kalerkantho


সংসদে প্রশ্নোত্তরে শিক্ষা মন্ত্রী

জঙ্গি সংশ্লিষ্ট ও মাদকসেবী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ১৯:০৯



জঙ্গি সংশ্লিষ্ট ও মাদকসেবী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে

জঙ্গি-সন্ত্রাসের সঙ্গে সম্পৃক্ত ও মাদক সেবনকারী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে শান্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে একটি সুস্পষ্ট নির্দেশনা জারি করা হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এতথ্য জানান।

সরকার দলীয় সংসদ সদস্য এম আবদুল লতিফের প্রশ্নের লিখিত জবাবে মন্ত্রী আরো জানান, শিক্ষা মন্ত্রণালয়াধীন সকল সরকারি-বেসরকারি স্কুল, কলেজ মাদ্রাসায় ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে মাদক ও তামাকের অপব্যহার রোধে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে কমিটি গঠনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। বিগত ২০১৫ সালের ১৮ নভেম্বর মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর হতে প্রতিষ্ঠানসমূহকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। দেশে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মাদকাসক্ত শিক্ষার্থীদের বিষয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে মনিটরিং করার জন্য বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে।
শিক্ষা মন্ত্রী বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০১০ এর ধারা ৯(৫) তুলে ধরে জানান, কোন শিক্ষার্থী শৃঙ্খলা বিরোধী কর্মকান্ডে লিপ্ত হলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আইনানুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে থাকে। আর যে কোন ধরণের অপকর্ম তথা জঙ্গি-সন্ত্রাসী কর্মকান্ড, ইয়াবা তথা মাদক সেবন কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে সচেতনামূলক কার্যক্রমে গ্রহণের লক্ষ্যে সকল বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে মনিটরিং সেল গঠন করা হয়েছে। এছাড়া ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন ২০১৫ এবং বিধিমালা ২০১৫ অনুযায়ী ‘পাবলিক প্লেস’র আইনী ধারায় মাদক সেবনকারী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে শান্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
আওয়ামী লীগের সদস্য ইসরাফিল আলমের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী জানান, জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ‘শিক্ষা আইন’-এর খসড়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। খসড়াটি নীতিগত অনুমোদনের জন্য শীঘ্রই মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানো হবে।
একই দলের ফজিলাতুন নেসা বাপ্পির প্রশ্নোত্তরে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের দ্বিতীয় মেয়াদে ১২ জানুয়ারি ২০১৪ তারিখ হতে এ পর্যন্ত ১৩টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং ২১টি কলেজ সরকারিকরণ করা হয়েছে।


জাতীয় পার্টির বেগম মাহজাবিন খালেদের প্রশ্নোত্তরে নূরুল ইসলাম নাহিদ জানান, সারাদেশে এ পর্যন্ত ২৩ হাজার ৩৩১টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপন করা হয়েছে।
সরকারী দলের মোয়াজ্জেম হোসেন রতনের লিখিত প্রশ্নের জানান শিক্ষা মন্ত্রী জানান, দেশের প্রায় ৫ হাজার ৫৭৪ টি বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রয়োজনীয় ভৌত অবকাঠামো নেই। শিক্ষার সুষ্ঠ পরিবেশ নিশ্চিত করতে ঐ সকল বিদ্যালয়গুলিতে পর্যায়ক্রমে ভবন নির্মাণের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়াধীন শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর প্রকল্প প্রণয়নের কাজ চলছে।

প্রাথমিকে ৪৫ হাজার পদ শূন্য ॥ সরকারি দলের বেগম লায়লা আরজুমান বানুর প্রশ্নের জবাবে প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান জানিয়েছেন, সারাদেশে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৪৫ হাজার ৩টি শিক্ষকের পদ শুন্য রয়েছে। এরমধ্যে প্রধান শিক্ষকের শূন্যপদ ১৭ হাজার ৬১৫টি। আর সহকারি শিক্ষকের শূণ্যপদ ২৭ হাজার ৩৮৮টি। তিনি আরো জানান, ২০১৬ সালের পহেলা জানুয়ারি পর্যন্ত প্রথম ধাপে ১৪ হাজার ৭১ জন, দ্বিতীয় ধাপে ৬ হাজার ৯৯২ জন এবং তৃতীয় ধাপে ১৪ হাজার ৩৭৪ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়। এছাড়া প্রাক-প্রাথমিকে তিন ধাপে ৩৫ হাজার ৪৩৭জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আর প্রাক-প্রাথমিকের ৩ হাজার ৪৪০ টি পদে শুধুমাত্র মুক্তিযোদ্ধা কোটায় নিয়োগের জন্য লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে তাদের নিয়োগ কাজ সম্পন্ন হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেছেন।

 


মন্তব্য