্কিংকারীদের গাছের সঙ্গে বাঁধা হবে'

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ১০:৫৮



'অবৈধ পার্কিংকারীদের গাছের সঙ্গে বাঁধা হবে'

দীর্ঘদিন ধরেই এই নগরে নাগরিক ভোগান্তির অন্যতম কারণ যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং। সর্বসম্প্রতি এই বিষয়টি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। নগরে যেমন বেড়েছে মানুষ, তেমন বেড়েছে গাড়ি- সেই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে যত্রতত্র অবৈধ গাড়ি পার্কিং এবং সাধারণ মানুষের অসীম ভোগান্তি। আর মানুষের এই অবর্ণনীয় ভোগান্তির প্রতি এবার দৃষ্টি ফেলেছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আনিসুল হক। তিনি এবার সরব হয়েছেন ফুটপাত বা রাস্তার ধারে গাড়ি পার্কিং করা চালকদের প্রতি।

মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে মঙ্গলবার সকালে গুলশান হেলথ ক্লাব পার্কে এক আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে তিনি এ ধরনের চালকদের প্রতি স্পষ্ট হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, যে গাড়ির চালকরা ফুটপাথে বা রাস্তার ধারে গাড়ি পার্কিং করবেন, তাদের গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখা হবে। গুলশান হেলথ ক্লাবের সভাপতি এম এ কাদের খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সহসভাপতি রেজাউর রহমান।

তিনি বলেন, খুব বেশি দিন বাকি নেই যেদিন থেকে কোনো চালক আর ফুটপাতে গাড়ি পার্কিং করতে পারবেন না। ফুটপাতে গাড়ি দেখলেই ওই গাড়ির চালককে গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখা হবে। তাকে পুলিশে সোপর্দ করা হবে। তিনি আরও যোগ করেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওই চালকের ছবি ছড়িয়ে দেওয়া হবে।

এ সময় মেয়র আনিসুল হক গুলশান হেলথ ক্লাবের জন্য একটি জিমনেশিয়াম তৈরি করে দেওয়ার ঘোষণা দেন। আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে আনিসুল হক বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিশেষ কোনো ঘটনায় পুরো জাতি এক হয়ে যায়। রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে ১৯৫২ সালে বাঙালি জাতি এক হয়েছিল। পরে আরও কয়েকটি ঘটনায় গোটা জাতি এক হয়েছিল। সব কাজেই এখন জাতিকে প্রেরণা দেয় একুশের চেতনা।

এ সময় মেয়র জানান, তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর ঢাকাকে ক্লিন, গ্রিন ও লাইটিং করতে বেশকিছু পদক্ষেপ নিয়েছেন। এ তিনটি কাজ সফলভাবে সম্পন্ন করতে তিনি সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

তিনি বলেন, উত্তর সিটি করপোরেশনের সব রাস্তার মোড়ে থাকবে সিসি ক্যামেরা। গুলশানসহ অনেক এলাকার রাস্তায় ইতিমধ্যে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। আগামী জুন থেকে রাস্তায় জ্বলবে এলইডি লাইট। এ বছরের মধ্যেই ৬০ ভাগ এলইডি লাইট স্থাপনের কাজ শেষ করা হবে। বাসায় বসে রিমোটের মাধ্যমে এসব লাইট নিয়ন্ত্রণ করা যাবে।

গুলশানের হকারদের 'অনেক বেশি প্রভাবশালী' উল্লেখ করে মেয়র বলেন, এখানকার কোনো কোনো বাড়ির মালিক ফুটপাত দখল করে বাড়ি বানিয়েছেন। ফুটপাতের ওপর নিরাপত্তাকর্মীদের ঘর বানিয়েছেন। তাদের পিটিয়ে তুলতে গেলে আমাদেরই পিটিয়ে বিতাড়িত করতে চায়। শেষ পর্যন্ত তাদেরও সিটি করপোরেশনের আদেশ মানতে বাধ্য করা হয়েছে। একসময় রাজধানী ঢাকা ছিল বিলবোর্ডের নগরী। কারও সঙ্গে কথা বলা ছাড়াই ইতিমধ্যে ২০ হাজার বিলবোর্ড উচ্ছেদ করা হয়েছে।


মন্তব্য