kalerkantho


সুরঞ্জিতের মরদেহ ল্যাব-এইডের হিমাগারে : কাল নিজ গ্রামে শেষকৃত্য

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ১৮:২২



সুরঞ্জিতের মরদেহ ল্যাব-এইডের হিমাগারে : কাল নিজ গ্রামে শেষকৃত্য

বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ, আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য এবং সংসদ সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের মরদেহ ল্যাব-এইড হাসপাতালের হিমাগারে রাখা হয়েছে।  
আগামীকাল বিকেল ৩ টায় সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার আনোয়ারাপুর নিজ গ্রামে তার শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে।  
এর আগে আগামীকাল সোমবার সকাল ৯ টায় রাজধানী ঢাকা থেকে তার মরদেহ সিলেটে নেয়া হবে। সকাল ১০ টায় সেখানে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হবে। বেলা ১১টায় মরদেহ যাবে সুনামগঞ্জ। এরপর সেখান থেকে মরদেহ তার নির্বাচনী এলাকা দিরাই ও শাল্লাতে নেওয়া হবে। সেখানে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তার শেষ ইচ্ছা অনুযায়ি দিরাইয়ে নিজ গ্রামে শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে।
আজ রোববার ভোরে ৪টা ২৯ মিনিটে তিনি রাজধানী ঢাকার ল্যাবএইড হাসপাতালে চিকিসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭২।  
সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের একান্ত সচিব কামরুল ইসলাম বাসসকে জানান, তিনি ক্যান্সারে ভুগছিলেন। হাসপাতালে তাকে লাইফসাপোর্টে রাখা হয়েছিল।

ভোর ৪ টা ২৯ মিনিটে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।  
আওয়ামী লীগের এ নেতার মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, স্পিকার ড. শিরিন শারমীন চৌধুরী, বিরোধী দলীয় নেতা রওশন এরশাদ এবং বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া শোক প্রকাশ করেছেন।
সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ছিলেন।
বর্নাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের অধিকারী সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত ১৯৭০ সালের নির্বাচনে প্রাদেশিক পরিষদে ছিলেন অন্যতম কনিষ্ঠ সদস্য। এরপর স্বাধীন দেশের প্রথম সংসদসহ চার দশকের প্রায় সব সংসদেই নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। ষাটের দশকের উত্তাল রাজনীতি থেকে উঠে আসা এই নেতা সর্বশেষ আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ছিলেন।
সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত ১৯৪৬ সালে সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার আনোয়ারাপুরে জন্ম গ্রহন করেন। তিনি দ্বিতীয়, তৃতীয়, পঞ্চম, সপ্তম, অষ্টম, নবম ও দশম জাতীয় সংসদসহ মোট সাতবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
তিনি ১৯৯৬ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ দ্বিতীয়বারের মতো ক্ষমতায় আসার পর তিনি রেলমন্ত্রী ছিলেন।
সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পাশ করেন। সেন্ট্রাল ল’ কলেজ থেকে এলএলবি করার পর আইন পেশায় যুক্ত হন।
আওয়ামী লীগের প্রবীণ এই নেতার মৃত্যুতে আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য এবং সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বি মিয়া, শিক্ষামন্ত্রী নূরুল ইসলাম নাহিদ, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ, বেসরকারি বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, তথ্যমন্ত্রী হাসনুল হক ইনু, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীর বিক্রম, পরিকল্পনা মন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল, শ্রম ও কর্শসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক, সিপিবি সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।  
এদিকে দুপুর ২টা ৫৫ মিনিটে বর্ষীয়ান এই নেতার মরদেহ জাতীয় সংসদ চত্বরে আনা হয়। সেখানে সংক্ষিপ্ত আনুষ্ঠানিকতা শেষে সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের জীবনী পাঠ করেন সংসদের ক্ষমতাসীন দলের চিফ হুইফ আসম ফিরোজ। এরপর পরিবারের পক্ষ থেকে তার বিষয়ে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন ছেলে সৌমেন সেনগুপ্ত। এরপর সুরঞ্জিত সেনগুপ্তকে গার্ড অব অনার দেয়া হয়।
গার্ড অব অনার শেষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রয়াত সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এরপর স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী, আওয়ামী লীগ সভাপতির নেতৃত্বে দলের নেতৃবৃন্দ, ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বি মিয়া, সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদের নেতৃত্বে জাতীয় পার্টিও নেতৃবৃন্দ এবং পরে ১৪ দলের নেতৃবৃন্দ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এরপর বিশেষ প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হয়। পরে বিভিন্ন সংগঠন ও সর্বস্তরের মানুষ প্রয়াত নেতার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
এর আগে বেলা ১২ টার দিকে বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদের মরদেহ শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির প্রাঙ্গণে নিয়ে আসা হয়। এ সময়ে সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের মরদেহে আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানায়।  
এ সময়ে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা, আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য আমির হোসেন আমু, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র সাইদ খোকন, প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা গওহর রিজভী, আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য মুকুল বোস, ঐক্য ন্যাপের আহ্বায়ক পংকজ ভট্টাচার্য, গণফোরামের কার্যকরী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এটিএম সামসুজ্জামান, সংসদ সদস্য হাজি মো. সেলিম, বিএমএ সভাপতি ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন প্রমুখ উপস্থিত থেকে তার মরদেহে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।  
এছাড়াও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিযার পক্ষ্য থেকে সুরঞ্জিত সেনের মরদেহে ফুল দিয়ে শেষ শ্রদ্ধা জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।  
এর আগে সকাল ৯ টার দিকে অ্যাম্বুলেন্সে করে সুরঞ্জিত সেন গুপ্তের মরদেহ তার জিগাতলার বাসভবনে নেয়া হয়। তার মৃত্যুর সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে অসংখ্য শোকার্ত মানুষ বাসভবনে ছুটে আসেন। এরপর সেখানে থেকেই দলীয় নেতাকর্মী, সংসদ সদস্যরা উপস্থিত হতে শুরু করেন।  
সুরঞ্জিত সেন গুপ্তের জিগাতলার বাসায় জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরিন শারমিন চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানি বিষয়ক উপদেষ্টা তৌফিক-ই এলাহী চৌধুরী, অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বি মিয়া, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবীর নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমেদ হোসেন ও খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজ, স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক পংকজ দেবনাথসহ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।  


মন্তব্য