kalerkantho


সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে অর্থমন্ত্রী

'সংস্কারের ইতিবাচক প্রভাব পূঁজিবাজারে লক্ষ্য করা যাচ্ছে'

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ২০:১৭



'সংস্কারের ইতিবাচক প্রভাব পূঁজিবাজারে লক্ষ্য করা যাচ্ছে'

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত জানিয়েছেন, সরকারের পক্ষ থেকে পূঁজিবাজার সংস্কারের ব্যাপক উদ্যোগ নেওয়া হয়। ইতোমধ্যে সেই সংস্কারের ইতিবাচক প্রভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আগামীতে আরো ভালো ফলাফল পাওয়া যাবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তিনি। আজ সোমবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এ তথ্য জানান।  

স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে শুরু হওয়া সংসদ অধিবেশনে সম্পূরক প্রশ্নের সুযোগ নিয়ে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য স্বপন ভট্টাচার্য জানতে চান, দেশের অধিকাংশ মাল্টিন্যাশনাল কম্পানিগুলো ব্যবসার মাধ্যমে অর্জিত অর্থ দেশের পূঁজিবাজারে বিনিয়োগ না করে বিদেশে পাচার করে নিয়ে যাচ্ছে। অথচ বিশ্বের অন্যান্য দেশে তারা পূঁজিবাজারে বিনিয়োগ করছে। এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কোন পদক্ষেপ নেওয়া হবে কিনা? জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, অর্থ পাচারের যে সকল কাহিনী শোনা যায়, তা সবটা ঠিক না। অনেক ক্ষেত্রে রং-চং লাগানো হয়। বর্তমান সরকার অর্থ পাচার বন্ধে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। একইসঙ্গে পূঁজিবার সংস্কারে ব্যাপক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। যার ইতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে।

আগামীতে আরো পড়বে।  

তিনি আরো বলেন, অনেকেই এখন পূঁজিবাজারের প্রতি আগ্রহী হচ্ছে। মাল্টিন্যাশনাল কম্পানিগুলোও পর্যায়ক্রমে পূঁজিবাজারে বিনিয়োগ করবে।

আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য মো. সোহরাব উদ্দিনের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, বিনিয়োগ কমেনি, বিনিয়োগ হচ্ছে। বিশেষ করে বিগত বছরের তুলনায় এবার বিনিয়োগ বেড়েছে। বিনিয়োগ কমেছে এমন তথ্য ভুল।  

তিনি আরও বলেন, আমাদের দেশে অভ্যন্তরীণ বিনিয়োগ কমে গেছে। আগে বিনিয়োগকারীদের ইনসেনটিভ দেওয়া হতো, সেসব সুযোগ বর্তমানে বন্ধ আছে।  

সংরক্ষিত আসনের সদস্য জাহান আরা বেগম সুরমার লিখিত প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী সংসদকে জানান, বাংলাদেশ ব্যাংকের চুরি হওয়া রিজার্ভের অবশিষ্ট টাকা উদ্ধারে বাংলাদেশ ব্যাংক, এফআরবি নিউ ইয়র্ক এবং সুইফট এর মধ্যে ত্রিপক্ষীয় আলোচনা চলমান রয়েছে। এ বিষয়ে ফিলিপাইনে আইনি প্রক্রিয়া চলামান রয়েছে। সরকার বিষয়টিতে সতর্ক রয়েছে।  

চুরি যাওয়া সব টাকা ফেরত আনতে সরকার দৃঢ় প্রতিজ্ঞ বলেও অপর এক সম্পুরক প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী জানান, ব্যাংকে অলস টাকা পড়ে আছে, বিষয়টি সঠিক নয়। ২০১৬-২০১৭ অর্থ বছরের জন্য ঘোষিত মুদ্রানীতির প্রথম ষান্মাষিক অন্তে বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ (ঋণ) এর গতিধারা কাঙ্খিত পর্যায়ে রয়েছে। বিগত ডিসেম্বর ২০০৯ সালে ব্যাংকিং খাতে মোট বিনিয়োগের পরিমাণ ছিল প্রায় ২ লাখ ৪৬ হাজার ৫০৯ কোটি টাকা, যা গত ৩১ ডিসেম্বরে প্রায় ৬ লাখ ৮৬ হাজার ৪৮০ কোটি টাকা দাড়িয়েছে। অর্থ্যাৎ ৭ বছরে প্রবৃদ্ধি প্রায় ১৭৮ শতাংশ।

সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য বেগম নাসিমা ফেরদৌসীর প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৬৩ হাজার ৪৩৫ কোটি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের সিআইবি ডাটাবেজ রক্ষিত ঋণ তথ্যের হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে (নভেম্বর-২০১৬) ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঋণ খেলাপি ব্যক্তি বা কম্পানির সংখ্যা ২ লাখ ১৩ হাজার ৫৩২ জন।

সরকার দলীয় সংসদ সদস্য এ কে এম রহমতুল্লাহর অপর প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, দারিদ্র বিমোচনে মিলেনিয়াম চ্যালেঞ্জ একাউন্ট (এমসিএ) হতে অর্থ পাওয়ার জন্য মিলেনিয়াম চ্যালেঞ্জ করপোরেশন (এমসিসি) কর্তৃপক্ষ নির্ধারিত সুশাসন, অর্থনৈতিক স্বাধীনতা এবং জনগণের জীবনমানের বিনিয়োগ- এই তিনটি বড় সেক্টরে ২০টি সূচক/ মানদণ্ড অর্জন করতে হয়।  

তিনি আরও জানান, বাংলাদেশ সবগুলো সূচক অর্জন না করার কারণে এমসিএ হতে এখনও পর্যন্ত কোন অর্থ সহায়তা পাওয়া যায়নি। এমসিসি কর্তৃপক্ষের মতে দুর্নীতি দমন সূচকে উত্তীর্ণ হওয়া অর্থ-সহায়তা প্রাপ্তির অন্যতম প্রধান শর্ত।

বিরোধী দল জাতীয় পার্টির সেলিম উদ্দিনের আরেক প্রশ্নের জবাবে মুহিত জানান, চলতি ২০১৬-১৭ অর্থবছরে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে ১৯৫টি বিনিয়োগ এবং ১৫০টি কারিগরি প্রকল্পসহ মোট ৩৪৫টি বৈদেশিক সাহায্যপুষ্ট প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। এসব প্রকল্পে চলতি অর্থ-বছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে বিদেশি প্রকল্প সাহায্যের পরিমাণ ৪০ হাজার কোটি টাকা। চলমান এ প্রকল্প সমূহে বিভিন্ন দাতা সংস্থা/ দেশ সমূহ কর্তৃক মোট প্রতিশ্রুতিকৃত অর্থের পরিমাণ ৩১ হাজার ৮৬০ দশমিক ৪৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, সুদের হার নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয় না। কিছু কিছু ক্ষেত্রে যেমন কৃষি ঋণ, ভুট্টাসহ কয়েকটি পণ্যে ৪ শতাংশ হার সুদে ঋণ দেওয়া হয়। আর গবাদি পশু পালনে ৫ শতাংশ হার সুদে ঋণ দেওয়া হয়। বাকী ঋণের সুদের হার ব্যাংক ঠিক করে।


মন্তব্য