kalerkantho


সংসদ অধিবেশনে হুইপ আতিকের ক্ষোভ

'অদৃশ্য শক্তির ইশারায় প্রশাসন নীরব ভূমিকা পালন করছে'

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ২২:১৮



'অদৃশ্য শক্তির ইশারায় প্রশাসন নীরব ভূমিকা পালন করছে'

অদৃশ্য শক্তির ইশারায় প্রশাসন নীরব ভূমিকা পালন করছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের হুইপ আতিউর রহমান আতিক। তিনি দাবি করেন, প্রশাসনের ছত্রছায়ায় তার নিজ নির্বাচনী এলাকা শেরপুরে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হয়েছে। তাকে সমর্থন জানিয়ে সারা দেশে একই পরিস্থিতি  উল্লেখ করে এ বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি করেছেন বিরোধী দল জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ।

আজ মঙ্গলবার স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে শুরু হওয়া সংসদ অধিবেশনে পয়েন্ট অব অর্ডারে বক্তব্যের সুযোগ নিয়ে হুইপ আতিউর রহমান আতিক বলেন, কিছুদিন আগে সারা দেশের মতো শেরপুরেও জেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে আমাদের দলের বিদ্রোহী প্রার্থী হুমায়ন কবির রোমান পাশ করেছেন। পাশ করার পর শেরপুরে একটা অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।  

হুইপ আতিক বলেন, অদৃশ্য শক্তির ইশারায় সেখানে প্রশাসন নীরব ভূমিকা পালন করছে। আর প্রশাসনের ছত্রছায়ায় শেরপুর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষকে হুমকি দেওয়া হয়েছে। এমনকি সিভিল সার্জনের টেবিলে অস্ত্র রেখে একটা অবৈধ কাগজে সই করানো হয়েছে।  

তিনি আরো বলেন, সেকান্দার আলী কলেজের অধ্যক্ষকে হুমকি দেওয়া হয়েছে। আরেক কলেজের অধ্যক্ষকে ধরে তার কাছ থেকে ছিনতাই করে চাবি নিয়ে তার পরিবর্তে অন্য আরেকজনকে অধ্যক্ষের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

 

স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে আতিউর রহমান আতিক বলেন, আমার এলাকার একজন চেয়ারম্যানকে প্রকাশ্য দিবালোকে নির্মমভাবে নির্যাতন করা হয়েছে। এটি গণমাধ্যমেও এসেছে। আমার কলেজ বীর মুক্তিযোদ্ধা আতিউর রহমান কলেজের অধ্যক্ষ সুজনকে গত ৩১ জানুয়ারি নির্মমভাবে পিটিয়েছে। সে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে। এজন্য সড়ক অবরোধ হয়েছে। গত সোমবার সারা শেরপুরে মানববন্ধন হয়েছে। কিন্তু প্রশাসনের হাত থেকে কোন রকম সহায়তা পাচ্ছি না।  

তিনি আরো বলেন, জেলা প্রশাসনের ছত্রছাত্রায় অদৃশ্য শক্তির ইশারায় শেরপুরটাকে অশান্ত করে তুলছে। তাই আমার শেরপুর মানুষের দাবি সন্ত্রাসী যেই হোক অবিলম্বে তার বিচার করতে হবে। সন্ত্রাসীর কোন দল নাই। প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন সন্ত্রসীর কোন দল নেই। তাই সন্ত্রাসী যেই হোক তাকে আইনের আওতায় এনে উপযুক্ত শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।  

তার বক্তব্যের সঙ্গে একমত প্রকাশ করে জাতীয় পার্টির কাজী ফিরোজ রশিদ বলেন, ঘরের সব কথা বাইরে বলতে নেই। আমরা একদমই এটা এড়াতে পারি না। যারা সন্ত্রাসী করেছে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। এখন রাজনীতি ক্ষেত্রে চরম অস্থিরতা চলছে। সারাদেশে একই অবস্থা।  

এরপর জাতীয় পাটির আরেক এমপি ফখরুল ইমাম বলেন, সংসদের হুইপ যদি এই কথা বলেন তাহলে আমাদের অবস্থা অত্যন্ত করুন। উনার এলাকায় ডিজ অর্ডার হয়েছে, উনি সংসদে এনেছেন। এটা যদি হয় তাহলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে ৩০০ বিধিতে বিবৃতি দিতে হবে। তা না হলে ধরে নেব সরকার ব্যর্থ।


মন্তব্য