kalerkantho


রোহিঙ্গাদের ঠেঙ্গারচরে পাঠালে মানবাধিকার লঙ্ঘন হবে : এইচআরডাব্লিউ

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ১৩:২৩



রোহিঙ্গাদের ঠেঙ্গারচরে পাঠালে মানবাধিকার লঙ্ঘন হবে : এইচআরডাব্লিউ

রোহিঙ্গা শরণার্থীদের পুনর্বাসনের বিষয়ে এক বিবৃতি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডাব্লিউ)। সেখানে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ঠেঙ্গারচরে পাঠানোর পরিকল্পনা অবিলম্বে বাতিলের জন্য বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে তারা।

গতকাল বুধবার সংগঠনটির ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ওই বিবৃতিতে জানানো হয়, ঠেঙ্গারচর বসবাসের অনুপযোগী। রোহিঙ্গা শরণার্থীদেরকে কক্সবাজার থেকে ঠেঙ্গারচরে পাঠানোর মানে মুক্তভাবে চলাফেরা, জীবনমান, খাদ্য ও শিক্ষার অধিকার থেকে তাদেরকে বঞ্চিত করা। রোহিঙ্গাদের সেখানে স্থানান্তর করা হলে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের আওতায় বাংলাদেশের যে বাধ্যবাধকতা রয়েছে তার লঙ্ঘন হবে বলেও সতর্ক করেছে এইচআরডাব্লিউ।

রোহিঙ্গাদের স্থানান্তর বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের প্রসঙ্গ তুলে হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এশিয়া অঞ্চলবিষয়ক পরিচালক ব্র্যাড অ্যাডামস বলেন, রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ঠেঙ্গারচরে স্থানান্তর করা নিয়ে সরকার হাস্যকর কথা বলছে। দ্বীপটিতে একেবারেই সুযোগ-সুবিধা নেই এবং বর্ষা মৌসুমে তা পানিতে নিমজ্জিত থাকে। সেখানে রোহিঙ্গাদের স্থানান্তরের মধ্য দিয়ে তাদের জীবন মানের উন্নয়ন হবে বলে দাবি করা হচ্ছে। এ প্রস্তাবটি নিষ্ঠুর এবং এটি বাতিল করা উচিত।

১৯৯০ এর দশক থেকে মিয়ানমারে নিপীড়নের শিকার হয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সংখ্যা ৩ থেকে ৫ লাখ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে বেশির ভাগই নিবন্ধিত নন।

গত বছরের অক্টোবর থেকেই প্রায় ৬৯ হাজার রোহিঙ্গা রাখাইন রাজ্যে নিপীড়নের শিকার হয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছেন।

নোয়াখালী জেলা সদর থেকে প্রায় ৮০ কিলোমিটার, উপকূলীয় উপজেলা সুবর্ণচর উপজেলা থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার, হাতিয়া উপজেলা থেকে ২৫ কিলোমিটার এবং দ্বীপ উপজেলার পশ্চিম উপকূল হতে ৫ কিলোমিটার দূরে মেঘনা নদী ও বঙ্গোপসাগরের মোহনায় অবস্থিত ঠেঙ্গারচর প্রায়ই প্লাবিত হয় জোয়ারভাটায়। এই ঠেঙ্গারচরের দৈর্ঘ্য ৮ কিলোমিটার ও প্রস্থ ৪.৫ কিলোমিটার (প্রায় ১০ হাজার একর)।

জনশূন্য এই দ্বীপে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ার প্রথম প্রস্তাব উঠেছিল ২০১৫ সালে। কিন্তু মানবাধিকারকর্মীদের সমালোচনার মুখে পদক্ষেপটি তখন বাস্তবায়ন হয়নি। সম্প্রতি পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম ঘোষণা করেছেন, মানবিক কারণে দেশে ফেরার প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত কক্সবাজারে অবস্থানরত ও নিবন্ধিত মিয়ানমারের নাগরিকদের নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার ঠেঙ্গারচরে সাময়িকভাবে আশ্রয় দেওয়ার কথা ভাবছে সরকার।

 


মন্তব্য