kalerkantho


ঢাকায় পৌঁছেছেন ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ১৮:০০



ঢাকায় পৌঁছেছেন ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট

তিন দিনের সফরে ঢাকায় পৌঁছেছেন মাহমুদ আব্বাস। ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট হিসেবে এটাই বাংলাদেশে তার প্রথম রাষ্ট্রীয় সফর।

আজ বুধবার বিকেলে ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে এসে পৌঁছালে তাকে স্বাগত জানান বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। বিমান থেকে নামার পরপরই দুটি শিশু ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্টকে ফুল দিয়ে অভ‌্যর্থনা জানান।  

এ সময় বিমানবন্দরের ভিভিআইপি টার্মিনালে ২১ বার তোপধ্বনি দিয়ে মাহমুদ আব্বাসকে স্বাগত জানানো হয়। একই সঙ্গে তিন বাহিনীর সুসজ্জিত একটি দল তাঁকে গার্ড অব অনার দেয়। গার্ড অব অনার শেষে তাঁকে লাইন অব প্রেজেন্টেশনের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ।

বিমানবন্দরে রাষ্ট্রপতি ছাড়াও অন্যান্যর মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম, পররাষ্ট্র সচিব শহিদুল হক, প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের মুখ্যসচিব কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী, আইজিপি একেএম শহীদুল হক, রাষ্ট্রপতি কার্যালয়ের সচিব সম্পদ বড়ুয়া এবং তিন বাহিনীর প্রধান।

এরপরে এয়ারপোর্ট থেকে মোটর শোভাযাত্রা করে ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্টকে লো মেরিডিয়ান হোটেলে নেওয়া হয়। সফরকালে সেখানেই থাকবেন তিনি।

মাহমুদ আব্বাসের সফর উপলক্ষে রাজধানী ঢাকার পাশাপাশি বিমানবন্দর এলাকাও বর্ণিল সাজে সাজানো হয়েছে।

টার্মিনালের উপরে এবং সামনে বাংলাদেশ ও ফিলিস্তিনের বিপুল সংখ্যক পতাকা রয়েছে সেই সাজে।

ভিভিআইপি টার্মিনালের দু’পাশে দুই রাষ্ট্র প্রধানের দুটি বড় ছবি স্থাপন করা হয়েছে এবং টার্মিনালের উপরে বড় করে লেখা ‘স্বাগতম হে মহামান্য অতিথি’। এর সঙ্গে স্বাগত বক্তব্যের ইংরেজি অনুবাদও রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এই সফরে ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠক করবেন। বৈঠকে দুই দেশ দ্বিপক্ষীয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হবে বলে আগেই জানিয়েছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী ।

দুই নেতার আলোচনায় কৃষি, জ্বালানি ও বিদ্যুতের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ তথ্য সহযোগিতার বিষয় থাকবে বলেও আভাস দিয়ে রেখেছেন মাহমুদ আলী।  

আরো জানা গেছে, আগামীকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাবেন মাহমুদ আব্বাস। পরে তিনি ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু জাদুঘরও ঘুরে দেখবেন। এরপরে বিকেলে প্রধানমন্ত্রী শেষ হাসিনার কার্যালয়ে তার সঙ্গে বৈঠক করবেন তিনি। পরে হোটেলে ফিরবেন ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট। সেখানে তার সঙ্গে সৌজন‌্য সাক্ষাৎ করবেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ।

এ ছাড়াও ওইদিন সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের সঙ্গে বৈঠক করবেন প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস। ফিলিস্তিনি নেতা তার সম্মানে বঙ্গভবনের নৈশভোজেও অংশ নেবেন।

এদিকে প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের এ সফরকে দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে ‘অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ’ মাইলফলক হিসেবে বিবেচনা করছেন ঢাকায় ফিলিস্তিনের মিশন প্রধান ইউসুফ এসওয়াই রামাদান।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের জনগণের হৃদয়ে আছে ফিলিস্তিন। প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের সফর দুই দেশের এই সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নেবে বলে তার বিশ্বাস।

ইউসুফ এসওয়াই  আরো বলেন, আমরা সেটা অনুভব করতে পারি। আমরা সত্যিই গর্বিত এমন মানুষের সমর্থন ও সম্পর্কের জন্য। আমরা এই সম্পর্ক আরও এগিয়ে নিতে চাই, রক্ষা করতে চাই, লালন করতে চাই।

ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্টের এই সফরের মধ‌্যে দিয়ে বিশ্ব একটি ‘স্পষ্ট বার্তা’ পাবে বলেও মনে করেন মিশন প্রধান।

তিনি আরো বলেন, “বাংলাদেশ-ফিলিস্তিনের এমন সম্পর্ককে কেউ বিপদের মুখে ঠেলে দিতে পারবে না, এটা স্পষ্ট একটি বার্তা। আমরা দুই পক্ষই এ সম্পর্ক বজায় রাখতে উদগ্রীব। ”

মিশন প্রধান ইউসুফ জানান, মাহমুদ আব্বাসের এই সফরে দ্বিপাক্ষীয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিষয়ে দুই দেশের সরকারের সমন্বয়ের ক্ষেত্রে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হবে। দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওই স্মারকে সই করবেন।

এছাড়া বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ফিলিস্তিনি কূটনীতিকদের জন্য ভিসামুক্ত যাতায়াতের সুযোগ দেওয়ার ঘোষণা আসতে পারে বলেও জানান তিনি।

ইউসুফ আরো জানান, দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের স্মারক হিসেবে অন্তত ১০০ সামরিক ও বেসামরিক শিক্ষার্থী বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন মেয়াদের বৃত্তি নিয়ে পড়ালেখা করছে।

অত্যন্ত হৃদ্যতাপূর্ণ পরিবেশে অনুসন্ধান কমিটির সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা হয়েছে উল্লেখ করে সমকালের সম্পাদক গোলাম সারওয়ার বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, এই সার্চ কমিটি নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করবে। আমি বলেছি, অসাম্প্রদায়িক ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সঙ্গে যাঁর সামান্যতম বিরোধ আছে, তাঁকে করা যাবে না। ’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা মনে করি, রাষ্ট্রপতি যোগ্য সার্চ কমিটি গঠন করেছেন। আমরা এও মনে করি, সার্চ কমিটি যে নামগুলো প্রস্তাব করবে, রাষ্ট্রপতি সেখান থেকেই পাঁচটি নাম চূড়ান্ত করবেন। রাষ্ট্রপতির প্রতি আমাদের আস্থা আছে। ’

উল্লেখ্য, প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের সঙ্গে রয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী রিয়াদ আল-মালিকি, প্রধান বিচারপতি মাহমুদ আল-হাব্বাস, প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র নাবিল আবু রুদিনেহ, কূটনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা মাজিদ আল খালিদিসহ সামরিক-বেসামরিক শীর্ষ কর্মকর্তারা।


মন্তব্য