kalerkantho


সংবাদ সম্মেলনে বিএসএফ মহাপরিচালক

'অপরাধীদের দ্বারা বিএসএফ সদস্যদের আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা বেড়েছে'

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ১৯:২০



'অপরাধীদের দ্বারা বিএসএফ সদস্যদের আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা বেড়েছে'

সীমান্তে মৃত‌্যুর সংখ‌্যা কমে আসার পর এখন অপরাধীদের দ্বারা ভারতীয় সীমান্ত রক্ষীদের আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা বেড়ে গেছে বলে দাবি করেছে বিএসএফ। ঢাকায় সীমান্ত সম্মেলনে এই দাবি করেন বিএসএফ মহাপরিচালক কে কে শর্মা।

গত ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে বিজিবি ও বিএসএফ মহাপরিচালক পর্যায়ের ৪৪তম সীমান্ত সম্মেলন শুরু হয়। সম্মেলন শেষে আজ মঙ্গলবার যৌথ সংবাদ সম্মেলনে আসেন বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবুল হোসেন ও বিএসএফ প্রধান কে কে শর্মা।

এ সময় বিএসএফ মহাপরিচালক বলেন, “প্রাণঘাতী নয়, এমন কৌশল অবলম্বন করার ফলে মৃত্যুর ঘটনা কমিয়ে আনা গেলেও অপরাধীদের দ্বারা বিএসএফের সদস্যদের ওপর আক্রমণের ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ”

তবে শর্মা দাবি করেন, তার বাহিনীর সদস‌্যরা ‘আত্মরক্ষার্থেই’ অস্ত্র ব‌্যবহার করেন। তবে ‘নন-লেথাল’ অস্ত্র দিয়ে ‘ফায়ার’ করেন।

এদিকে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব‌্যে বলা হয়, “বিজিবি মহাপরিচালক বাংলাদেশি নাগরিকদের গুলি করা ও হত্যার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং এ ধরনের মৃত্যুর ঘটনা শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে বিএসএফ কর্তৃক সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন ও ভারতীয় নাগরিকদের সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। ”

সীমান্তে হত্যার ঘটনা বিজিবি ও বিএসএফ যৌথভাবে তদন্ত করবে- এমন প্রস্তাব থেকে ফিরে আসার বিষয়ে বিজিবি প্রধান আবুল হোসেন বলেন, “কোনো হত্যাকাণ্ডের ঘটনার তদন্ত বিএসএফ বা বিজিবি করতে পারে না। তদন্ত করে উভয় দেশের পুলিশ। ”

এ ছাড়াও সম্মেলনে সীমান্তে মৃত্যু শূন‌্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে গবাদি পশু ও মাদক চোরাচালানপ্রবণ এলাকায় সমম্বিত যৌথ টহল, সীমান্ত এলাকায় বসবাসকারী জনসাধারণকে আন্তর্জাতিক সীমান্তের বিধি-নিষেধ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিজিবি ও বিএসএফ কর্তৃক যৌথ পদক্ষেপ গ্রহণ করার বিষয়ে উভয়পক্ষ সম্মত হন।

এর পাশপাশি উভয়পক্ষ পারস্পরিক আস্থা বাড়াতে যৌথ প্রশিক্ষণ, অনুশীলন, দুঃসাহসিক প্রশিক্ষণ, কায়কিং, র‌্যাফটিং, সাইক্রিং, রোয়িং, মাউন্টেইন ক্লাইম্বিং ইত্যাদি পদক্ষেপ গ্রহণেও একমত হয় ।

তা ছাড়াও উভয় মহাপরিচালক সীমান্ত হাটের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং সীমান্ত পর্যটন উৎসাহিত করা লক্ষ্যে নিজ নিজ দেশের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে সুপারিশ করতে সম্মত হয়।  

পিলখানায় বিজিবি সদর দপ্তরে এই সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেন বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবুল হোসেনের নেতৃত্বে ২৬ সদস্যের বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল এবং বিএসএফ প্রধান কে কে শর্মার নেতৃত্বে ১৯ সদস্যের ভারতীয় প্রতিনিধি দল। এই দুই বাহিনীর মহাপরিচালক পর্যায়ের পরবর্তী সম্মেলন হবে এ বছরের অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে নয়াদিল্লিতে।


মন্তব্য