kalerkantho


গাইবান্ধার এসপিকে প্রত্যাহারে নির্দেশ

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ১৬:২৭



গাইবান্ধার এসপিকে প্রত্যাহারে নির্দেশ

ফাইল ফটো

গাইবান্ধায় সাঁওতাল পল্লীতে আগুন দেওয়ার সময় দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের তালিকা দাখিল না করায় জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) মো. আশরাফুল ইসলামকে অবিলম্বে প্রত্যাহারে নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।
বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথ সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের একটি ডিভিশন বেঞ্চ আজ এ আদেশ দেয়।

একইসঙ্গে গোবিন্দগঞ্জের চানগাড়ি এলাকায় গত ৬ নভেম্বর যেসব পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করেছিলেন তাদেরও প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
আদেশে বলা হয়, আগুন দেয়ার ঘটনায় কারা জড়িত তা তদন্তের জন্য গাইবান্ধার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটকে নির্দেশ দেয়া হয়েছিল। এরপর জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আগুন দেয়ার ঘটনায় জড়িত পুলিশ সদস্যদের তালিকা চেয়েছিল। কিন্তু জেলার এসপি তালিকা না দিয়ে হাইকোর্টের আদেশ অমান্য করেছেন। এ জন্য তাকে অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে স্বরাষ্ট্র সচিব ও পুলিশের আইজিপিকে নির্দেশ দেয়া হলো।
বিষয়টি নিয়ে আনা রিটের পক্ষে আইনজীবী এ এম আমিন উদ্দিন ও রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি এটর্নি জেনারেল মোতাহের হোসেন সাজু শুনানি করেন।
আদালত আরো বলেন, কয়েকজন পুলিশ সদস্যর জন্য পুরো বাহিনী দায়ী হতে পারে না। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে জনগণের আস্থা অর্জন করতে হবে।
এ মামলার পরবর্তী আদেশের জন্য আগামী ৯ মার্চ ধার্য করা হয়েছে। এর আগে গত ৩০ জানুয়ারি গোবিন্দগঞ্জে সাঁওতাল পল্লীতে আগুন দেয়ার ঘটনায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু সদস্য জড়িত মর্মে হাইকোর্টে প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। ৬৫ পৃষ্ঠার ওই প্রতিবেদন দাখিল করেন গাইবান্ধার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. শহিদুল্লাহ
প্রতিবেদনে বলা হয়, সাওতালদের বাড়ি-ঘরে আগুন লাগানোর ঘটনার জন্য স্থানীয় কতিপয় ব্যক্তি এবং ওই ঘটনার সময়ে দায়িত্বরত আইন-শৃঙ্খরা রক্ষাকারী বাহিনীর কতিপয় সদস্য দায়ী।
গত ৬ নভেম্বর আখ কাটা কেন্দ্র করে রংপুর চিনিকল কর্মকর্তা-কর্মচারি ও পুলিশের সঙ্গে সাঁওতালদের দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। এত পুলিশসহ উভয় পক্ষের কমপক্ষে ২০ জন আহত হন। এদের মধ্যে চারজন সাঁওতাল মারা যান। এ সময় চিনিকলের জায়গায় গড়ে তোলা সাঁওতালদের ঘরবাড়ি লুটপাট করার পর তাতে আগুন লাগানো হয়।


মন্তব্য