kalerkantho


সিলেটে বিসাক নাট্যজন পদক প্রদান করলেন শিক্ষামন্ত্রী

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ২১:৪৫



সিলেটে বিসাক নাট্যজন পদক প্রদান করলেন শিক্ষামন্ত্রী

'নাটকে নাটকে উঠুক জ্বলে একাত্তর' শ্লোগানে প্রতিষ্ঠিত বিয়ানীবাজার সাংস্কৃতিক কমান্ড প্রবর্তিত বিসাক নাট্যজন সম্মাননা পদক-২০১৬ প্রদান ও আব্দুল ওয়াদুদ রচিত ‘নাট্যচর্চায় বিয়ানীবাজার’ গ্রন্থের প্রকাশনা অনুষ্ঠিত হয়েছে।  

শুক্রবার সকাল ১১ টায় উপজেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠেয় এ সম্মাননা পদক ও প্রকাশনায় প্রধান অতিথি ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ।
বিসাক’র সভাপতি নাট্যকার আব্দুল ওয়াদুদ এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন মাধ্যমিক উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড সিলেটের চেয়ারম্যান অধ্যাপক একেএম গোলাম কিবরিয়া তাপাদার, সিলেটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) শহীদুল ইসলাম চৌধুরী, বিয়ানীবাজার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আতাউর রহমান খান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুঃ আসাদুজ্জামান, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাছিব মনিয়া, বিসাক’র সাবেক সভাপতি ও নাট্যচর্চায় বিয়ানীবাজার গ্রন্থের প্রকাশক সভাপতি আব্দুস শুকুর।
বিসাক’র সাধারণ সম্পাদক আবিদ হোসেন জাবেদ এর সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য রাখেন, শিক্ষামন্ত্রীর একান্ত সহকারী সচিব দেওয়ান মাকুসুদল ইসলাম আউয়াল, সাংস্কৃতিক কর্মী এবাদ আহমদ, বিসাক’র নাট্য সম্পাদক আতিকুল ইসলাম রম্নকন, সহ-সভাপতি ছালেহ আহমদ শাহীন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, বৃটিশ শাসন আমল থেকে আমাদেরকে নিজস্ব সংস্কৃতি থেকে বিচ্ছিন্ন করার পায়তারা শুরু হয়েছে; পরবর্তীতে পাকিস্থানের বিভ্রান্ত আর মিথ্যাচারে বাঙালির আবহমান সংস্কৃতির মারাত্মক ক্ষতি সাধিত হয়েছে। মন্ত্রী বলেন, জাতীয় জীবনে চেতনা ছাড়া কোনো টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। দেশের অর্থনৈতিক, সামাজিক, রাজনৈতিক সামগ্রিক উন্নয়নে সংস্কৃতির বিকাশ তথা উন্নতি খুবই প্রয়োজন। এজন্য সবার সহযোগিতা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় সাংস্কৃতিক সংগঠনের পাশাপাশি সারাদেশে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সাংস্কৃতিক কার্যক্রম বাড়াতে হবে। বাস্তবায়িত করতে হবে অসাম্প্রদায়িক চিন্তার সম্ভবনাময় বাংলাদেশ।  
সম্মাননা পদক গ্রহণ করার অনুভূতি জানিয়ে গোলাম কিবরিয়া তাপাদার বলেন, কাজের স্বীকৃতি যদিও আনন্দের তথাপি আজকের এই সম্মাননার যোগ্য আমি নই। এই পদক আমার আগামীর পাথেয় হয়ে থাকবে।

 
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে কবি ফজলুল হক বলেন, নাট্য সংস্কৃতির চর্চার পরম্পরায় এতদ্বঞ্চলে কোনো গ্রন্থ ছিল না, নাট্যচর্চায় বিয়ানীবাজার গ্রন্থ জনপদের সুদীর্ঘ ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় এটি একটি ঐতিহাসিক প্রয়াস। তথ্য এবং সত্যের বিবরণে পরিপূর্ণ এ গ্রন্থ নাট্যাঙ্গণের গবেষণার ক্ষেত্রের মাইলফলক হয়ে থাকবে।
এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, বিয়ানীবাজার উপজেলা পরিষদের সাবেক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান রুমা চক্রবর্তী, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ডার আব্দুল কাদির, বিয়ানীবাজার আদর্শ মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ মুজিবুর রহমান, এমসি কলেজের সহযোগী অধ্যাপক শামস উদ্দিন, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ আলী, উপজেলা আওয়ামীলীগের সহসভাপতি ময়নুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন বাবুল, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক ছালেহ আহমদ বাবুল, বিয়ানীবাজার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান জিয়া উদ্দিন, পূর্ব মুড়িয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক খালেদ আহমদ, খলিল চৌধুরী আদর্শ বিদ্যানিকেতনের প্রধান শিক্ষক আব্দুল মালিক, উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক ইসলাম উদ্দিন, অ্যাডভোকেট আমান উদ্দিন, পঞ্চখণ্ড গোলাবিয়া পাবলিক লাইব্রেরির সাধারণ সম্পাদক আবু আহমদ সাহেদ, উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক আব্দুল কুদ্দুস টিটু প্রমুখ, বিয়ানীবাজার জার্নালিস্ট এসোসিয়েশনের সভাপতি আহমেদ ফয়সাল, সাধারণ সম্পাদক শাবুল আহমেদ প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে নাট্যাঙ্গণে স্থানীয় পর্যায় বিশেষ অবদানের জন্য প্রয়াত তাজ উদ্দিন (মরণোত্তর), মাধ্যমিক উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড সিলেটের চেয়ারম্যান একেএম গোলাম কিবরিয়া তাপাদার নাট্যজন পদক এবং ২০১৫ সালে ঘোষিত নাট্যাঙ্গণে সহযোগিতার অবদান রাখায় সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সিলেটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) শহীদুল ইসলাম চৌধুরীকে নাট্যজন পদক (বিশেষ) প্রদান করা হয়।


মন্তব্য