kalerkantho


নতুন ইসি নিয়ে সুশীল সমাজ আশাবাদী

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ২৩:০৪



নতুন ইসি নিয়ে সুশীল সমাজ আশাবাদী

সুশীল সমাজের কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তি পুনর্গঠিত নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সদ্য নিয়োগকৃত প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এবং চারজন কমিশনারের যোগ্যতার ওপর আস্থা প্রকাশ করেছেন।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং অপর চারজন কমিশনার সংবিধানের আলোকে এবং যে কোন ধরনের ভয়-ভীতির ঊর্ধে উঠে তাদের দায়িত্ব পালন করবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তারা।

 
ঢাকা বিশ্বদ্যিালয়ের (ঢাবি) উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক সদ্য গঠিত নির্বাচন কমিশন সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে, এমন একটি নির্বাচন অনুষ্ঠানে সক্ষম হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন।  
নির্বাচন কমিশনার পদে নিয়োগপ্রাপ্তদের সকলেই সর্বোচ্চ আন্তরিকতা, সততা ও দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করতে সক্ষম হবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, আমার বিশ্বাস তারা তাদের অভিজ্ঞতা ও কমিটমেন্টের আলোকে কাজ করে কমিশনকে এগিয়ে নিয়ে যাবেন।  
অধ্যাপক সিদ্দিক বলেন, ইসির কর্মকাণ্ড যথাযথভাবে পরিচালনায় রাজনৈতিক দলগুলোকেও নির্বাচন কমিশনকে সহযোগিতা করতে হবে।  
তিনি বলেন, মাঠে উভয় পক্ষের খেলোয়াড় থাকলে ভালো হয়, গোল নির্ধারণে রেফারির জন্য সহজ হয়। ঠিক তেমনি, নির্বাচন পরিচালনায় রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচন কমিশনকে সহযোগিতা করলে সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন পরিচালনা করা তাদের পক্ষে সম্ভব হবে।  
প্রধান তথ্য কমিশনার (সিআইসি) অধ্যাপক গোলাম রহমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের অনুরূপ মন্তব্য করে বলেন, নিয়োগ পাওয়া প্রত্যেক নির্বাচন কমিশনারের নিজ নিজ ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অবদান রয়েছে। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন গঠনের প্রক্রিয়া খুবই স্বচ্ছ এবং নিরপেক্ষ হয়েছে। কমিশনে দক্ষ এবং সৎ ব্যক্তিদের নিয়োগ দেয়া হয়েছে। তিনি দৃঢ় আশা প্রকাশ করে সদ্য গঠিত নির্বাচন কমিশন পরবর্তী সাধারণ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে সক্ষম হবে বলে আশা প্রকাশ করেন।
সাবেক নির্বাচন কমিশনার ছহুল হোসেন বলেন, নতুন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং নির্বাচন কমিশনারদের সম্পর্কে এটি হবে আগাম মন্তব্য। তবে তিনি বলেন, তারা দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে তাদের আন্তরিকতা ও দক্ষতার পরিচয় দেবেন। তারা নিরপেক্ষ থেকে এবং ভয়ভীতির উর্ধ্বে উঠেই তাদের দায়িত্ব পালন করবেন বলে আমরা আশা করছি।
জাতীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষণ কাউন্সিলের (জানিপপ) চেয়ারম্যান ড. নাজমূল আহসান কলিমুল্লাহ নতুন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং কমিশনারদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, তারা তাদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে সক্ষম হবে বলে তিনি আশাবাদী।  
তিনি নির্ধারিত দশ কার্যদিবসের মধ্যে যথাযথভাবে দায়িত্ব সম্পন্ন করায় সার্চ কমিটিকে ধন্যবাদ জানান। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সুশীল সমাজের সুপারিশ ইসি পুনর্গঠনে প্রতিফলন ঘটেছে বলেও তিনি মনে করেন। দেশের নির্বাচন কমিশনে এই প্রথমবারের মতো একজন মহিলা নিয়োগ দেয়ায় তিনি স্বাগত জানান। একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে একটি টিম হিসেবে তারা একসঙ্গে কাজ করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।  
রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ গতকাল সাবেক সচিব কেএম নুরুল হুদাকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং একজন সাবেক দায়রা জজ, দু’জন সাবেক আমলা ও একজন অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তাকে নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ দেন।  
চারজন নির্বাচন কমিশনার হলেন, মো. রফিকুল ইসলাম, সাবেক অতিরিক্ত সচিব মাহবুব তালুকদার, অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ বেগম কবিতা খানম এবং ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাহাদত হোসেন চৌধুরী।


মন্তব্য