kalerkantho


ইউনূস, টিআইবি ও বুদ্ধিজীবীদের ক্ষমা চাইতে হবে: আওয়ামী লীগ

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ২০:১৫



ইউনূস, টিআইবি ও বুদ্ধিজীবীদের ক্ষমা চাইতে হবে: আওয়ামী লীগ

নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও টিআইবিসহ যেসব ব্যক্তি পদ্মা সেতুতে 'দুর্নীতির ষড়যন্ত্রের' অভিযোগ নিয়ে বিশ্বব্যাংকের পক্ষে কথা বলেছেন- তাদের সবাইকে জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়েছে আওয়ামী লীগ। দলটি বলেছে, পদ্মা সেতু প্রকল্পে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়ন বন্ধে ড. মুহাম্মদ ইউনূস, টিআইবি ও বাংলাদেশের কিছু বুদ্ধিজীবী ষড়যন্ত্র করেছিলেন। বিশ্বব্যাংকের পক্ষে সাফাই গেয়ে তারাও বলেছিলেন, 'এই প্রকল্পে দুর্নীতির ষড়যন্ত্র হয়েছে'। অথচ কানাডার আদালতে তা মিথ্যা প্রমাণ হয়েছে। তাই এদের সবাইকে এখন জাতির কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে।  

আজ সোমবার দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনার ধানমণ্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ এসব কথা বলেন। কানাডার আদালতে পদ্মা সেতু প্রকল্প নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণ হওয়ায় দলের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানাতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

হাছান মাহমুদ বলেন, 'ড. ইউনূস পদ্মা সেতুতে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়ন বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের একজন শীর্ষ ব্যক্তিকে ই-মেইল পাঠিয়েছিলেন। সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে তা প্রকাশ পেয়েছে। আর টিআইবিসহ কিছু বুদ্ধিজীবী ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব দুর্নীতি প্রমাণ হওয়ার আগেই দুর্নীতি হয়েছে দাবি করে তা প্রমাণে ব্যস্ত ছিলেন। তাদের এ তৎপরতার কারণে পদ্মা সেতুতে বিশ্ব ব্যাংক অর্থায়ন বন্ধ করেছে।

তবে কানাডার আদালতের রায়ে বাংলাদেশ কলঙ্কমুক্ত হয়েছে। '

তিনি বলেন, 'মিথ্যা অভিযোগ এনে অর্থায়ন বন্ধ করায় পদ্মাসেতুর কাজ দুই বছর পিছিয়েছে। বাংলাদেশ আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বহির্বিশ্বে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নু হয়েছে। এর মাধ্যমে তারা রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেছেন। তাই এদের সবাইকে আইন ও বিচারের আওতায় আনা উচিত। এটা সরকারের দায়িত্ব। সরকার এটা ভেবে দেখতে পারে। '

সরকার তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেবে কি-না এমন প্রশ্নের জবাবে হাছান মাহমুদ বলেন, 'এটি সরকার জানে। '

এই রায়ের পর বিএনপির অবস্থান প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের এই কেন্দ্রীয় নেতা বলেন, 'দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) যখন বলেছিল, এতে কোনো দুর্নীতি হয়নি, তখনও বিএনপি বলেছিল, সরকারের প্রভাবে দুদক এ সিদ্ধান্ত দিয়েছে। কানাডার আদালতের রায়ের পরও তারা একই মনোভাব প্রকাশ করেছে। বাংলাদেশের কোনো আদালত এ রায় দিলে বিএনপিসহ অন্যরা বলতো, সরকারের প্রভাবে আদালত এ রায় দিয়েছে। এর অর্থ তারা দেশ-বিদেশের কোনো আদালতই মানে না। এরা আসলে গ্রাম্য মোড়লদের মত। মোড়লরা যেমন বিচারে হেরে গেলে বলেন, যা বলেছি তো বলেছি, বিএনপির কথাও সেই রকমই। নিজেদের বিবেচনার বাইরে তারা যেতে পারে না। '

সংবাদ সম্মেলনে দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন হাবিবুর রহমান সিরাজ, আবদুস সোবহান গোলাপ, ফরিদুন্নাহার লাইলী, সুজিত রায় নন্দী, আবদুস ছাত্তার, আবদুস সবুর, হারুনুর রশীদ, আমিনুল ইসলাম ইসলাম আমিন, বিপ্লব বড়ূয়া, এস এম কামাল হোসেন, আমিরুল ইসলাম মিলন, মারুফা আক্তার পপি।  


মন্তব্য