kalerkantho


ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় বিদ্রোহী গোষ্ঠীর কোনো ক্যাম্প বাংলাদেশে নেই

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০৯:০৮



ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় বিদ্রোহী গোষ্ঠীর কোনো ক্যাম্প বাংলাদেশে নেই

বাংলাদেশের মাটিতে কোনো ধরনের ভারতবিরোধী তৎপরতা চলতে দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবুল হোসেন। তিনি বলেন, 'ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় বিদ্রোহী গোষ্ঠীর কোনও ক্যাম্পের অস্তিত্ব বাংলাদেশে নেই।

' ৪৪তম সীমান্ত সহায়তা সম্মেলনে মঙ্গলবার (২১ ফেব্রুয়ারি) ভারতের বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্সের (বিএসএফ) মহাপরিচালক কে কে শর্মাকে এ বার্তা দিয়েছেন বিজিবির মহাপরিচালক। মঙ্গলবার এ খবর দিয়েছে ভারতের বার্তা সংস্থা পিটিআই।

খবরে বলা হয়, ৪৪তম সীমান্ত সহায়তা সম্মেলনে বাংলাদেশ ও ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর পক্ষ থেকে এক যৌথ বিবৃতি দেওয়া হয়েছে। এই বিবৃতিতে বলা হয়েছে, 'বিজিবির মহাপরিচালক জানিয়েছেন, বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ভারতীয় কোনো বিদ্রোহী গোষ্ঠীর ক্যাম্প বা গোপন আস্তানার উপস্থিতি নেই। ' তিনি আরও উল্লেখ করেছেন, 'বাংলাদেশ তার মাটিকে কোনো দেশের প্রতি বিরূপ কোনো শক্তি বা গোষ্ঠীকে ব্যবহারের অনুমোদন করে না। দেশের সর্বোচ্চ নেতৃত্ব থেকেই এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। '

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, 'বাংলাদেশে ভারতীয় বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর চিহ্নিত গোপন আস্তানা ‍গুঁড়িয়ে দেওয়ার জন্য বিজিবির প্রতি আরও সহায়তার আহ্বান জানিয়েছেন বিএসএফের মহাপরিচালক। এ ছাড়া, ওইসব বিদ্রোহীদের অপহরণের শিকার ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপদে মুক্তি দেওয়ার আহ্বানও জানান তিনি। '

শনিবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) শুরু হয়েছে পাঁচ দিনব্যাপী এই সীমান্ত সহায়তা সম্মেলন।

অস্ত্র, গোলাবারুদ, বিস্ফোরক পদার্থ, ইয়াবাসহ অন্যান্য মাদক, জাল ব্যাংক নোট, স্বর্ণ, গবাদি পশু প্রভৃতির চোরাচালানসহ ইন্দো-বাংলাদেশ সীমান্তে (আইবিবি) ডাকাতি, চুরি, অপহরণের মতো আন্তঃসীমান্ত অপরাধ দমনে সমন্বিত সীমান্ত ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনার (সিবিএমপি) গুরুত্ব তুলে ধরা হচ্ছে এই সম্মেলনে। উভয় দেশই সিবিএমপি বাস্তবায়নে সম্মত হয়েছে।

সম্মেলনে উভয় দেশই মানবপাচার ও অবৈধ অনুপ্রবেশ প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে সম্মত হয়েছে। সম্মেলনে যোগ দেওয়া উভয় দেশের প্রতিনিধি দলই নিজেদের জনবলের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সংগঠিত অপরাধ তৎপরতার তথ্য আদান-প্রদান, সীমান্তে নজরদারি বৃদ্ধিসহ যৌথ উদ্যোগ গ্রহণে সম্মত হয়েছে। এ লক্ষ্যে দুই দেশের মধ্যবর্তী সীমান্তে অপরাধের ঝুঁকিপ্রবণ এলাকাচিহ্নিত মানচিত্র সময়ের সঙ্গে সঙ্গে হালনাগাদ করা এবং প্রয়োজনে মহপরিচালক পর্যায়ে বৈঠকও আয়োজন করা হবে বলে জানানো হয়েছে ওই যৌথ বিবৃতিতে।

সম্মেলনে বিজিবির মহাপরিচালক সীমান্তে বাংলাদেশিদের ওপর গুলিবর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ জানিয়েছেন। একইসঙ্গে সীমান্তে হত্যার ঘটনাকে শূন্যে নামিয়ে আনতে বিএসএফের সর্বোচ্চ সতর্কতা ও ভারতীয় নাগরিকদের সংবেদনশীল করে তোলার ওপর জোর দিয়েছেন।

সীমান্তে প্রাণঘাতী নয়, এমন কৌশল সীমান্তে মৃত্যুর ঘটনা কমিয়ে আনতে সবচেয়ে সফল প্রমাণিত হলেও এ ধরনের কৌশল বিএসএফ সদস্যদের ওপর অপরাধীদের হামলার ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি করেছে বলে উল্লেখ করেন বিএসএফের মহাপরিচালক। তিনি বিএসএফকর্মীদের আত্মরক্ষার জন্য প্রাণঘাতী নয় এমন অস্ত্রের ব্যবহারেরও আহ্বান জানান।

এ ছাড়া, বাংলাদেশি নাগরিকদের ভারতীয় সীমান্তে অনুপ্রবেশ ঠেকাতে তিনি বিজিবির সহায়তা কামনা করেন বলেও জানানো হয়েছে যৌথ বিবৃতিতে।


মন্তব্য