kalerkantho


'রাজীব হত্যার মাস্টারমাইন্ডকে কেও চিনিয়ে দেননি'

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০৯:৫৫



'রাজীব হত্যার মাস্টারমাইন্ডকে কেও চিনিয়ে দেননি'

ব্লগার রাজীব হত্যার মাস্টারমাইন্ড রানার গ্রেপ্তার বিষয়ে নিজের ফেসবুক টাইমলাইনে স্টেটাস দিয়েছেন কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম। তিনি লিখেছেন, যারা ভুয়া ঠিকানায় পাসপোর্ট তৈরিতে সহায়তা করেছেন, তাদের খুঁজে বের করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে! তদন্ত করে রানাকে শনাক্ত এবং দেরিতে হলেও ফিরে পাওয়া গেছে।

এ জন্য কি কোনো কৃতিত্বই আমাদের নেই? পুরো বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক তোলাটি কি খুব যৌক্তিক? নাকি মাস্টারমাইন্ড এখনও ধরা-ছোঁয়ার বাইরে-এ কথা বলার সুযোগটা হাতছাড়া হয়ে গেল বলে আফসোস? মঙ্গলবার বিকেল ৫টার দিকে তার ফেসবুকে পোস্ট করা এক স্টেটাসে তিনি এসব কথা বলেন।

মনিরুল ইসলাম তার স্টেটাসে উল্লেখ করেছেন, কোনো সাক্ষী ব্লগার রাজীব হত্যার মাস্টারমাইন্ড রেদোয়ানুল আজাদ রানাকে চিনিয়ে দেননি, কোনো অনুসন্ধানী সংবাদ প্রতিবেদন কিংবা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের স্টেটাস বা কমেন্টও তাকে শনাক্ত করার ক্ষেত্রে কোনও রকম ভূমিকা রাখেনি। গোয়েন্দা পুলিশ শূন্য থেকেই তদন্ত শুরু করে দুই মাস পরে খুনিদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে। নিজের ফেসবুক টাইমলাইনে মনিরুল ইসলাম উল্লেখ করেন, খুনিদের জিজ্ঞাসাবাদে মাস্টারমাইন্ড হিসেবে রানার নাম বেরিয়ে আসে! শুধু রানার নাম ও শারীরিক বর্ণনা থেকে রানার প্রকৃত পরিচয় উদ্ঘাটন করতে গোয়েন্দা পুলিশের কয়েকমাস লেগে যায়।

তার প্রকৃত পরিচয় উদ্ঘাটনের আগেই রানা মালয়েশিয়ায় পালিয়ে যায়, যা গোয়েন্দারা নিশ্চিত হওয়ার পর মালয়েশিয়ান গোয়েন্দা সংস্থা ও পুলিশকে তার ছবিসহ প্রোফাইল পাঠায় ২০১৪ সালে। শুধু অনুরোধ পাঠিয়ে বসে না থেকে বার বার অনুরোধ অব্যাহত রাখেন বাংলাদেশের গোয়েন্দারা! ফল পেতে দীর্ঘ সময় লেগে যায়! মালয়েশিয়ান গোয়েন্দারা বাংলাদেশের গোয়েন্দাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রানাকে শনাক্ত করে ধরে বাংলাদেশমুখী ফ্লাইটে তুলে দেন। ফলে ঢাকায় তাকে গ্রেপ্তার না করে হেফাজতে নেওয়ার সুযোগ আছে কি?

উল্লেখ্য, সোমবার ২০ ফেব্রুয়ারি দুপুর ২টার দিকে রাজধানীর উত্তরা থেকে ব্লগার রাজিব হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী ও ফাঁসির দণ্ডাদেশপ্রাপ্ত আসামি রেজওয়ানুল আজাদ রানাকে এক সহযোগীসহ গ্রেফতার করে পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট। এর আগে ২০১৩ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি রাতে রাজধানীর পল্লবীতে নিজ বাসার সামনে কুপিয়ে হত্যা করা হয় ব্লগার রাজীব হায়দারকে। এ ঘটনায় ২০১৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর রেজওয়ানুল আজাদ রানাসহ দুই জনকে মৃত্যুদণ্ড এবং ৬ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ডের আদেশ দেন ঢাকার ৩ নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক সাঈদ আহম্মেদ।

 


মন্তব্য