kalerkantho


কেউ ভিক্ষা করবে না এবং না খেয়ে থাকবে না : প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদ   

২২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ২৩:১৮



কেউ ভিক্ষা করবে না এবং না খেয়ে থাকবে না : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা জানিয়েছেন, বর্তমান সরকারের প্রধান লক্ষ্যই হচ্ছে স্থায়ীভাবে দারিদ্র্য মুক্তির মাধ্যমে একটি ক্ষুধামুক্ত মধ্যম আয়ের বাংলাদেশ বিনির্মাণ করা। দেশের একটি লোকও ভিক্ষা করবে না, না খেয়ে থাকবে না। তারা যাতে নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে স্বাবলম্বী হয়ে উঠতে পারে সেটিই বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের লক্ষ্য। আজ বুধবার ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট মো. ফজলে রাব্বি মিয়ার সভাপতিত্বে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে লিখিত জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।

সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য বেগম আখতার জাহানের প্রশ্নের জবাবে তিনি আরো জানান, ২০২১ সালের মধ্যে দেশকে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত করার লক্ষে দারিদ্র্য সীমার নীচে অবশিষ্ট ১ কোটি ৮০ লাখ লোককে সম্পৃক্ত করে ৩ কোটি মানুষের জন্য ২০১৬ সালের ২৫ অক্টোবর একনেক সভায় ৮ হাজার ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের কার্যক্রম ২০২০ সালের জুন পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে।  

প্রধানমন্ত্রী জানান, একটি বাড়ি একটি খামার আমার নিজস্ব চিন্তাপ্রসূত একটি দারিদ্র্য বিমোচন মডেল। এটি ক্ষুদ্র ঋণের পরিবর্তে ক্ষুদ্র সঞ্চয়কে প্রতিষ্ঠিত করেছে। প্রতিটি গ্রামে ৬০টি দরিদ্র পরিবার নিয়ে একটি গ্রাম সংগঠন গড়ে তোলা হয়েছে, যার মধ্যে ৪০ জনই নারী। দরিদ্র মানুষ সপ্তাহে ৫০ টাকা অর্থাৎ মাসে ২০০ টাকা সঞ্চয় করলে আমরা তাকে ২০০ টাকা বোনাস দিচ্ছি। এভাবে আমরা দুই বছরে একটি গ্রাম সংগঠনে মোট ৯ লাখ টাকার স্থায়ী তহবিল গড়ে দিচ্ছি। অনুরূপভাবে এ পর্যন্ত ৪০ হাজার ২১৩টি সমিতির ২২ লাখ পরিবার তথা ১ কোটি ২০ লাখ মানুষের ৩ হাজার ১৪৪ কোটি টাকার তহবিল গড়ে দেওয়া হয়েছে।

এ অর্থের মালিক দরিদ্র জনগোষ্ঠী। সরকার কখনই এ অর্থ ফেরত নেবে না। এটি তাদের স্থায়ী আমানত হিসেবে থাকবে।

বিশ্বে তৈরি পোশাক রফতানিতে শুল্ক ও কোটামুক্ত প্রবেশ সরকারি দলের এম আবদুল লতিফের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী সংসদকে জানান, বিশ্বে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে শুল্কমুক্ত ও কোটামুক্ত প্রবেশাধিকার বিস্তৃতি করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে সরকার। এরফলে ইতোমধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশ সমূহসহ বেশ কিছু দেশ পোশাক রপ্তানিতে বাংলাদেশকে শুল্কমুক্ত সুবিধা প্রদান করেছে। তিনি জানান, রপ্তানি বাণিজ্যের গুণগত পরির্বতন এবং বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান নিশ্চিত করতে রপ্তানি নীতি ২০১৫-২০১৮ প্রণয়ন করা হয়েছে। রপ্তানি বান্ধব নীতি ও সফল বাণিজ্যিক অর্থনীতির কারণে বিভিন্ন দেশ বাংলাদেশকে শুল্কমুক্ত, কোটামুক্ত প্রবেশাধিকার দিচ্ছে এবং সুবিধা বিস্তৃত করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।  

সংসদ নেতা জানান, বর্তমানে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশসমূহ, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, জাপান, সুইজারল্যান্ড, নরওয়ে, চীন, ভারত ইত্যাদি দেশ তৈরি পোশাক রপ্তানিতে বাংলাদেশকে শুল্কমুক্ত সুবিধা দিচ্ছে। রপ্তানি সম্ভাবনা গুরুত্বপূর্ণ বাজার বিশেষ করে রাশিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, জাপান, ব্রাজিল, চীন, ভারত, দক্ষীণ কোরিয়া প্রভৃতি দেশে রপ্তানি বিপণন উন্নয়নের জন্য সে সকল দেশে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় অধিক হারে অংশগ্রহণসহ বাণিজ্য প্রতিনিধিদল পাঠানো হচ্ছে।

দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি সরকারি দলের সংসদ সদস্য গোলাম দস্তগীর গাজীর লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট এবং তা হলো জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বন। বর্তমান সরকারের অন্যতম লক্ষ্য হচ্ছে দেশের প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে দুর্নীতিমুক্ত করা। বিমানকে দুর্নীতিমুক্ত করার লক্ষ্যে সরকার ইতোমধ্যে নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহন করেছে। তিনি আরো জানান, সরকারের লক্ষ্য ও পরিকল্পনা হচ্ছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সকে দুর্নীতিমুক্ত একটি আধুনিক ও সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলা এবং বিমানের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহীতা প্রতিষ্ঠা করা। তিনি জানান, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন তথা বিশ্বে বাংলাদেশকে বিমান চলাচলের ক্ষেত্রে প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের হাব হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে ঢাকার আশে পাশে সর্বাধুনিক আন্তর্জাতিক মান সম্পন্ন 'বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর' শীর্ষক নতুন বিমানবন্দর নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।  

জাসদের নাজমুল হক প্রধানের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, বর্তমান সরকার ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত জ্ঞানী ও শিক্ষিত হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। দেশকে একটি জ্ঞানী ও শিক্ষিত জাতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় বর্তমানে দেশের শিক্ষা, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির খাতের উন্নয়নে বহুবিধ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। আমাদের সময়ে শিক্ষা ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন সাধিত হয়েছে। একটি যুগোপযোগি শিক্ষানীতি প্রণয়ন করা হয়েছে এবং তা পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।  
পাশ্ববর্তী দেশের সঙ্গে মহাসড়ক নেটওয়ার্ক জাতীয় পার্টির নূরুল ইসলাম ওমরের প্রশ্নের জবাবে সংসদ নেতা জানান, বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার মহাসড়ক নেটওয়ার্ক উন্নয়নের জন্য নিরবিচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছে। পাশ্ববর্তী দেশের সঙ্গে মহাসড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়নের লক্ষ্যে সরকার কর্তৃক বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহন করা হয়েছে। তিনি জানান, ভৌগলিক অবস্থানগত সুবিধার কারণে ৫টি আন্তঃদেশীয়, আঞ্চলিক ও উপ-আঞ্চলিক মহাসড়ক নেটওয়ার্ক উদ্যোগের সঙ্গে বাংলাদেশ সম্পৃক্ত। তিনি আরো জানান, বিবিআইএন স্বাক্ষরিত হওয়ার ফলে চার দেশের (বাংলাদেশ-ভুটান-নেপাল ও ভারত) মধ্যে ব্যক্তিগত গাড়ি, যাত্রীবাহী যানবাহন এবং পণ্য পরিবহণের জন্য পণ্যবাহী যান চলাচল করতে পারবে। ইতোমধ্যে ভারত বাংলাদেশ ও নেপাল চূক্তিটি অনুসমর্থন করেছে। আশা করা যায় ভুটানও সহসাই চূক্তিটি অনুসমর্থন করবে। চার দেশের অনুসমর্থনের পর চুক্তিটি বাস্তবায়ন হবে।  

জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি সরকারি দলের কামরুল আশরাফ খানের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, বৈদেশিক সাহায্য নির্ভরতা ছাড়া বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি ও ক্ষতি মোকাবেলায় বিশেষ প্রস্তুতি নিয়েছে। উন্নত দেশগুলোর মাত্রারিক্ত শিল্পায়নের কারণে বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি পেয়ে জলবায়ুর পরিবর্তন ঘটছে। বাংলাদেশ এ জন্য দায়ী না হয়েও মারাত্মকভাবে দুর্যোগের শিকার হচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তন জনিত বিপর্যয় রক্ষার জন্য সরকার নিরলসনভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এ ক্ষেত্রে সঠিক ও সমর্থিত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন এবং সরকারের দৃঢ় পদক্ষেপ গ্রহন জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ক্ষতি মোকাবেলায় সরকারের সাফল্যের মূল কারণ।  

নুরুল ইসলাম মিলনের প্রশ্নের জবাবে সংসদ নেতা জানান, ওয়াল্ড ইকোনমিক ফোরাম সম্মেলনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে বিশ্বের শীর্ষ বহুজাতিক কোম্পানি, ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগে যথেস্ট আগ্রহী করা সম্ভব হয়েছে। বর্তমান অর্থনীতি কেন্দ্রীক রাজনৈতিক প্রেক্ষিত বিবেচনায় ডব্লিউইএফ ফোরামে অংশগ্রহণ বাংলাদেশের জন্য সুদূরপ্রসারী সুফল বয়ে আনবে। সার্বিক বিবেচনায় এ সম্মেলনটি বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ছিল এবং ফলপ্রসূ হয়েছে বলে আমি মনে করি।


মন্তব্য