kalerkantho


ভাস্কর্য অপসারণে প্রধান বিচারপতিকে হেফাজতের স্মারকলিপি

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ১৯:৪১



ভাস্কর্য অপসারণে প্রধান বিচারপতিকে হেফাজতের স্মারকলিপি

সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে ন্যায়বিচারের প্রতীক হিসেবে স্থাপিত ভাস্কর্যকে ‘গ্রিক দেবীর মূর্তি’ আখ্যায়িত করে তা অপসারণের দাবিতে প্রধান বিচারপতিকে স্মারকলিপি দিয়েছে হেফাজতে ইসলাম। স্মারকলিপিতে স্বাক্ষর করেছেন হেফাজত ইসলামের আমির শাহ আহমদ শফী ও নায়েবে আমির নূর হোসাইন কাসেমী।

আজ মঙ্গলবার সকালে ইসলামী সংগঠনটির একটি প্রতিনিধি দল সুপ্রিম কোর্টে গিয়ে স্মারকলিপিটি দিয়ে আসে। তা গ্রহণ করেন সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের একান্ত সচিব আতিকুস সামাদ।

এ ব্যাপারে সচিব সামাদ বলেন, “৭-৮ জনের একটি প্রতিনিধি দল এসেছিল স্মারকলিপি দিতে। মাজার গেইট থেকে এ স্মারকলিপি আমি গ্রহণ করেছি। ”

এর আগেও এ ধরনের দু-একটি সংগঠন একই দাবিতে স্মারকলিপি দিয়েছে বলে জানান তিনি।

গত বছরের ডিসেম্বরে সুপ্রিম কোর্টের মূল ভবনের সামনে রোমান যুগের ন‌্যায়বিচারের প্রতীক ‘লেডি জাস্টিস’র আদলে একটি ভাস্কর্য ‘লিলি ফোয়ারা’য়  স্থাপন করা হয়। ভাস্কর্যটিতে চোখ বাঁধা এক নারীর ডান হাতে তলোয়ার, বাম হাতে দাঁড়িপাল্লা। তলোয়ারটি নিচের দিকে নামানো আর দাঁড়িপাল্লাটি পরিমাপ করছে এমন ভঙ্গীতে ধরা। এটি নির্মাণ করছেন ভাস্কর মৃণাল হক।

এদিকে এই ভাস্কর্যকে ‘অনৈসলামিক’ দাবি করে স্মারকলিপিতে হেফাজতে ইসলাম বলেছে, “স্বাধীনতার পর থেকেই ব্রাহ্মণ্যবাদের আজ্ঞাবাহী এক শ্রেণির পেইড ও প্রপাগান্ডিস্ট মিডিয়া ও ইসলামবিদ্বেষী সেকুলার অপশক্তি এদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ বৃহত্তর তৌহিদি জনতার ধর্মীয় মূল্যবোধ ও ঈমান-আক্বিদার বিরুদ্ধে নানা ধরনের সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক পন্থায় অপতৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। তারা রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বাতিল, পাঠ্যপুস্তক থেকে বাদ দেওয়া নাস্তিক্যবাদী ও হিন্দুত্ববাদী প্রবন্ধ-নিবন্ধ সংযোজনের দাবিও করছে। সুতরাং আমরা মনে করি, সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে গ্রিক দেবীর মূর্তি স্থাপনও সেই ধারাবাহিকতারই একটি অংশ। ”

ভাস্কর্য স্থাপন সংবিধানের ২ (ক), ১২ ও ২৩ অনুচ্ছেদের পরিপন্থি বলেও দাবি করেছে হেফাজত।


মন্তব্য