kalerkantho


বাংলাদেশ স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়নে সহযোগিতা করবে ডেনমার্ক

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



বাংলাদেশ স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়নে সহযোগিতা করবে ডেনমার্ক

আজ সচিবালয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের সাথে সাক্ষাৎ করতে এসে এ আগ্রহের কথা জানান বাংলাদেশে নিযুক্ত ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত মিকাইল হেমনিটি উইনথার। বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতের সাম্প্রতিক অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করে রাষ্ট্রদূত মিকাইল হেমনিটি উইনথার বলেন, এদেশের স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়নে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগ নিয়ে এগিয়ে আসতে চায় ডেনমার্ক। তিনি বাংলাদেশের গ্রাম পর্যায়ে কমিউনিটি ক্লিনিক কার্যক্রমের প্রশংসা করে এদেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি, দারিদ্র বিমোচন, নারীর ক্ষমতায়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রের অর্জনেও সন্তোষ প্রকাশ করেন।

ডেনমার্ককে বাংলাদেশের বন্ধুপ্রতিম রাষ্ট্র হিসাবে অভিহিত করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম আগামীতে বাংলাদেশের জনগণের স্বাস্থ্যমান উন্নয়নে ভূমিকা রাখার জন্য ডেনমার্কের প্রতি আহ্বান জানান। মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গত আট বছরে বাংলাদেশ আর্থ সামাজিক উন্নয়নে দৃষ্টান্তমূলক অগ্রগতি অর্জন করেছে। তারই নেতৃত্বে বাংলাদেশ নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হয়েছে। নারীর ক্ষমতায়নে তৃতীয় বিশ্বের দেশে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী চ্যাম্পিয়নের ভূমিকা পালন করেছেন। আজ সচিবালয়ে কমিউনিটি ক্লিনিকের অগ্রগতি পর্যালোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম কমিউনিটি ক্লিনিকের কার্যক্রমকে আরো গতিশীল ও দক্ষ করার জন্য আহ্বান জানান।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম আরো বলেন, এমডিজি ৪ ও ৫ অর্জনে বাংলাদেশের সাফল্যের নেপথ্যে কমিউনিটি ক্লিনিকের অবদান ব্যাপক। বিশেষ করে গ্রামের মা ও শিশু স্বাস্থ্য উন্নয়নে এই ক্লিনিকগুলো যথেষ্ট ভূমিকা পালন করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। মন্ত্রী বলেন, কমিউনিটি ক্লিনিকের স্বপ্নদ্রষ্টা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডারদের সমস্যা সমাধানে আন্তরিক।

সরকার সিএইচসিপিদের ইন্টারনেট সমৃদ্ধ ল্যাপটপ প্রদান করেছে যাতে গ্রামের স্বাস্থ্য তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে সংরক্ষিত করার সুযোগ হয়। পর্যালোচনা সভায় জানানো হয়, সারাদেশে গ্রাম পর্যায়ে ১৩ হাজার ৩৬৯টি ক্লিনিকের মাধ্যমে এ পর্যন্ত প্রায় ৫৮ কোটি ভিজিটর সেবা লাভ করেছেন যাদের মধ্যে ৮০ শতাংশই নারী ও শিশু। প্রতিদিন প্রায় ৩৮ জন একটি ক্লিনিক থেকে সেবা নিচ্ছেন। এসব ক্লিনিকে আসা প্রায় ৯৫ লক্ষ রোগীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিভিন্ন হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম আজ সচিবালয়ে স্বাস্থ্যখাতের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে মেডিকেল কলেজ, বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মাণসহ স্বাস্থ্যখাতের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প নির্ধারিত মেয়াদের মধ্যে সম্পূর্ণ করার নির্দেশ দিয়েছেন।
মন্ত্রী বলেন, সরকারের অর্থ ও সময় অপচয় বন্ধ করতে নির্দিষ্ট মেয়াদের মধ্যে নির্মাণ কাজসহ যেকোনো উন্নয়নের কাজ শেষ করতে হবে।

তিনি বলেন, দেশের উন্নয়নের স্বার্থে অপচয় রোধ করতে হলে নির্ধারিত সময়ের অতিরিক্ত সময় প্রার্থনা করার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। এ সময় স্বাস্থ্য সচিব মোঃ সিরাজুল ইসলাম, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদসহ মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ঊর্দ্ধতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।


মন্তব্য