kalerkantho


পূর্বশত্রুতার জেরে শিশুপুত্রকে খুন

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ১৬:২১



পূর্বশত্রুতার জেরে শিশুপুত্রকে খুন

বাবাকে ভয় দেখাতে শিশুপুত্র রেজোয়ান ইসলাম বিভোরকে (১২) ছুরিকাঘাত করে খুন করেছে প্রতিবেশী আল আমিন। পূর্বশত্রুতার জেরে এ ঘটনা ঘটে বলে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে জানায় সে। গত ৩০ জানুয়ারি বিকেলে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানার গোলাপবাগে নিজ বাসার সামনে খুন হয় বিভোর।  

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশ জানায়, খেলার সময় হঠাৎ করে প্রতিবেশী যুবক আল আমিন বিভোরের পেটে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। বিভোরকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তা মৃত ঘোষণা করেন। বিভোর নারিন্দা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র ছিল। এ ঘটনার দিনই বিভোরের বাবা নজরুল ইসলাম বাদী হয়ে আল আমিন, তার ছোট ভাই আরমিন ও বাবা আবদুল মান্নান মুন্সির বিরুদ্ধে যাত্রাবাড়ী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। এরপরে ওই দিন রাতেই জয়পুরহাটে পালিয়ে যাওয়ার সময় টাঙ্গাইলে বঙ্গবন্ধু সেতুর চেকপোস্ট থেকে আল আমিনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে ১ ফেব্রুয়ারি হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দেয় আল আমিন।

জবানবন্দির বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, কয়েক বছর আগে বিভোরের বাবা নজরুল ইসলাম আল আমিনের বাবা মান্নান মুন্সির কাছ থেকে জায়গা কিনে বাড়ি করেন। জায়গার দাম কম দিয়েছে উল্লেখ করে নজরুলের কাছে আরো ৮ লাখ টাকা দাবি করেন মান্নান।

সেই টাকা না দেওয়ায় দুই পরিবারের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলছিল। নজরুলের পরিবারের ওপর ক্ষোভ থেকেই আল আমিন এ হত্যাকাণ্ড ঘটায়।

পুলিশ আরও জানায়, দীর্ঘদিনের এই বিরোধের কারণে নজরুলকে শিক্ষা দিতে তার ছেলে বিভোরকে ছুরিকাঘাত করে আল আমিন।  

এ ব্যাপারে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা যাত্রাবাড়ী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) কে এম আজিজুল হক বলেন, বাড়ির জায়গা নিয়ে পূর্ব শত্রুতার জেরে শিশু বিভোরকে খুন করা হয়েছে বলে আল আমিন আদালতে জবানবন্দিতে জানিয়েছে। হত্যায় ব্যবহৃত চাকুটি তার কাছেই থাকত।

আল আমিন মাদকাসক্ত ছিলো এবং তার বিরুদ্ধে এর আগে মারামারিসহ থানায় তিনটি মামলা ছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, ঘটনার পর প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনা শুনে আমরা নিশ্চিত হই আল আমিনই খুন করেছেন। পরে তার বিরুদ্ধে অন্য মামলার ডকুমেন্টস থেকে তার ছবি পেয়ে সম্ভাব্য সব জায়গায় দিই। ঘটনার ১২ ঘণ্টার মধ্যেই আল আমিনকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। জবানবন্দি রেকর্ড শেষে আদালত আল আমিনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।

থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছেম মামলার অন্য দুই আসামির মধ্যে আল আমিনের ছোট ভাই আরমিনকে দুই দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে এসআই আজিজুল বলেন, আরমিন জিজ্ঞাসাবাদে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে। তবে, সেসব যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।  

মামলার অন্য আসামি মান্নান মুন্সিকে গ্রেপ্তারে চেষ্টা চলছে বলেও জানান তিনি।


মন্তব্য