kalerkantho


শাহজালাল বিমানবন্দরে ২৬টি সোনার বারসহ আটক ২

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ১৯:৫০



শাহজালাল বিমানবন্দরে ২৬টি সোনার বারসহ আটক ২

হযরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৃথক ঘটনায় মোট ৩ কেজি ওজনের ২৬টি সোনার বারসহ দুই যাত্রীকে আটক করা হয়েছে। গতকাল সোমবার রাতে সোনার বারসহ তাদের আটক করে ঢাকা কাস্টমস হাউজের প্রিভেনটিভ টীম কর্তৃপক্ষ। আটককৃত সোনার বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় ১ কোটি ৩৬ লাখ টাকা।

সোনার বারসহ যাদের আটক করেছে তারা হচ্ছেন- মো. মামুন হোসাইন (৩২) ও মোসলেম উদ্দিন (৩৩)। আটককৃত যাত্রী মামুন হোসাইন ও মোসলেম উদ্দিনকে বিমানবন্দর থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।

সোনার চালান আটকের খবর নিশ্চিত করে আজ মঙ্গলবার ঢাকা কাস্টমস হাউজের প্রিভেনটিভ টীমের সহকারী কমিশনার এ এইচ এম আহসানুল কবির জানান, মালয়েশিয়া থেকে মালিন্দো এয়ারলাইন্সের (ওডি-১৬২) নম্বরের বিমানটি গতকাল সোমবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে ঢাকা হযরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। আর ওই বিমানের যাত্রী ছিলেন মুন্সিগঞ্জ জেলার বাসিন্দা মো. মামুন হোসাইন (৩২)। তিনি হযরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নেমে গ্রিন চ্যানেল এলাকা দিয়ে বাইরে বের হওয়ার সময় ঢাকা কাস্টমস হাউজের প্রিভেনটিভ টীমের সদস্যরা তার কাছে শুল্কযোগ্য কোন ধরনের পণ্যসামগ্রী আছে কিনা সেটি জানতে চান। তখন জিঞ্জাসাবাদে যাত্রী মামুন হোসাইন শুল্ক কর্মকর্তাদের নিকট অস্বীকার করেন। পরে প্রিভেনটিভ টীমের কর্মকর্তারা সাথে থাকা চার্জার লাইটের ব্যাটারী স্ক্যান করেন। এ সময় ব্যাটারীর মধ্যে ৬টি করে মোট ১৮টি সোনার বারের সন্ধ্যান খুঁজে পান।

যার ওজন ১ কেজি ৮০০ গ্রাম। বাংলাদেশি টাকায় উদ্বার হওয়া সোনার মূল্য প্রায় ৯০ লাখ টাকা।  

তিনি আরো জানান, প্রাথমিক জিঞ্জাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃত মো: মামুন হোসাইন (৩২) ঘটনার কথা পরবর্তীতে স্বীকার করেন। আটক করা সোনার বারগুলো কাস্টমস এর হেফাজতে আছে। তার বিরুদ্ধে সোনা চোরাচালান আইনে একটি মামলা দায়ের এবং তাকে বিমানবন্দর থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।

এ ছাড়াও ঢাকা কাস্টমস হাউজের সহকারী যুগ্ম কমিশনার এস এম সোহেল রহমান জানান, আজ মঙ্গলবার সকাল পৌনে ১০টার দিকে মাস্কাট থেকে চট্রগ্রাম হয়ে রিজেন্ট এয়ারলাইন্স (আরএক্র - ০৭২৪) নম্বরের বিমানটি ঢাকা হযরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছায়। ওই বিমানের যাত্রী ছিলেন চট্রগ্রাম জেলার বাসিন্দা মোসলেম উদ্দিন (৩৩)।  

ঢাকা কাস্টমস হাউজের গোয়েন্দা প্রিভেনটিভ টীমের কর্মকর্তারা জানান, যাত্রী মোসলেম উদ্দিন চট্রগ্রাম থেকে বিমানে উঠে বিমানের টয়লেটে গিয়ে শরীরের মলদ্বার দিয়ে ৮টি সোনার বার তার পেটের মধ্যে কৌশলে প্রবেশ করান। তিনি হযরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নেমে গ্রিন চ্যানেল এলাকা দিয়ে বাইরে বের হওয়ার সময় ঢাকা কাস্টমস হাউজের প্রিভেনটিভ টীমের সদস্যরা তাকে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে আটক করে। পরে তাকে হাসপাতালে নিয়ে তার শরীর ও পেটেরএক্স-রে করে ৯২৮ গ্রাম সোনার বারের সন্ধ্যান পান। যার মধ্যে ৮টি সোনার বার রয়েছে। প্রতিটি সোনার বারের ওজন ১০ তোলা। উদ্বার হওয়া সোনার বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় ৪৬ লাখ টাকা। পৃথক পৃথক ঘটনায় আটক করা ২৬টি সোনার বার বর্তমানে ঢাকা কাস্টমস হাউজের হেফাজতে রয়েছে।  

কর্মকর্তারা আরো জানান, আটককৃত যাত্রী মো. মামুন হোসাইন (৩২) ও মোসলেম উদ্দিন বিরুদ্ধে সোনা চোরাচালান আইনে বিমানবন্দর থানায় পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। তাদের দুজনকে বিমানবন্দর থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।


মন্তব্য