kalerkantho


ডিইপিজেডে শ্রমিক অসন্তোষ

নিজস্ব প্রতিবেদক, সাভার   

১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ২২:০৪



ডিইপিজেডে শ্রমিক অসন্তোষ

শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে আশুলিয়ায় বিদেশি বিনিয়োগকারী একটি তৈরি পোশাক কারখানার কয়েকজন শ্রমিককে সাময়িক ভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। শ্রমিকরা ১৬৫ জন শ্রমিককে সাময়িক বরখাস্তের কথা বললেও, পুলিশ বরখাস্তকৃত শ্রমিকের সংখ্যা ৪৬ জন বলে জানিয়েছেন।  

শ্রমিকদের অভিযোগ, প্রতিদিনের ন্যায় তারা আজ শনিবার সকালে কারখানার গেটে উপস্থিত হন। কিন্তু কারখানার নিরাপত্তাকর্মীরা ১৬৫ জন শ্রমিককে কারখানায় ঢুকতে না দিয়ে সাময়িক বরখাস্তের একটি চিঠি ধরিয়ে দেয়।  

শ্রমিকরা অভিযোগ করেন, কারখানার সহকারী উৎপাদন ব্যবস্থাপক নুরুল ইসলাম টিপু গত ২৬ জানুয়ারি কারখানার একজন নারী সুইং অপারেটরকে (২৫) যৌন হয়রানি করেন। ঘটনার পরদিন ওই নারী শ্রমিক তার ওপর চালানো যৌন হয়রানির প্রতিবাদ ও অভিযুক্ত কর্মকর্তার শাস্তি দাবি করলে কারখানা কর্তৃপক্ষ তাকে বরখাস্ত করে। শ্রমিকদের মধ্যে এ খবর ছড়িয়ে পড়লে তারা ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ১১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কর্মবিরতি পালন করে।  

কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ রাকিবুল ইসলাম যৌন হয়রানির অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, 'আর্থিক সঙ্কটের কারণে তারা শ্রমিকদের সময়মতো (৭ তারিখের মধ্যে) বেতন পরিশোধ করতে না পারায় শ্রমিকরা সহকারী উৎপাদন ব্যবস্থাপক নুরুল ইসলামকে মারধর এবং কারখানার আসবাবপত্র ভাঙচুর করে।  

কর্মবিরতি পালনকালে যেসকল শ্রমিক কারখায় ভাঙচুর করেছিল তাদের ৫০ জনকে ক্লোজসার্কিট ক্যামেরা ফুটেজের মাধ্যমে সনাক্ত করে কারণ দর্শানো নোটিশ প্রদান করা হয়েছে। তিনি বলেন, শ্রমিকদের দাবি অনুযায়ী তাঁরা ওই সহকারী উৎপাদন ব্যবস্থাপককে বরখাস্ত করেছেন। তবে, কি অভিযোগে তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে সে ব্যাপারে তিনি কিছু বলেন নি।

আশুলিয়া থানার ওসি মো মহসিনুল কাদির বলেন, মারপিট করার অভিযোগ এনে কারখানাটির সহকারী উৎপাদন ব্যবস্থাপক (এপিএম) নুরুল ইসলাম ১৮ জন শ্রমিকের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৫০ শ্রমিকের নামে একটি মামলা দায়ের করেছিলেন। তবে কোনো শ্রমিককে গ্রেপ্তার করা হয়নি।  

বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষের (বেপজা) মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) নাজমা বিনতে আলমগীর জানান, ওই কারখানার কিছু শ্রমিক বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের সঙ্গে জড়িত রয়েছে। তারা কারখানা ভাঙচুর ও উচ্চ পদস্থ একজন কর্মকর্তাকে মারধর করেছে। তিনি আরও বলেন, কারখানায় অস্থিরতা তৈরি করার জন্য যৌন হয়রানির ঘটনা তৈরি করা হয়েছিল।


মন্তব্য