kalerkantho


টিআইবির গবেষণা প্রতিবেদন

'ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে প্রাধান্য পেয়েছে রাজনৈতিক পরিচয়'

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ২১:১৭



'ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে প্রাধান্য পেয়েছে রাজনৈতিক পরিচয়'

ঘূর্ণিঝড় পরবর্তী সময়ে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরি করেছেন জনপ্রতিনিধিদের স্বজন ও অনুসারীরা। ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে প্রাধান্য পেয়েছে রাজনৈতিক পরিচয়। টিআইবি কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দুর্যোগ মোকাবিলা সংক্রান্ত গবেষণা প্রতিবেদনে এসব কথা বলা হয়েছে।  

এতে আরো বলা হয়, আর এ কারণে ত্রাণ বঞ্চিত হয়েছে অনেক প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ। অনেক এলাকা পরিদর্শন না করেই ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করা হয়েছে। সরকারি তথ্যে বলা হলেও অনেক দুর্গতের কাছে ত্রাণ যায়নি।

আজ বুধবার ট্রান্সপারেন্সি বাংলাদেশের কার্যালয়ে ‘ঘূর্ণিঝড় রোয়ানু : দুর্যোগ মোকাবিলায় সুশাসনের চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক এ গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করে টিআইবি। প্রতিবেদন প্রস্তুত করেন টিআইবির মু. জাকির হোসেন খান, নিহার রঞ্জন রায়, মো. নেওয়াজুল মওলা ও নাহিদ শারমীন।

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ২১ মে ঘূর্ণিঝড় রোয়ানু উপকূলীয় ১৫টি জেলায় আঘাত করে। ওই ঘূর্ণিঝড়ে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বরগুনা, লক্ষ্মীপুর ও ভোলা জেলায় ক্ষতির পরিমাণ বেশি হয়। সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, লক্ষ্মীপুর, ভোলা ও বরগুনা জেলার ১০টি ইউনিয়ন থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।

গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই ১০টি ইউনিয়নে কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধ, পোল্ডার, আশ্রয়কেন্দ্র চিহ্নিত করায় ঘাটতি ছিল। ১০টি উপজেলাতেই ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস মোকবিলায় নিয়মিত প্রস্তুতি মহড়ার আয়োজন করা হয়নি। উপকূলীয় এলাকায় পাঁচ হাজার ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্রের চাহিদার বিপরীতে তিন হাজার ৭৫১টি আশ্রয়কেন্দ্র আছে।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, ছয়টি ইউনিয়নের অনেক আশ্রয়কেন্দ্র ব্যবহার উপযোগী ছিল না। কেননা নির্মাণের সময় অনিয়ম ঘটে।

গবেষণায় বলা হয়, ছয়টি ইউনিয়নের কোনো কোনো ওয়ার্ডে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের বাদ দিয়ে নির্বাচনে সমর্থন দেওয়া, অনুসারীদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এমনকি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের স্বজনদের দিয়ে তালিকা প্রণয়ন করা হয়েছে। সাতটি ইউনিয়নের কোনো কোনো ওয়ার্ডে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের উপকারভোগী হিসেবে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত না করে সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধিদের অনুসারী, যাঁরা প্রকৃতপক্ষে ক্ষতিগ্রস্ত নয়, তাদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, চট্টগ্রামের প্রায় ২০ হাজার সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত ঘর নির্মাণের জন্য এক হাজার ২০০ বান্ডিল  ঢেউটিন বরাদ্দের বিপরীতে ভোলাতে দেড় হাজার সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত ঘর নির্মাণের জন্য এক হাজার বান্ডিল ঢেউটিন বরাদ্দ দেওয়া হয়। এ ক্ষেত্রেও রাজনৈতিক বিবেচনায় বেশি বরাদ্দের অভিযোগ পাওয়া যায়।

সংবাদ সম্মেলনে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘ত্রাণ বরাদ্দ ও বিতরণের ক্ষেত্রে ক্ষতিগ্রস্তদের তুলনায় বেশি বা ক্ষতিগ্রস্তের ক্ষতির পরিমাণের তুলনায় যেটা প্রাধান্য পেয়েছে কোনো কোনো ক্ষেত্রে সেটা হচ্ছে রাজনৈতিক বিবেচনা। আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে ত্রাণের পণ্য ও তহবিল বাস্তবে কতটুকু বিতরণ করা হয়েছে তা নিরুপণ করার নির্ভরযোগ্য পদ্ধতি বা ব্যবস্থা ছিল না বা নেই। আর এর সুযোগে সেখানে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের একটা প্রবণতা দেখা গেছে। ’

সম্মেলনে গবেষকদের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন টিআইবির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারপারসন সুলতানা কামালও।


মন্তব্য