kalerkantho


বাংলা ভাষার চর্চা বাড়ছে কওমি মাদ্রাসায়

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০৪:২৬



বাংলা ভাষার চর্চা বাড়ছে কওমি মাদ্রাসায়

মাতৃভাষা বাংলার ব্যবহার দিনে দিনে বাড়ছে কওমি মাদ্রাসাসহ কওমিপন্থী সংগঠনগুলোতে। কয়েকবছর আগেও মাদ্রাসাগুলোয় বাংলা ভাষার ইতিহাসের চর্চা সীমিত ছিল।

দীর্ঘদিন ধরে কওমি মাদ্রাসাগুলোতে আরবি, উর্দু ও ফার্সি ভাষায় পাঠদান করা হতো। সেই ধারাকে ভেঙে বাংলা ভাষার চর্চা বাড়ছে কওমি অঙ্গনে। রাজধানীতে অবস্থিত কওমি মাদ্রাসাগুলোর সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড পর্যালোচনায় এমন চিত্র পাওয়া গেছে।

কিছু দিন আগেও বাংলা ভাষাকে হীন চোখে দেখা হতো কওমি অঙ্গনে। শহীদ দিবসেও ছুটি ছিল না। কওমি মাদ্রাসাগুলোয় কোনও আয়োজন ছিল না। তবে ধীরে-ধীরে বদলে যাচ্ছে ধ্যান-ধারণা। শুধু ছুটিই নয়, অনেক মাদ্রাসায় আয়োজিত হচ্ছে জাতীয় দিবসে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের। অন্যান্য জাতীয় দিবসের পাশাপাশি শহীদ দিবসে কওমি মাদ্রাসা চলে বিশেষ অনুষ্ঠান।

এরই ধারাবাহিকতায় ভাষা শহীদদের জন্য মঙ্গলবার রাজধানীর বড়কাটারা মাদরাসায় দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ দিন সকাল ১১টায় মাদ্রাসাটির হলরুমে শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া পরিচালনা করেন মাদ্রাসার মুহতামিম মুফতি সাইফুল ইসলাম।

এ আয়োজন প্রসঙ্গে বড়কাটারা মাদ্রাসার মুতাওয়াল্লি ও সদরে মুহতামিম মাওলানা আবুল হাসানাত আমিনী বলেন, ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি এদেশের সালাম, বরকত, রফিক, জব্বার বুকের তাজা রক্ত দিয়েছেন। মাতৃভাষা খোদার সেরা দান। মাতৃভাষায় আমরা কথা বলব, হাসব, কাঁদব; এটা আমাদের জন্মগত অধিকার। এ অধিকার কেড়ে নেওয়ার ক্ষমতা কারও নেই। ভাষা শহীদদের জন্য দোয়া করা আমাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য। এটা তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাবার উৎকৃষ্ট পন্থা।

উল্লেখ্য, ব্রিটিশদের ইংরেজ শিক্ষা ব্যবস্থাকে প্রতিহত করে ইসলামধর্ম ভিত্তিক শিক্ষার সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ১৮৬৬ সালে মাওলানা কাসেম নানুতবীর ভারতের দারুল উলুম দেওবন্দ মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন। এই মাদ্রাসাটিই কওমি মাদ্রাসা হিসেবে প্রতিষ্ঠা পায়। ব্রিটিশদের শাসন আমল এবং তার আগে দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলে ফার্সি ভাষার প্রচলন ছিল। এরপর  উর্দুর প্রচলনও বাড়ে। কোরআন, হাদিসের ব্যাখ্যা সংবলিত গ্রন্থগুলো আরবিতে লিখিত হলেও এ অঞ্চলে ফার্সিতে অনূদিত হয়। ধীরে-ধীরে আরবি-ফার্সি ভাষায় লেখা বইগুলোর ব্যাখ্যা  উর্দুতে প্রকাশিত হতে থাকে। ফলে কওমি  মাদ্রাসাগুলো ফার্সি-উর্দু নির্ভর হয়ে পড়ে। ধর্মীয় বইগুলো আরবিতে রচিত হলেও পড়ানো হতো এই দুই ভাষাতেই। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পরও দীর্ঘদিন যাবত এই রীতি মেনে চলে কওমি মাদ্রাসাগুলো।  সম্প্রতি এই রীতির বাইরে যাওয়ার জন্য লড়ছেন তরুণরা। বাংলা ভাষার প্রতি ভালোবাসাই এই উদ্যোগে আগ্রহী করে তুলেছে। গণমাধ্যমেও বাড়ছে কওমি ঘরানার ব্যক্তিদের পদচারণা।

কওমি মাদ্রাসা থেকে পড়াশোনা করেছেন তারেক আজিজ। কয়েকটি দৈনিক পত্রিকায় প্রদায়ক হিসেবে কাজ করেছেন দীর্ঘ সময়। বর্তমানে দ্য সুলতান নামের একটি অনলাইন ম্যাগাজিনের হেড অব ক্রেয়েটিভ হিসেবে কাজ করছেন। মাদ্রাসার ছাত্রদের বাংলাচর্চা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সময়ের সঙ্গে-সঙ্গে মানুষের চিন্তার পরিবর্তন ঘটছে। তরুণরা নিজের দেশ, ভাষা নিয়ে ভাবছে। অনেকদিন ধরেই কওমি অঙ্গন পিছিয়ে ছিল নিজের সংস্কৃতি চর্চায়। এখন অনেকেই সাহিত্যচর্চা করছেন। আর পিছিয়ে থাকার সময় নেই বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।


মন্তব্য