kalerkantho


সংসদে সাধারণ আলোচনায় সংসদ সদস্যরা

বিএনপি-জামায়াতের রাজনীতি হচ্ছে দুর্নীতি, লুটপাট ও অগ্নিসন্ত্রাস

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ২২:২৭



বিএনপি-জামায়াতের রাজনীতি হচ্ছে দুর্নীতি, লুটপাট ও অগ্নিসন্ত্রাস

রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে সংসদ সদস্যরা বলেছেন, বিএনপি-জামায়াত জোট দেশের মানুষের রাজনীতি করে না, তাদের রাজনীতিই হচ্ছে লুটপাট, দুর্নীতি, অগ্নিসন্ত্রাস করে শত শত মানুষকে হত্যা আর জঙ্গিবাদ সৃষ্টি। এরা লাশ ফেলতে আর মানুষের রক্ত চুষে খেতেই ভালবাসেন।

দেশের জনগণ এদের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে।
আজ বুধবার জাতীয় সংসদে এই আলোচনায় সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট মো. ফজলে রাব্বি মিয়া। এই আলোচনায় অংশ নেন সমাজ কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ, সরকারি দলের আ ক ম বাহাউদ্দীন, সাইমুন সরওয়ার কমল, ফরিদুল হক খান, অ্যাডভোকেট নাভানা আক্তার, বেগম ওয়াসিকা আয়শা খান, কামরুন নাহার চৌধুরী, অ্যাডভোকেট শামসুন্নাহার বেগম, স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ডা. রুস্তম আলী ফরাজী, স্বপন ভট্টাচার্য ও জাতীয় পার্টির মুহাম্মদ আলতাফ আলী।  
প্রতিমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ বলেন, ধর্মকে ব্যবহার করে একটি অশুভ মহল দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। ধর্মান্ধরা জনগণকে বিভ্রান্ত করে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চায়। কিন্তু সচেতন দেশের জনগণ তাদের সেই ষড়যন্ত্র কোনদিনই বাস্তবায়িত হতে দেবে না। এসব মোনাফেকদের ব্যাপারে সচেতন হতে হবে। সকল সংসদ সদস্যকে একযোগে মাঠে নেমে এসব ধর্মান্ধদের বিরুদ্ধে গণঐক্য গড়ে তুলতে হবে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর চৌকষ নেতৃত্বে মাত্র অল্প সময়ের মধ্যে বাংলাদেশকে নিয়ে গেছেন এক অন্যরকম উচ্চতায়। আধুনিক ও উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মান করেছেন। সারাবিশ্বের কাছে বাংলাদেশকে উন্নয়নের রোল মডেলে পরিণত করেছেন।  
বিএনপি-জামায়াত জোটের কঠোর সমালোচনা করে নাভানা আক্তার বলেন, রক্তপিপাসু খালেদা জিয়া লাশ ফেলতে আর রক্ত চুষতে ভালবাসেন। তাঁর জন্ম বাংলাদেশে নয়, ভারতের জলপাইগুড়িতে। যার এ দেশে জন্ম না, তিনি এ দেশকে কীভাবে ভালবাসবে। তারেক জিয়াকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার করলেও বিএনপি বলতে মানি না। আসলে এরা দেশের মানুষের জন্য রাজনীতি করে না, ক্ষমতায় থেকে লুটপাট, দুর্নীতি, অর্থপাচার, হত্যা, জঙ্গিবাদ সৃষ্টির জন্য রাজনীতি করে। দেশের জনগণ এসব অগ্নিসন্ত্রাসী দলকে প্রত্যাখ্যান করেছে।  
জাতীয় পার্টির মুহাম্মদ আলতাফ আলী বলেন, বিগত সময়ের মতো বিরোধী দল হিসাবে সংসদ বর্জন, অশ্লিল ভাষার ব্যবহার, ফাইল ছুঁড়াছুঁড়ি, ডেপুটি স্পীকারকে হামলা করে হত্যার রাজনীতি জাতীয় পার্টি করে না। আমরা সরকারের ভাল কাজের প্রশংসা করি, মন্দ কাজের সমালোচনা করি। শেখ হাসিনা পারেন না এমন কিছু নেই। তিনি নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু করছেন, সমুদ্রসীমা জয় করেছেন, স্থল সীমানা চূক্তি করতে সক্ষম হয়েছেন। দেশকে সবদিক থেকে এগিয়ে নিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছেন।  
স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ডা. রুস্তম আলী ফরাজী বলেন, সামাজিক-অর্থনীতিসহ সব সূচকে বাংলাদেশ আজ সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। আমাদের ছোট একটি দেশ অথচ ১৬ কোটি মানুষের বসবাস। বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দার মধ্যেও কীভাবে এ দেশটি প্রতিবছর প্রবৃদ্ধি ধরে রাখে? এটি এখন বিশ্বের বড় বড় দেশের নেতারাও বিস্ময় নিয়ে প্রশ্ন করেন। তারা এটাকে মিরাকল ও ম্যাজিক মনে করেন। বাস্তবে এটাই হচ্ছে শেখ হাসিনার ম্যাজিক। তিনি দেশ পরিচালনার নেতৃত্বে রয়েছেন বলেই দেশের এতো অর্জন সম্ভব হয়েছে।  
বেগম ওয়াসিকা আয়শা খান বলেন, সরকারের উন্নয়ন ও গতির চাকাকে স্তব্ধ করে দিতে নানা ষড়যন্ত্র চলছে। বিএনপি-জামায়াতের অগ্নিসন্ত্রাসে শত শত মানুষকে জীবন দিতে হয়েছে। দেশের জনগণ এসব অগ্নিসন্ত্রাসীদের ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছে।  
সাইমুন সরওয়ার কমল বলেন, বিএনপি-জামায়াত জোটের রক্তের হোলিখেলা মোকাবেলা করে শেখ হাসিনা দেশকে উন্নয়ন-অগ্রগতির মিছিলে সামিল করেছেন। বাংলাদেশের সবচেয়ে ক্ষতি করে গেছে তিন ব্যক্তি। একজন মুসলীম লীগের খাজা নাজিম উদ্দিন, দ্বিতীয় খুনী মোশতাক আর তৃতীয় ব্যক্তি হচ্ছেন জেনারেল জিয়াউর রহমান। এই বেঈমানদের প্রায়শ্চিত্ত করে যেতে হয়েছে।  
আ ক ম বাহাউদ্দীন শুধু মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের কোটা রেখে চাকুরিতে প্রবেশের জন্য বাকি সব কোটা বাতিল করার দাবি জানান।  


মন্তব্য