kalerkantho


'প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ আজ উন্নয়নের মহাসড়কে'

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ১৯:২৮



'প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ আজ উন্নয়নের মহাসড়কে'

ফাইল ফটো

রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে সরকারি দলের সদস্যরা বলেছেন, বিশ্ব মন্দাসহ বিভিন্ন প্রতিকূলতা জয় করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ আজ উন্নয়নের মহাসড়কে।
তারা বলেন, দেশ যেভাবে এগুচ্ছে তাতে ’৪১ সালের আগেই সমৃদ্ধশালী উন্নত বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে।

 
গত ২৪ জানুয়ারি চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজ রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাব উত্থাপন করলে হুইপ মাহাবুব আরা বেগম গিনি তা সমর্থন করেন।
গত ২২ জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদের চতুর্দশ অধিবেশন শুরুর দিন সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ সংসদে ভাষণ দেন।
রাষ্ট্রপতির ভাষণে আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর আজ ৮ম দিনে সরকারি দলের সদস্য আব্দুল মান্নান, কামরুল আশরাফ খান, ওয়ারেসাত হোসেন বেলাল, আবুল কালাম ও ওয়ার্কার্স পার্টির টিপু সুলতান আলোচনায় অংশ নেন।
আলোচনায় অংশ নিয়ে সরকারি দলের আবদুল মান্নান বলেন, রাষ্ট্রপতি তাঁর ভাষণে বর্তমান সরকারের বিগত ৮ বছরের সামগ্রিক উন্নয়ন কর্মকান্ডের বস্তুনিষ্ঠ চিত্র তুলে ধরেছেন। ভাষণে তিনি জাতিকে জানান, দেশ যেভাবে এগুচ্ছে তাতে ’৪১ সালের আগেই সমৃদ্ধশালী উন্নত বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে।  
তিনি বলেন, বিশ্বব্যাংকসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান আজ বাংলাদেশের অগ্রগতি উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরছে। বাংলাদেশ বর্তমানে সম্ভাবনাময় বিশ্বের ৫টি দেশের তালিকায় রয়েছে। এর অর্থনীতি এখন বিশ্বে ৪৩তম এবং ক্রয় ক্ষমতার দিক থেকে ৩২তম অবস্থান অর্জন করেছে। প্রবৃদ্ধির হার গত ৮ বছরে ক্রমাগত ৬ ভাগের বেশী ধরে রাখা সম্ভব হয়েছে। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি ছিল ৭ দশমিক শূন্য ২ ভাগ। বর্তমান অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে ৭ দশমিক ৪৪ ভাগ। দেশের মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছে। মুদ্রাস্ফীতি এখন ৫ দশমিক শূন্যে নামিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। ২০০৯ সালে এ হার ছিল ডাবল ডিজিটে।  
তিনি বলেন, গত ৮ বছরে দেশে কৃষি, খাদ্য, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ অবকাঠামো, বিদ্যুৎ-জ্বালানি ও আইসিটিসহ সর্বক্ষেত্রে ব্যাপক সাফল্য অর্জিত হয়েছে। শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বের ফলে এটা সম্ভব হচ্ছে।  
তিনি বলেন, এক সময়ের খাদ্য ঘাটতির দেশ বাংলাদেশ বর্তমানে খাদ্য উদ্বৃত্তের দেশে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে দেশে ৪ কোটি মেট্রিক টন চাল উৎপাদন হচ্ছে। দেশ এখন খাদ্য রফতানি করছে। এছাড়া এখন বাংলাদেশ বিদেশী বন্ধু প্রতীম দেশের প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের সময়ও খাদ্য সহায়তা দিচ্ছে। এ প্রসঙ্গে তিনি ভূমিকম্পে বিপর্যস্ত নেপালকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ২০ হাজার মেট্রিক টন চাল সহায়তা প্রদানের কথা উল্লেখ করেন।
আবদুল মান্নান বলেন, শুধু চাল নয়, শাকসব্জি, ফলমূল, মাছ, মাংস, ডিম, দুধ উৎপাদনেও বাংলাদেশ স্বয়ংসম্পূর্ণতার অর্জনের পথে এগিয়ে যাচ্ছে।  
তিনি বলেন, ক্ষমতা গ্রহণের সময় ৩ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ নিয়ে যাত্রা করে বর্তমানে ১৫ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে। এ ধারা অব্যাহত থাকলে ঘোষিত ’২১ সালের আগেই ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পোঁছানো সম্ভব হবে।  
তিনি বলেন, বিগত ৮ বছরে যোগাযোগ অবকাঠামোসহ সার্বিক অবকাঠামোগত খাতে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। বিশেষ করে স্বপ্নের পদ্মা সেতু এখন আর স্বপ্ন নয়। নিজস্ব অর্থায়নে এ সেতু নির্মিত হচ্ছে। অথচ ড. ইউনুস তার বন্ধূ হিলারি ক্লিন্টনকে দিয়ে বিশ্ব ব্যাংকের পদ্মা সেতুতে অর্থায়ন বন্ধ করে দেয়। আর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সে চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে নিজস্ব অর্থায়নে এ সেতু নির্মাণ করছেন। তিনি সংসদে দেয়া প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যকে অসত্য বলে ইউনুস সেন্টারের দেয়া বক্তব্যকে ধৃষ্টতা বলে উল্লেখ করেন।  
আবদুল মান্নান বলেন, নির্বাচন কমিশন গঠনে রাষ্ট্রপতি সাংবিধান অনুযায়ি সার্চ কমিটি গঠন করেছেন। এর আগে তিনি দেশের সব রাজনৈতিক দলের সাথে আলোচনা করেছেন। অথচ বিএনপির তা পছন্দ হয়নি। তারা সংবাদ সম্মেলন করে বলেছেন সার্চ কমিটির সদস্যরা নাকি আওয়ামি পরিবারের লোক। তিনি এ প্রেক্ষিতে বলেন, ১৯৭১ সালে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে। বর্তমান সরকার আমলে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে তো মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসীরাই স্থান পাবে। মুক্তিযুদ্ধের চেতানার বিরোধীদের তো কোথাও স্থান দেয়া যায় না।  
তিনি বলেন, আসলে তারা আগামী নির্বাচনে নিশ্চিত ভরাডুবি হবে জেনে আগ থেকে বিভিন্ন অজুহাত দাঁড় করাচ্ছেন। আগামী নির্বাচনে বিএনপি যেভাবেই হোক অংশ নিবে। কারণ ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে অংশ না নেয়া যে বিএনপির ভুল ছিল, তা তারা এখন হাড়ে হাড়ে অনুধাবন করছেন। তিনি বলেন, আগামী নির্বাচনে তারা অংশ না নিলে দলটি বিলীন হয়ে যাবে।
সরকারি দলের ওয়ারেসাত হাসেন বেলাল বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর যারা দেশের ইতিহাস বিকৃত করেছিল, তারা ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ দেশের দায়িত্ব নেয়ার পর বর্তমানে দেশ মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় পরিচালিত হচ্ছে। শেখ হাসিনার দৃঢ় অবস্থানের ফলে বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের বিচারের রায় কার্যকর করে জাতিকে কলংকমুক্ত করা হয়েছে। তাছাড়া যুদ্ধাপরাধীদের বিচারও করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে শীর্ষ যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের রায় কার্যকর করা হয়েছে। এজন্য শেখ হাসিনা বাঙালির মনের মনি‡কাঠায় চির দিন অবস্থান করবেন।  


মন্তব্য