kalerkantho


সংসদে মুুক্তিযুদ্ধের সংগঠকদের প্রাপ্য স্বীকৃতি প্রদানের দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ২২:০৬



সংসদে মুুক্তিযুদ্ধের সংগঠকদের প্রাপ্য স্বীকৃতি প্রদানের দাবি

জাতীয় সংসদে মুক্তিযুদ্ধের সংগঠকদের প্রাপ্য সম্মান ও স্বীকৃতি প্রদানের জন্য সরকারের প্রতি দাবি জানিয়েছেন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য তাহজীব আলম সিদ্দিকী। তিনি বলেন, স্বাধীনতা যুদ্ধে অবদানকারী হিসেবে এযাবৎকাল যাদের পুরস্কৃত করা হয়েছে তারা মুলত উর্দিপরা লোকজন। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের সকল সংগঠকদের প্রাপ্য সম্মান ও স্বীকৃতি আজও দেওয়া হয়নি।  

আজ বুধবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে পয়েন্ট অব অর্ডারে আলোচনার সুযোগ নিয়ে তিনি এ দাবি জানান। এ সময় সংসদ অধিবেশনে সভাপতিত্বকারী ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট মো. ফজলে রাব্বি মিয়া বলেন, এই বক্তব্যটি ভাল। আপনি গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেছেন। কিন্তু নোটিশ দিয়ে কোন এক বিধিতে এ বিষয়টি আনলে ভাল হত এবং হয়তো সংসদ তা গ্রহণও করত। এরআগে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তাহজীব আলম সিদ্দিকী বলেন, ইতিহাসের পূর্ণতাই হলো ইতিহাস বিকৃতির বিরুদ্ধে রক্ষাকবচ। একথা সত্য, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ দীর্ঘ আন্দোলন, সংগ্রাম এবং রাজনৈতিক ত্যাগ ও তিতিক্ষার গৌরবগাঁথা এক ইতিহাসের ফসল। আর এই সুদীর্ঘ রাজনৈতিক আন্দোলনের মহানায়ক ছিলেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তাঁর নির্দেশেই বাঙালির অধিকার আদায়ের পটভূমি তৈরি করেছিলেন তাঁরই আস্থাভাজন ৬০ দশকের ছাত্রলীগের অসংখ্য নেতাকর্মী ও পরবর্তীতে মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক।

তিনি এসময় বঙ্গবন্ধুর আদর্শের উত্তরসুরী ৮ নেতার নাম উল্লেখ করেন। তাঁরা হলেন শেখ ফজলুল হক মণি, সিরাজুল আলম খান, প্রয়াত আবদুর রাজ্জাক, তোফায়েল আহমেদ, তাঁর বাবা নূরে আলম সিদ্দিকী, শাহজাহান সিরাজ, আ স ম আব্দুর রব ও প্রয়াত আবদুল কুদ্দুস মাখন।  

তিনি বলেন, উর্দিপরা লোকেরা বিভিন্ন সময়ে বীর শ্রেষ্ঠ, বীর প্রতীক, বীর বিক্রমসহ বিভিন্ন খেতাব পেলেও এসব সংগঠকদের কোনো সরকারই সন্মানিত করেনি। ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের অন্যতম সদস্যরা পুরো উত্তাল মাস জুড়েই জাতিকে চূড়ান্ত সশস্ত্র বিপ্লবের জন্য তৈরি করায় যাদের ছিল অবস্মরণীয় ভূমিকা, সেই চার খলিফাখ্যাতদের অন্যতম আবদুল কুদ্দুস মাখনদের ভাগ্যে কিছু জোটে না। তাহজীব আলম সিদ্দিকী আরো বলেন, তোফায়েল আহমেদ মূল্যায়িত হলেও ৬৯ এর গণঅভ্যুত্থানের মহানায়ক হিসেবে মূল্যায়িত হননি। তাঁকে অবিস্মরণীয় করে রাখার মতো কিছু করতে পারিনি। যে কারণে ৭৫ পরবর্তী সেনাশাসিত সরকার আমাদের মুক্তিযুদ্ধকে একজন মেজরের আকস্মিক ঘোষণা এবং নয় মাসের সশস্ত্র যুদ্ধকে বিপ্লবের মধ্যে সীমাবদ্ধ করে রাখবে সেটাই স্বাভাবিক। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী দল ক্ষমতায় থাকার পরেও স্বাধীনতার ইতিহাস পূর্ণতা পাবে না, এটি বিস্ময়কর।


মন্তব্য