kalerkantho


'প্রতিকূলতা মোকাবেলা করে সরকার দেশকে সমৃদ্ধির দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে'

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ২২:০৩



'প্রতিকূলতা মোকাবেলা করে সরকার দেশকে সমৃদ্ধির দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে'

রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে সরকারি দলের সদস্যরা বলেছেন, সরকার দৃঢ়তার সাথে সন্ত্রাস-জঙ্গি ও নৈরাজ্যসহ সকল প্রতিকূলতা মোকাবেলা করে দেশকে উন্নত-সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নেয়ার ক্ষেত্রে বিশ্বে অনন্য উদাহরণ স্থাপন করেছে।  
তারা বলেন, শেখ হাসিনার নেতৃতাধীন বাংলাদেশ আজ বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল।

অল্প সময়ের মধ্যে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, শিল্প, বিনিয়োগসহ অন্যান্য খাতে যে সাফল্য অর্জিত হয়েছে তা বিশ্বের অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশের কাছে অনুকরণীয় বলে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। আর এ জন্যই তিনি আজ বিশ্ব নেতায় পরিণত হয়েছেন।  
গত ২৪ জানুয়ারি চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজ রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাব উত্থাপন করলে হুইপ মাহাবুব আরা বেগম গিনি তা সমর্থন করেন।
গত ২২ জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদের চতুর্দশ অধিবেশন শুরুর দিন সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ সংসদে ভাষণ দেন।
রাষ্ট্রপতির ভাষণে আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর আজ ১০ম দিনে পরিবেশ ও বন উপমন্ত্রী আবদুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব, সরকারি দলের তানভীর ইমাম, মাহফুজুর রহমান, আবদুল মালেক, আলী আজম, মৃনাল কান্তি দাস, বেগম নিলুফার জাফর উল্লাহ, বেগম পিনু খান, বেগম হোসনে আরা লুৎফা ডালিয়া, ইউনুস আলী সরকার, দিলারা বেগম, জাতীয় পার্টির বেগম খোরশেদ আরা হক ও বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি- বিজেপি’র মো. রুহুল আমিন আলোচনায় অংশ নেন।
আলোচনায় অংশ নিয়ে পরিবেশ ও বন উপমন্ত্রী আবদুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব বলেন, বর্তমান সরকার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশের পরিবেশ রক্ষায় বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। শিল্প কারখানার পরিবেশ দুষণরোধে ১ হাজার ৪১৫টি ইটিপি স্থাপন করা হয়েছে। ৪ হাজার ২২১টি আধুনিক প্রযুক্তির ইটভাটা স্থাপন করা হয়েছে। বুড়িগঙ্গাসহ ঢাকার চারপাশের নদীগুলো পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।  
তিনি বলেন, সরাদেশে নিষিদ্ধ ঘোষিত পলিথিন উৎপাদন বন্ধ করতে ব্যাপক অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। দেশের পরিবেশ উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘের পরিবেশ বিষয়ক সর্বোচ্চ পুরস্কার ‘চ্যাম্পিয়ন অব দ্য আর্থ’ অর্জন করেছেন।  
তানভীর ইমাম বলেন, দেশপ্রেম, দূরদর্শিতা, একনিষ্ঠতা ও সাহসী পদক্ষেপে দেশ বিদ্যুৎ-জ্বালানী, ভৌত অবকাঠামোসহ দেশের প্রতিটি ক্ষেত্রে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। ১০ টাকায় হতদরিদ্র মানুষের মাঝে চাল বিতরণ প্রধানমন্ত্রীর একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। তাঁর নেতৃত্বে দেশের স্বাস্থ্য খাত আজ সমৃদ্ধ। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে এখন স্বাস্থ্য সেবা পৌঁছে গেছে।  
তিনি বলেন, যেভাবে নির্বাচন কমিশন গঠিত হয়েছে তা দেশের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে মাইল ফলক হয়ে থাকবে।  
সরকারি দলের সদস্য মাহফুজুর রহমান রাষ্ট্রপতির ভাষণকে সরকারের উন্নয়নের বাস্তব দলিল উল্লেখ করে সাগরের বুকে জেগে উঠা চরে মিয়ানমারের নাগরিকদের পুনর্বাসন না করার আহবান জানান।
সরকারি দলের অন্য সদস্যরা বলেন, বর্তমান সরকার গত ৮ বছরে দেশে ৩ হাজার মেগাওয়াট থেকে ১৬ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করেছে। এর ফলে আজ ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে গেছে। মাথা পিছু আয় ৪শ’ ডলার থেকে ১ হাজার ৫শ’ ডলারে উন্নীত হয়েছে। কৃষিতে প্রযুক্তির ছোঁয়া এবং সেচ, সারসহ অন্যান্য সহায়ক উপকরণ কৃষকের কাছে সহজলভ্য করার ফলে আজ খাদ্য উৎপাদন ২ কোটি থেকে ৪ কোটি টনে উন্নীত হয়েছে। সাথে সাথে শিক্ষা ক্ষেত্রেও বৈপ্লবিক পরিবর্তন এসেছে। প্রাথমিক থেকে উচ্চ শিক্ষায় মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করার সব উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।  
তারা বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের উন্নয়নের স্থপতি। তাঁর নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। দেশের অর্থনীতির চাকাকে সচল রাখতে সরকার সফলভাবে বিভিন্ন কর্মকান্ড বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে।  
তারা সরকার সম্পর্কে বিএনপির বক্তব্যকে অসত্য উল্লেখ এসব বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেন। সাথে সাথে ২০১৪ সালে আগুন সন্ত্রাসের মাধ্যমে মানুষ হত্যার কথা উল্লেখ করে বলেন, জনগণ এসব কারণে তাদেরকে প্রত্যাখ্যান করেছে বলে ভয়ে সেদিন তারা নির্বাচনে যায়নি।  
তারা বিএনপি আমলের দুর্নীতি, দুঃশাসন, অপকর্ম, জাতীয় সম্পদের লুটপাটের বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান। তারা বলেন, বিএনপি এখন আর প্রথাভিত্তিক রাজনৈতিক দল নয়।


মন্তব্য