kalerkantho


৬৫ বছর পর ভাষা শহীদ সালামের কবর চিহ্নিত

আসাদুজ্জামান দারা, ফেনী    

১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ১০:৫৭



৬৫ বছর পর ভাষা শহীদ সালামের কবর চিহ্নিত

ভাষা আন্দোলনের ৬৫ বছর পর চিহ্নিত হয়েছে ভাষা শহীদ আব্দুস সালামের কবর। গতকাল সোমবার দুপুরে রাজধানীর আজিমপুর পুরনো কবরস্থানে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের অঞ্চল ৩ এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম আনসারুজ্জামান, অঞ্চল ৩ এর সহকারী সমাজকল্যাণ কর্মকর্তা মোহাম্মদ রোকনুজ্জামান, কবরস্থানের জ্যেষ্ঠ মোহরার মিজানুর রহমান ‌এবং দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান এবং সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে শনাক্ত করা হয় ভাষা শহীদ সালামের কবর।

পারিবারিক সূত্র এবং এই বিষয়টি নিয়ে কাজ করা সাংবাদিক জানান, এর আগে আজিমপুর কবরস্থানে আব্দুস সালামকে সমাহিত করার দালিলিক প্রমাণ ঢাকা দক্ষিণ সিটি মেয়র সাঈদ খোকনের কাছে জমা দেওয়া হয়। সালামের ছোট ভাই আব্দুল করিম ও ভাতিজা মকবুল আহমেদ এ প্রমাণপত্র জমা দেন। আব্দুস সালাম ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় গুলিবিদ্ধ হ‌ওয়ার পর ভাতিজা মকবুল আহমদ ছাত্র-জনতার সহায়তায় তাঁকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে ওই বছরের ৭ এপ্রিল সালামের মৃত্যু হয়।

পরদিন ৮ এপ্রিল সালামের মরদেহ আজিমপুর পুরাতন কবরস্থানে সমাহিত করা হয়। ওই সময় সালামের সঙ্গে ছিলেন তাঁর ভাতিজা মকবুল। দীর্ঘ সময় ধরে ভাইয়ের কবর চিহ্নিত করার চেষ্টা করছিলেন ছোট ভাই করিম। সম্প্রতি ঢাকায় সালামের ছোট ভাই করিম ও ভাতিজা মকবুল সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূরের কাছে গেলে তিনি এ ব্যাপারে সহায়তার আশ্বাস দেন। তিনি মুঠোফোনে মেয়র সাঈদ খোকনকেও এ ব্যাপারে উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।

এরপর করিম ও মকবুল মেয়রের সঙ্গে দেখা করে কিছু দালিলিক প্রমাণ তাঁকে হস্তান্তর করেন। সকল বিষয় অবহিত হয়ে মেয়র এ ব্যাপারে কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন বলে জানান ছোট ভাই করিম।

সালামের ভাতিজা মকবুল এবং এই বিষয়টি নিয়ে কাজ করা সাংবাদিক জানান, শহীদ সালামকে সমাহিত করা হয়েছিল আজিমপুর পুরাতন কবরস্থানের ওজুখানার উত্তর-পূর্ব পাশের তিন নম্বর সারিতে। ওই স্থানে সেসময় একটি বড় আমগাছ ছিল বলেও জানান প্রত্যক্ষদর্শী মকবুল। বিষয়টির সত্যতা স্বীকার করেন কবরস্থানের জ্যেষ্ঠ মোহরার মিজানুর রহমান। তিনি ১৯৮০ সাল থেকে ওই কবরস্থানের দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি জানান, ওই স্থানে একটি বড় আমগাছ ছিল যা ১৯৯০ সালে কেটে ফেলা হয়। মিজানুর রহমানের বক্তব্যে নিশ্চিত হওয়ার পর দক্ষিণ সিটি করপোরেশেনের কর্মকর্তারা সালামের কবরটি বুঝে নিয়ে সেখানে অস্থায়ীভাবে বাঁশের খুঁটি দিয়ে সাইনবোর্ড টাঙিয়ে দেন। এরপর উপস্থিত সবাই মিলে কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

এছাড়া সালামের ছোট ভাই করিম বলেন, "বেশ কয়েক বছর ধরে আমার ভাইয়ের কবরটি চিহ্নিত করতে স্থানীয় সাংবাদিকসহ অনেকের কাছে বহু নিবেদন করেছি। এ নিয়ে সাংবাদিকরা অনেক রিপোর্টও প্রকাশ করেছেন। " তিনি বলেন, "সালামের কবর চিহ্নিত হওয়ায় আমার আর কোনো দুঃখ নেই। " তিনি এরসঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান।

 


মন্তব্য