kalerkantho


এমও ইউ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে নৌমন্ত্রী

'বিএসসিকে লাভজনক করতে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার'

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ১৭:৫৮



'বিএসসিকে লাভজনক করতে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার'

নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান বলেছেন, বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন (বিএসসি)কে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে সরকার ৩৬টি নতুন জাহাজ সংগ্রহ করাসহ বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। তিনি আরো বলেন, বর্তমানে বিএসসি’র মাত্র ৩টি জাহাজ রয়েছে।

এই প্রতিষ্ঠানকে গতিশীল ও লাভজনক করতে ৩৬টি জাহাজ যুক্ত করা হবে এবং ২০১৮ সালের মধ্যে চীনে তৈরি করা ৬টি জাহাজ বিএসসির বহরে যুক্ত করা হবে। এজন্য পায়রা সমুদ্র বন্দরকে যুগোপযোগী করে গড়ে তোলা হচ্ছে। আজ মঙ্গলবার নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সভা কক্ষে বিএসসি’র জন্য দুটি এল এন জি ক্যারিয়ার ভেসেল সংগ্রহ সংক্রান্ত এক নন-বাইন্ডিং সমঝোতা স্মারক (এমও ইউ) স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে তিনি এসব তথ্য জানান।

এমও ইউ'তে স্বাক্ষর করেন বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমডোর এম হাবিবুর রহমান ভূঁইয়া এবং চাইনিজ ইন্সটিটিউিট অব মেরিন এন্ড অফসোর ইঞ্জিনিয়ারিং এইচ বি কোম্পানি লিমিটেডের জেনারেল ম্যানেজার ইয়ান জুন। এ সময় অন্যান্যর মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব জিকরুর রেজা খানম, যুগ্ম প্রধান মো: এনায়েত হোসেন।

বিএসসি'র বহরে যে দুটি লিক্যুয়িড ন্যাচারাল গ্যাস (এল এন জি) ক্যারিয়ার ভেসেল যুক্ত হবে এর প্রতিটি ক্যারিয়ার ভেসেলের ধারণ ক্ষমতা ৪০ হাজার কিউবিক মিটার। চট্টগ্রামের মহেশখালি দ্বীপে পেট্রোবাংলা স্থাপিতব্য দেশের প্রথম এলএনজি ইমপোর্ট টার্মিনালে এলএনজি সরবরাহে এসব ক্যারিয়ার ব্যবহার করা হবে। এল এন জি ক্যারিয়ার ভেসেল দুটির কাজ মূল চুক্তি সম্পাদনের ১৮ মাসের মধ্যে সম্পন্ন হবে বলে জানিয়েছেন নৌমন্ত্রী।

তিনি আরো জানান, বিএসসি’র জন্য প্রতিটি ১,০০,০০০ থেকে ১,২৫,০০০ মেট্রিক টন ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন দুটি মাদার ট্যাংকার নির্মাণের জন্য চীনের একটি কম্পানির সাথে গত এপ্রিলে বিএসসি এমওইউ স্বাক্ষর করেছে।

মাদার ট্যাংকার দুটি পাওয়া গেলে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) কর্তৃক বিদেশ হতে আমদানিকৃত ক্রুড অয়েল (অপরিশোধিত তেল) চট্টগ্রাম বহিঃনোঙ্গর পর্যন্ত পরিবহণ করা যাবে।  

জাহাজ দুটি ক্রয় করা হলে বিদেশি জাহাজের উপর নির্ভরশীলতা হ্রাস পাওয়ার পাশাপাশি দেশে বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় হবে বলেও উল্লেখ করেন মন্ত্রী।  

শাজাহান খান বলেন, ক্রুড অয়েলের মতো একটি সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ পণ্য পরিবহনে অধিকতর নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে। এ ছাড়াও জাহাজ ভাড়ায় দীর্ঘ সময়ের জন্য স্থিতিশীলতা বজায় থাকাসহ আর্ন্তজাতিক যে কোন প্রতিকূল পরিস্থিতিতে আলোচ্য জাহাজের মাধ্যমে তৈল পরিবহন নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। মেরিন একাডেমী হতে উত্তীর্ণ ক্যাডেটদের যথাযথ প্রশিক্ষণসহ শিপিং সেক্টরে নতুন নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং স্বপ্নের ‘ব্লু-ইকোনমির’ সুফল অর্জনে দেশ এক ধাপ এগিয়ে যাবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি আরো বলেন, বিএসসি চীন থেকে ১৬টি জাহাজ সংগ্রহ করার লক্ষ্যে চীনের একটি কম্পানির সাথেও গত সেপ্টেম্বরে একটি এমওইউ স্বাক্ষর করেছে। এগুলোর মধ্যে ছয়টি মাদার বাল্ক ক্যারিয়ার এবং ১০টি লাইটার বাল্ক ক্যারিয়ার। কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্লান্টে কয়লা পরিবহনের ক্ষেত্রে এসব বাল্ক ক্যারিয়ার ব্যবহৃত হবে। নির্মাণ চুক্তির দুই বছরের মধ্যে এগুলো দেশে এসে পৌঁছাবে। মাদার বাল্ক ক্যারিয়ার প্রতিটি ৮০ হাজার ডেড ওয়েট টন (ডিডাব্লিউটি) এবং লাইটার বাল্ক ক্যারিয়ার প্রতিটি ৮-১০ হাজার ডিডাব্লিউটি সম্পন্ন হবে। চায়না হারবার ইঞ্জিনিয়ারিং কম্পানি লিমিটেড (সিএইচইসি) কর্তৃক চীনা ব্যাংক হতে কমার্শিয়াল লোন বা অন্য কোন ঋণ সহায়তার অধীনে বিএসসি ১৬টি জাহাজ সংগ্রহ করবে।

নৌমন্ত্রী সাংবাদিকদের আরো জানান, বিএসসি’র জন্য বড় ধরনের ছয়টি জাহাজ সংগ্রহের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। ছয়টি নতুন জাহাজ চীন থেকে ২০১৮ সালের মাঝামাঝি দেশে আসবে। এগুলোর মধ্যে তিনটি বাল্ক ক্যারিয়ার এবং তিনটি অয়েল ট্যাংকার। প্রতিটি জাহাজের পণ্য ধারণক্ষমতা ৩৯ হাজার টন। জাহাজগুলো সংগ্রহে ব্যয় হবে প্রায় ১,৮৪৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে চীনের এক্সিম ব্যাংক দিবে ১,৪৪৮ কোটি টাকা, অবশিষ্ট ৩৯৫ কোটি টাকা দিবে বিএসসি। অয়েল ট্যাংকার দিয়ে বিপিসি পরিশোধিত আমদানিকৃত তেল পরিবহন করবে। বাল্ক ক্যারিয়ারে খোলা পণ্য, সারসহ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য কয়লা পরিবহন করা হবে। ছয়টি জাহাজ যুক্ত হলে বিএসসির আর্থিক অবস্থা চাঙ্গা হবে, বিএসসি আগের মতো ঘুরে দাঁড়াবে।

উল্লেখ্য, ১৯৭২ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু সরকারের সময়ে বিএসসির যাত্রা শুরু হয়। কর্পোরেশন প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ যাবত সর্বমোট ৩৮টি জাহাজ সংগ্রহ করা হয়েছে। বর্তমান বিএসসি’র বহরে ৩টি জাহাজ রয়েছে। এর মধ্যে একটি কন্টেইনার এবং দুটি লাইটার ট্যাংকার। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর বিএসসিকে নতুন জাহাজ সংগ্রহ করে লাভবান প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার জন্য নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেন।


মন্তব্য